Showing posts with label বরাক উপত্যকা. Show all posts
Showing posts with label বরাক উপত্যকা. Show all posts

কোরাসের উদ্যোগে ঝুমুর উৎসব

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,

অরূপ বৈশ্য 

(মুখবন্ধ ঃ বরাক উপত্যকাভিত্তিক ঝুমুর ও কাঠিনাচ প্রতিযোগিতা বিগত কয়েক বছর ধরে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন বাগানে অনুষ্ঠিত করে আসছে কোরাস সাংস্কৃতিক সংস্থা। বড়শিঙ্গা, নারাইছড়া, ডলু, দেওয়ান ইত্যাদি বাগান হয়ে এবার অনুষ্ঠিত হলো কালাইন বাগানে। প্রতিবারই তার সফল রূপায়ণ হচ্ছে ও চা-বাগানের ঝাড়খণ্ডী আদিবাসী চা-শ্রমিকদের উত্তরোত্তর আগ্রহ বাড়ছে। এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সফল রূপায়ণ করতে  কোরাসের সদস্যদের কঠোর মানসিক ও শারীরিক শ্রম করতে হয়। কোরাস যেহেতু সরকারি, রাজনৈতিক ও কোনো বহুজাতিক বাণিজ্যিক কোম্পানীর আর্থিক সাহায্য নেয় না, তাই কোরাসের সদস্যদের এই প্রোগ্রামের জন্য ক্ষুদ্র চাঁদা সংগ্রহ করতে হয়, সংগ্রহ করতে হয় বাড়ি বাড়ি ঘুরে শুভাকাঙ্খীদের অনুদান। একটা বড় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিপর্বে ও  আয়োজনে প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হয় কোরাসের সদস্যদের যৌথ উদ্যোগে। এবারে কালাইনের অনুষ্ঠানেও এর ব্যতিক্রম হয় নি। তবে এতো বিশাল আয়োজন কোরাসের একার পক্ষে সম্ভব হতো না, যদি না বাগান-শ্রমিকরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, অনুষ্ঠান পরিচালনায় সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতেন।)
  
প্রতিবছরের ন্যায় অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন ও কালাইন বাগান শ্রমিক প্রতিনিধিদের ব্যবস্থাপনায় ঝুমুর কাঠিনাচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো ১৮ ফেব্রুয়ারী রবিবার, ২০১৮ তারিখে কালাইন বাগান ১২ নং মাঠে। শ্রমিক ও চা-বাগানের মানুষদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কোরাসের সদস্যদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তোলা থেকে অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন করতে হয় কোরাসের সদস্যদেরই। এবারের অনুষ্ঠানে কালাইন বাগানের শ্রমিকরা ও স্বেচ্ছাসেবকরা গোটা অনুষ্ঠানকে সামলেছেন ও অতিথি আপ্যায়ন করেছেন অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং নিজেদের শ্রম ও কস্টার্জিত সামান্য আয় থেকে সবার যৌথ অবদানের মাধ্যমে। এদিক দিয়ে এই অনুষ্ঠান সফল। কিন্তু এই অনুষ্ঠানের সুদূর প্রসারী প্রভাব সুনুশ্চিত করতে হলে, আমাদের ভাবতে হবে সংস্কৃতি চর্চার সামগ্রিকতা নিয়ে।

সংস্কৃতি মানে গোটা জীবন চর্চা। একটি জনগোষ্ঠীর আচার-অনুষ্ঠান, রীতি নীতি, খাদ্যাভাস, বেশভূষা, ভালবাসা, প্রেম পিরীতি সবকিছুই সংস্কৃতির অঙ্গ। সংস্কৃতি চর্চার একটি প্রধান উপাদান হচ্ছে ভাষা। ভাষা হচ্ছে গোটা জীবন চর্চার বিমূর্ত প্রকাশ। মানুষ পৃথিবীতে বাস করে এক নির্দিষ্ট সামাজিক সম্পর্কে। এই সামজিক সম্পর্কের পরিধিতে নিরন্তর চলমান সংঘাত ও সহাবস্থান নির্ধারণ করে দেয় একেকটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি। এই আবর্তে সচেতন সাংস্কৃতিক চর্চার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? কীভাবেই বা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সাথে সচেতন সাংস্কৃতিক উদ্যোগ যোগসূত্র স্থাপন করে?

ধরা যাক চা-শ্রমিকরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল ৩৫০ টাকা মজুরি না দিলে বাগানে কাজ করবে না। মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের মধ্যে এই সংঘাতের পথে টিঁকে থাকার লড়াইয়ের প্রভাব তাদের শরীরী ভাষায়, মুখের ভাষায়, সামাজিক কথোপকথনে, জোটবদ্ধতায়, নাচে-গানে, আচার-অনুষ্ঠানে পড়বে। অন্যদিকে ধরা যাক মালিক ঘোষণা করল যে নিরিখ বাড়িয়ে ২৫ কেজি করতে হবে। শ্রমিকরা মেনে নিতে বাধ্য হলো। এই সমঝোতার ফলে শ্রমিকদের পরিশ্রম করতে হয় বেশি, বর্ধিত শারীরিক ও মানসিক কষ্টকে লাঘব করতে আত্মসমর্পণ করতে হয় ভগবানের কাছে, নেশার কাছে, বাজারি বিনোদনের কাছে, সামাজিক-রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবান ও সর্বশক্তিমানদের কাছে। ঠিক অনুরূপভাবে ভাল পাঠশালা, উপযুক্ত শিক্ষক, মাতৃভাষায় ও বিনামূল্যে পাঠদানের অধিকারের আদায়ের লড়াই এক সংস্কৃতি চর্চার জন্ম দেয়, আবার এই পরিস্থতিতিকে মেনে নিলে আত্মসমর্পণ করতে হয় দেবী সরস্বতীর কাছে, ক্ষমতাবানদের কাছে। অর্থাৎ একদিকে প্রতিবাদী সংস্কৃতি ও অন্যদিকে আত্মসমর্পণ বা স্থিতাবস্থার সংস্কৃতি এই দু’য়ের সংঘাত চলতে থাকে নিরন্তর বিভিন্ন রূপে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি ধারাই আধিপত্য বিস্তার করে থাকে। চলমান এই সংঘাতের ফাটল দিয়েই অনুপ্রবেশ ঘটে সচেতন প্রগতিশীল বা প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি চর্চার, এবং দু’য়ের টানাপোড়েন চলতে থাকে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে। সংস্কৃতির কোন ধারা আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে তা ইতিহাস নির্ধারিত হলেও ইতিহাসকেও প্রভাবান্বিত করে নির্দিষ্ট সামাজিক সম্পর্ককে তুলে ধরার এবং এই সম্পর্কে নিহিত প্রগতিশীল সামাজিক শক্তিকে এক করার বা বিভাজিত করার সাংস্কৃতিক প্রয়াস।

চা-শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বর্তমান সামাজিক সম্পর্কের স্বরূপ কি? ঝাড়খণ্ডী-আদিবাসী-চা শ্রমিকদের এলাকা চা-বাগানগুলির পাশেই অন্যান্য ছোট বড় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বাস। তাদের পড়শি বাঙালিদের সাথে সামাজিক সম্পর্কের অবস্থানটা দেখা যাক। তাদের পাশের গ্রামেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত অনেক শ্রমিক আছে যারা তাদের মতই কম মজুরি পায়, অনেক মহিলা শ্রমিক আছে যাদের মাসিক আয় বাগানের মহিলা শ্রমিকদের চেয়েও কম। গ্রামগুলিতে পুরোনো অনেক স্বচ্ছল পরিবার অনিয়মিত আয়ের শ্রমিকে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার এই গ্রামাঞ্চলে মাস্টার-ডাক্তার-বাবু-কেরাণী ইত্যাদি মানসিক শ্রমে নিযুক্ত শ্রমিকদের দেখা পাওয়া যায়, যা প্রায় দেখাই যায় না চা-বাগানে। মানসিক শ্রম থেকে চা-শ্রমিক পরিবারদের দূরে সরিয়ে রাখার দু’টি প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে মাতৃভাষায় পঠন পাঠনের সুযোগ ও তপশিলি জাতি/জনজাতির অধিকার না দেওয়া। চা-বাগানের কচিকাঁচাদের স্কুল ছুটের হার বেশি হওয়ার একটি অন্যতম কারণ ঘরের মায়ের মুখের ভাষার সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মুখের ভাষার দূরত্ব। ঠিক তেমনি ১৯৫২ সালে তপশিলি জাতি/জনজাতির স্বীকৃতি উঠিয়ে দেওয়ার ফলে যে কতিপয় যুবক যুবতীরা কিছুটা পড়াশুনা করেছে তারাও মানসিক শ্রমের সাথে যুক্ত হতে পারেনি, তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধি নির্বাচনেও এই জনগোষ্ঠী ব্যর্থ হয়েছে। এটা হচ্ছে জনগোষ্ঠীগত বঞ্চনার দিক। কিন্তু শ্রমিক হিসেবে বঞ্চনার এক সর্বজনীন রূপও চা-বাগান শ্রমিকদের আশপাশে বিরাজ করছে এবং এই সর্বজনীন রূপ দেখিয়ে দিচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের আরেক বাস্তবতা যার অভ্যন্তরে বাগান ও গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাবের আদান প্রদান করছে। এই সম্পর্কে ফাটল ধরালে প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির লাভ, সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে বৃহত্তর ঐক্য প্রগতিশীল সংস্কৃতির ভিত্তি।

প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চাকে মানুষের প্রতিবাদী সক্রিয়তার সাথে সচেতনভাবে যুক্ত করতে হবে, বাস্তব সামাজিক সম্পর্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মেহনতি মানুষের সর্বজনীন ঐক্যের অন্তর্বস্তু থাকা সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি করতে হবে।

প্রগতিশীল বা প্রতিক্রিয়াশীল উভয়ের আবেগ নিহিত থাকে বাস্তব সামাজিক সম্পর্কে। বাস্তব সম্পর্কের গর্ভ থেকে তাকে আহরণ করে মহৎ বা ধ্বংসাত্মক বয়ান নির্মাণ করা যায়। এই আবেগকে বুঝতে হবে। প্রতিক্রিয়াশীলদের মদতে রয়েছে রাষ্ট্র, বাজার ও তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-প্রতিষ্ঠান, প্রগতিশীলদের দরকার বাস্তবতা বোঝার যৌথ কঠোর সচেতন প্রয়াস ও চর্চা।          

অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা এবং নাগরিকত্ব, নাগরিক নিরাপত্তার দাবিতে গণকনভেনশন।

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , , ,










৪ (চার) মার্চ ২০১৮, গান্ধী ভবন, শিলচর।
(ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি’র উদ্যোগে এবং কোরাস ও অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায়)

বন্ধুগণ,
     
   বিগত বহু দশক থেকে আসামের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নাগরিকত্ব ও বিদেশি বিতর্ক একটা জ্বলন্ত ও নির্ধারক বিষয় হয়ে থেকেছে। সত্তরের দশকের শেষে আসামের ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক কৃষক আন্দোলনকে বিভাজিত করতে শুরু হয় আসুর উগ্রজাতীয়তাবাদী আন্দোলন৷ আসামের জনগণ বার বার সাক্ষী হয়েছেন নানা প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠী সংঘর্ষের। আজ, ২০১৮ সালে NRC নবায়নকে সামনে রেখে, উগ্রজাতীয়তাবাদ তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আবারও ময়দানে নেমেছে৷ মুমূর্ষু আর্থিক অবস্থায় পুঁজিপতি ও বৃহৎ বাজারের খিদে মেটাতে গিয়ে রাষ্ট্রের জন-কল্যাণকামী চরিত্রও লোপ পাচ্ছে। এতে গিয়ে বেকারি, উচ্ছেদ, করের বোঝা,মজুরি ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত আপামর অসমবয়সীর কাছে উগ্র জাতীয়তাবাদ জনসমর্থন হারানোর পথে। ছয় জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণের আন্দোলন, সমস্যা জর্জরিত বোড়ো, কার্বি, ডিমাসা সহ অন্যান্য জনজাতীয় গোষ্ঠীর ক্ষোভ, বঞ্চনা নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডী-আদিবাসী চা-শ্রমিকদের সংগ্রাম, ভাটি অসমের দিকে দিকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভাষিক সংখ্যালঘু জনতার প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ, আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের জন্য বেসরকারিকরণ আজ অসমিয়া উগ্র জাতীয়তাবাদকে এক পতনোন্মুখ শক্তিতে পরিণত করেছে। এই পতনোন্মুখ শক্তিকে আবার মাথা তোলার আগেই শেষ ধাক্কা দিয়ে পরাস্ত করে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ মুক্ত আসাম গড়ার লক্ষ্যে সমগ্র আসামবাসীর গণতান্ত্রিক ঐক্য সুদৃঢ় করে গণ আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
          (১) আমরা দাবি করছি 
        (ক) সুষ্ঠু এনআরসি রূপায়ণ (খ) কোনো ভেদাভেদ না করে সরল নাগরিকত্ব প্রমাণ ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া (গ) সমগ্র আসামবাসীকে একই মানবিক মানদণ্ডে বিচার করা (ঘ) প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা৷
      ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের মতো আসামেও বেকারত্বের সাথে পাল্লা দিয়ে ঠিকা শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের বদলে ঠিকাদারের মাধ্যমে সস্তায় অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে। এই শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়োজিত রয়েছেন ছোটো বড়ো সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ ও বিভাগে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবহণের মতো পরিসেবামূলক ক্ষেত্রে, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে। পরিকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত এই ঠিকা শ্রমিকদের অধিকাংশই আসামের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে, গ্রাম থেকে শহরে বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করেন। এই শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা নেই, ন্যূনতম আইনি গ্যারান্টিও রূপায়ণ হয় না। নাগরিক হিসেবে তাদের সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত। ২০১৬-এর অক্টোবরে ধেমাজি জেলার গোগামুখে ভাটি অসমের ১১ জন শ্রমিককে বাংলাদেশী অভিযোগে পাকড়াও করে জেলে পুরে দেওয়া হয় ও এই কিছুদিন আগে দরং জেলার ধোলায় হাসান আলি নামে এক বাঙালি শ্রমিকের হাজত-মৃত্যুর অভিযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলিতে মহিদূল হক নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশী অভিযোগে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ইদানীংকালে বেড়ে চলেছে।
        (২) আমরা এই শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার দাবি করছি।
       ঠিকা শ্রমিক (কন্ট্রাক্ট লেবার) আইনের আসাম রুল, ১৯৭১ অনুযায়ী এই আইন রূপায়ণের জন্য রাজ্যে উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করতে হয়। ঠিকাদার বা নিয়োগকারীর পক্ষে ৪ জন ও শ্রমিকদের পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪ জন প্রতিনিধি ৩ বছরের মেয়াদে এই বোর্ডে সামিল হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আসামে এই বোর্ড গঠন করা হয়নি। ফলে মালিকপক্ষ ঠিকা শ্রমিকদের প্রতি মর্জি মাফিক ব্যবহার করে এবং শ্রমিকদের মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষাজনিত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। এই আইন অনুযায়ী ঠিকাদারের নিয়োগকারী সরকারি ও বেসরকারি বিভাগ/প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি এই আইনের রূপায়ণের ব্যাপারে ঠিকা-শ্রমিকদের মুখ্য নিয়োগদাতা হিসেবে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু বর্তমান সরকার আইনের এই বিধান উঠিয়ে দিয়ে ঠিকাদারদের যথেচ্ছাচারের উপর শ্রমিকদের ভাগ্য তুলে দিতে চাইছে।
         এই আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য
       (ক) পর্যাপ্ত বিশ্রামের স্থান (খ) ক্যান্টিন (গ)আপতকালীন চিকিৎসার ব্যবস্থা (ঘ) মুখ্য নিয়োগকর্তার উপস্থিতিতে ৭-১০ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি প্রদান (ঙ) মজুরি রেজিস্টার, ওভারটাইম রেজিস্টার (চ) ১৯ নং ফর্ম (রুল ৭৮-২-ব) অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি স্লিপ প্রদান ইত্যাদির গ্যারান্টি প্রদান করেছে। উপরন্তু, ঠিকাদার যাতে ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘন করতে না পারে তারজন্য মুখ্য নিয়োগকর্তা দায়বদ্ধ থাকবে।
      (৩) আমরা উপরোক্ত আইনের সঠিক রূপায়ণ ও আইন অনুযায়ী পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছি এবং মুখ্য নিয়োগকারীর দায়বদ্ধতা উঠিয়ে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি।
       এই তিন দফা দাবির ভিত্তিতে আমরা আগামী ৪ মার্চ, বেলা ১১টায় শিলচর গান্ধী ভবনে এক গণ-কনভেনশনে মিলিত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। 
_________________________________________
ফোরাম ফোর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে- অরিন্দম দেব, ফারুক লস্কর।
কোরাস-এর পক্ষে - নীলকান্ত দাস, স্নিগ্ধা নাথ, আজিম বড়ভূঁইয়া।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে - ধরিত্রী শর্মা, নোমান আহমেদ, পারভেজ লস্কর।

⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭



অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক সুৰক্ষা আৰু নাগৰিকত্ব, নাগৰিক নিৰাপত্তাৰ দাবীত গণ কনভেনশ্যন।
৪ (চাৰি) মার্চ ২০১৮, গান্ধী ভৱন, শিলচৰ।
('ফ'ৰাম ফৰ ছ'চিয়েল হাৰমনি’ৰ উদ্যোগত, কোৰাছ আৰু অসম মজুৰি শ্রমিক ইউনিয়নৰ সহযোগিতাত)



বন্ধুসকল,
   
(C)Image:ছবি
বিগত বহু দশকৰ পৰা অসমৰ সামাজিক আৰু ৰাজনৈতিক ক্ষেত্রখনত নাগৰিকত্ব আৰু বিদেশী বিতর্কটো এটা জ্বলন্ত আৰু নির্ধাৰক বিষয় হিচাপে পৰিগণিত হৈ আহিছে । সত্তৰৰ দশকৰ শেষৰ পিনে অসমৰ ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক-খেতিয়ক আন্দোলনক বিভাজিত কৰিবৰ বাবে আছুৰ উগ্রজাতীয়তাবাদী আন্দোলন আৰম্ভ হয়৷ অসমৰ জনগণ বাৰে বাৰে নানা প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন আৰু ৰক্তক্ষয়ী গোষ্ঠী সংঘর্ষৰ চিকাৰ হৈ আহিছে। আজি, ২০১৮ চনত NRC নৱীকৰণৰ গইনা লৈ, উগ্রজাতীয়তাবাদে তাৰ অস্তিত্ব টিকাই ৰাখিবলৈ আকৌ পথাৰত নামিছে ৷ মৃত্যুমুখী আর্থিক অৱস্থাত পুঁজিপতি আৰু বৃহৎ বজাৰৰ ভোক মিটাবলৈ ৰাষ্ট্রৰ জনকল্যাণকামী চৰিত্রও লোপ পাবলৈ লৈছে। ফলস্বৰূপে বেকাৰি, উচ্ছেদ, কৰৰ বোজা, মজুৰি ইত্যাদি সমস্যাত জর্জৰিত সাধাৰণ অসমবাসীৰ ওচৰত উগ্রজাতীয়তাবাদৰ জনসমর্থন হেৰাবলৈ আৰম্ভ কৰিছে। ছয় জনগোষ্ঠীৰ সংৰক্ষণৰ আন্দোলন, সমস্যা জর্জৰিত বড়ো, কার্বি, ডিমাছা সহিতে অন্যান্য জনজাতীয় গোষ্ঠীৰ ক্ষোভ, বঞ্চনা-নিপীড়নৰ বিৰূদ্ধে সংগ্রাম, ঝাড়খণ্ডী-আদিবাসী চাহ শ্রমিকসকলৰ সংগ্রাম, নামনি অসমৰ কেউদিশে নিপীড়নৰ বিৰুদ্ধে ভাষিক সংখ্যালঘু জনতাৰ প্রতিৰোধৰ বহিঃপ্রকাশ, অসমৰ প্রাকৃতিক সম্পদ লুটৰ বাবে কৰা বেচৰকাৰীকৰণে আজি অসমীয়া উগ্রজাতীয়তাবাদক এক পতনোন্মুখ শক্তিত পৰিণত কৰিছে। এই পতনোন্মুখ শক্তিয়ে আকৌ মূৰ দাঙি উঠাৰ আগতেই ইয়াক শেষ ধাক্কা দি পৰাস্ত কৰি উগ্রজাতীয়তাবাদ আৰু সাম্প্রদায়িকতাবাদ-মুক্ত অসম গঢ়াৰ লক্ষ্যৰে সমগ্র অসমবাসীৰ গণতান্ত্রিক ঐক্য সুদৃঢ় কৰি গণ আন্দোলনৰ পিনে আগ বঢ়াই লৈ যাব লাগিব।
           (১) আমি দাবী জনাওঁ -
       (ক) শুদ্ধ এনআৰচি ৰূপায়ণ (খ) কোনো প্রকাৰ ভেদাভেদ নকৰাকৈ সৰল নাগৰিকত্ব প্রমাণ আৰু ভেৰিফিকেশ্যন প্রক্রিয়া (গ) সমগ্র অসমবাসীক একেই মানৱিক মানদণ্ডত বিচাৰ কৰা (ঘ) প্রতিটো জনগোষ্ঠীৰ সমান অধিকাৰ আৰু সমান মর্যাদা৷
        ভাৰতবর্ষৰ বিভিন্ন ৰাজ্যৰ দৰে অসমতো বেকাৰত্বৰ লগত, ঠিকা শ্রমিক-কর্মচাৰীৰ সংখ্যা দিনে দিনে বাঢ়ি গৈ আছে। চৰকাৰী আৰু বেচৰকাৰী ক্ষেত্রত স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগৰ সলনি ঠিকাদাৰৰ মাধ্যমেৰে সস্তাত অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ কৰা হৈ আছে। এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকল নিয়োজিত হৈ আছে সৰু-ডাঙৰ চৰকাৰী-বেচৰকাৰী উদ্যোগ আৰু বিভাগত, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পৰিবহণৰ দৰে পৰিসেৱামূলক ক্ষেত্রত, নির্মাণ শ্রমিক হিচাপে বিভিন্ন পৰিকাঠামোগত ক্ষেত্রত। পৰিকাঠামো নির্মাণত নিযুক্ত এই ঠিকা শ্রমিকসকলৰ অধিকাংশই অসমৰ এক অঞ্চলৰ পৰা আন অঞ্চলৈ, গাঁৱৰ পৰা চহৰলৈ নাইবা এক জিলাৰ পৰা আন জিলাত গৈ কাম কৰে। এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক সুৰক্ষা নাই, ন্যূনতম আইনী গেৰান্টিও ৰূপায়ণ নহয়। নাগৰিক হিচাপে তেওঁলোকৰ সামাজিক নিৰাপত্তাও বিঘ্নিত। ২০১৬ৰ অক্টোবৰ মাহত ধেমাজি জিলাৰ গোগামুখত নামনি অসমৰ ১১জন শ্রমিকক বাংলাদেশীৰ অভিযোগত ধৰি জে'লত ভৰাই দিয়া হয়। কেইদিনমানৰ আগতে দৰং জিলাৰ ধোলাত হাছান আলী নামৰ এজন বাঙালী শ্রমিকৰ হাজোতত মৃত্যু হোৱাৰ অভিযোগৰ বিৰুদ্ধে বিক্ষোভ জনোৱা ৰাইজৰ ওপৰত আৰক্ষীয়ে গুলি চলালে আৰু মহিদুল হক নামৰ এজন লোকৰ মৃত্যু হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশীৰ অভিযোগত শ্রমিকসকলৰ ওপৰত নির্যাতন বাঢ়ি গৈ আছে।
       (২) আমি এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক নিৰাপত্তাৰ লগতে নাগৰিক অধিকাৰৰ দাবী জনাওঁ।
     ঠিকা শ্রমিক (কনট্রেক্ট লেবাৰ) আইনৰ আছাম ৰুল, ১৯৭১ অনুসাৰে এই আইন ৰূপায়ণৰ বাবে ৰাজ্যত উপদেষ্টা ব'র্ড গঠন কৰিব লাগে। ঠিকাদাৰ অথবা নিয়োগকাৰীৰ পক্ষত চাৰি (৪) জন আৰু শ্রমিকসকলৰ পক্ষত বিভিন্ন ইউনিয়নৰ চাৰি (৪) জন প্রতিনিধি ৩ বছৰৰ ম্যাদত এই ব'র্ডত চামিল হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়জুৰি অসমত এই ব'র্ড গঠন কৰা হোৱা নাই। ফলস্বৰূপে মালিকপক্ষই ঠিকা শ্রমিকসকলক নিজৰ মর্জি অনুসৰি ব্যৱহাৰ কৰে আৰু শ্রমিকসকলক মজুৰি আৰু সামাজিক সুৰক্ষাজনিত সকলো ধৰণৰ সুযোগ সুবিধাৰ পৰা বঞ্চিত কৰি থাকে। এই আইন অনুসৰি ঠিকাদাৰৰ নিয়োগকাৰী চৰকাৰী আৰু বেচৰকাৰী বিভাগ/প্রতিষ্ঠান/কোম্পানী এই আইনৰ ৰূপায়ণৰ বিষয়ে ঠিকা-শ্রমিকসকলৰ মুখ্য নিয়োগকর্তা হিচাপে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু বর্তমানৰ চৰকাৰে আইনৰ এই বিধান উঠাই দি ঠিকাদাৰসকলৰ যথেচ্ছাচাৰৰ ওপৰত শ্রমিকসকলৰ ভাগ্য গতাই দিব বিচাৰিছে।
      এই আইন অনুসৰী শ্রমিকসকলৰ বাবে
   (ক) পর্যাপ্ত বিশ্রামৰ স্থান (খ) কেন্টিন (গ) আপদকালীন চিকিৎসাৰ বাবে ব্যৱস্থা (ঘ) মুখ্য নিয়োগকর্তাৰ উপস্থিতিত ৭-১০ দিনৰ ভিতৰত সাপ্তাহিক মজুৰি প্রদান (ঙ) মজুৰি ৰেজিস্টাৰ, অভাৰটাইম ৰেজিস্টাৰ (চ) ১৯ নং ফর্ম (ৰুল ৭৮-২-ব) অনুসৰি শ্রমিকসকলক মজুৰি স্লিপ প্রদান ইত্যাদিৰ গেৰান্টি প্রদান কৰিছে। তদুপৰি, ঠিকাদাৰে যাতে ন্যূনতম মজুৰি আইন লঙ্ঘন কৰিব নোৱাৰে তাৰ বাবে মুখ্য নিয়োগকর্তা দায়বদ্ধ থাকিব।
    (৩) আমি উপৰোক্ত আইনৰ সঠিক রূপায়ণ আৰু আইন অনুযায়ী পৰামর্শদাতা ব'র্ড গঠনৰ দাবী জনাইছো আৰু মুখ্য নিয়োগকাৰীৰ দায়বদ্ধতা উঠাই দিয়াৰ কেন্দ্র চৰকাৰৰ প্রস্তাৱৰ বিৰোধিতা কৰিছো।
   এই তিনি দফা দাবীৰ ভিত্তিত আমি অহা ৪ মার্চ, দিনৰ ১১ বজাত শিলচৰ গান্ধী ভৱনত এক গণ-কনভেনশ্যনত মিলিত হোৱাৰ আহ্বান জনাইছো। 

_________________________________________
'ফ'ৰাম ফৰ ছ'চিয়েল হাৰমনি'ৰ হৈ - অৰিন্দম দেব, ফাৰূক লস্কৰ।
কোৰাছ-ৰ হৈ - নীলকান্ত দাস, স্নিগ্ধা নাথ, আজিম বড়ভুইয়া।
অসম মজুৰি শ্রমিক ইউনিয়নৰ হৈ - ধৰিত্রী শর্মা, নুমান আহমেদ, পাৰভেজ লস্কৰ।



শিশির দে-র ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে কতিপয় ব্যাক্তির উন্মত্ত আচরণ গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক : ১০ টি সংগঠন ও গণতন্ত্রপ্রিয় ব্যক্তিদের যৌথ বিবৃতি

Posted by শহিদুল হক Labels: , , ,







ফেসবুকে একটি পোস্টকে ঘিরে দেবদুলাল দাস ও পঙ্কজ দাসের দ্বারা গত ১০ ডিসেম্বর করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় আইনজীবী শিশির দের বিরুদ্ধে। গণতান্ত্রিক চিন্তাচর্চা ও প্রকাশের স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে এই ঘটনায় আমরা নিম্ন-স্বাক্ষরকারীরা উদ্বিগ্ন। 

          আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী৷ শিশির দে শুধুমাত্র একজন আইনবিদই নন, ব্যক্তি হিসেবে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলমানবিক ও পরমত সহিষ্ণু৷ মানবিক আবেগের বহিঃপ্রকাশে ভাষা ও ভাবের ব্যবহারের জটিলতায় কেউ মানসিক আঘাত পেলে তাঁরা এর প্রতিবাদ করতে পারেন, কিন্তু নিজেদেরকে ধর্মের রক্ষক হিসেবে জাহির করে আক্রমণাত্মক আচরণ করা সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক নয়৷ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধহীন, আইনের শাসনের প্রতি আস্থাহীন, ক্ষমতার দম্ভে বলীয়ান হয়ে শিশিরের প্রতি উন্মত্ত আচরণে নেমেছেন কতিপয় ব্যক্তি৷ শিশিরের বক্তব্যে কোনো ব্যক্তি আক্রমণ ছিল না, ছিল এক ভাবধারার প্রতি শ্লেষ৷ যুক্তি দিয়ে কেউ এই শ্লেষকে খণ্ডন করতে পারেন৷ কিন্তু এই পোস্টের পর যেভাবে কয়েকজন ব্যক্তি হুমকি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন এবং সর্বোপরি অসাংবিধানিক যেসব মন্তব্য উঠে আসছে তা ভয়াবহ ও শান্তি সম্প্রীতির সুস্থ পরিবেশের জন্য বিপজ্জনকও বটে। এদের পোস্ট থেকে আমাদের ধারণা তারা শিশিরকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করতে চাইছেন৷ এটাই সামাজিক অসহিষ্ণুতা, এটাই ক্ষমতার দম্ভ, এটাই জাতি ও জনগণের সামনে প্রধান বিপদ৷ এই প্রবণতাকে আমরা গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ বিরোধিতা করছি। 

          শিশির বাবুর এই মন্তব্য আইনের কোনো ধারা মতে কোনো অপরাধের আওতায় আসে না। এটা সংবিধান স্বীকৃত বাকস্বাধীনতার ব্যবহার। তারপরেও মামলা দায়ের করে আইনের অপপ্রয়োগ মুক্ত কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা বলে মনে করি। গোটা বিষয়কে যাতে এক সামাজিক বিতর্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা হয়, হয়রানি করার মানসিকতা পরিহার করে প্রশাসনিক ন্যায়বিচার দেখানো হয়, তারজন্য আমরা করিমগঞ্জের জেলা উপায়ুক্ত ও জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷


ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি-র পক্ষে - অরূপ বৈশ্য।

★ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি-র পক্ষে - দেবাশিস ভট্টাচার্য ।

★পিপলস্ সায়েন্স সোসাইটি-র পক্ষে - হিল্লোল ভট্টাচার্য।

★ নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিশিয়েটিভ (আসাম রাজ্য কমিটি)-র পক্ষে - দেবব্রত শর্মা।

★ অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং ২২৮৭)-র পক্ষে মানস দাস।

★ কোরাস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-র পক্ষে - বিশ্বজিৎ দাস।
★আসাদুল হক--মাইনোরিটি ডেমোক্রেটিক ইউথ ফেডারেশন, নগাওঁ, আসাম।

★ গণতান্ত্রিক লেখক সংস্থা-র পক্ষে - সঞ্জীব দাস।
★ নারী মুক্তি সংস্থা-র পক্ষে - স্নিগ্ধা নাথ।

★ প্রতাপ সাহিত্য পত্রিকা গোষ্ঠী-র পক্ষে - শৈলেন দাস।

দৈনিক প্রান্তজ্যোতি, ১৬ ডিসে, পৃ: ১৬
১। মৃন্ময় দেব ২। মন্দিরা নন্দী ৩। মানস সেনগুপ্ত ৪। সুশান্ত কর ৫। শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার ৬। বিজয়া করসোম ৭। তমোজিত সাহা ৮। সিদ্ধার্থ দত্ত ৯। পরম ভট্টাচার্য ১০। সুজিৎ নাগ ১১। কমল চক্রবর্তী ১২। তানিয়া লস্কর ১৩। সর্বজিৎ দাস ১৪। টিংকু গুপ্ত ১৫। অরিন্দম দেব ১৬। নভোস্মিতা দাস ১৭। অঞ্জন শুক্লবৈদ্য ১৮। অজন্তা নাথ ১৯। ধরিত্রী শর্মা ২০। কৃষাণু ভট্টাচার্য  ২১। সুমন দে ২২। কুহেলী দেবরায় ২৩। নীলকান্ত দাস ২৪। কাবেরী দাস ২৫। দীপ তরাত ২৬। অনিন্দিতা চক্রবর্তী ২৭। সুমনা চৌধুরী (কাছাড়) ২৮। সুমনা চৌধুরী (করিমগঞ্জ) ২৯। সাবিনা রহমান চৌধুরী ৩০। রফিউল মজুমদার ৩১। আদিমা মজুমদার ৩২। শহিদুল হক ৩৩। শামীম আহমেদ ৩৪। সারোয়ার জাহান ৩৫। আজিম বড়ভূইয়া ৩৬। ফারুক লস্কর ৩৭। শেখাওয়াত মজুমদার ৩৮। সামসুল হুদা ৩৯। ফজলুল করিম ৪০। পীযুষকান্তি দাস ৪১। জামাল উদ্দিন ৪২। সৌম্য চক্রবর্তী ৪৩। বাবর চৌধুরী ৪৪। পারভেজ খসরু লস্কর ৪৫। দেবকান্ত দাস ৪৬। অপর্ণা দেব ৪৭। দেবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ৪৮। শুভ্রজ্যোতি দাস ৪৯। সুজিৎ দে ৫০। ইমাদুল ইসলাম চৌধুরী  ৫১। অলিউল্লাহ্ লস্কর ৫২। নিপ্পন নাথ ৫৩। সুদীপ দে ৫৪। এদিব ইমন ৫৫। পিয়া দাস ৫৬। দেবাংশু নাথ ৫৭। প্রলয় দত্ত ৫৮। দেবকুমার হালদার ৫৯। অরুণাভ গাঙ্গুলি ৬০। অনীক ভট্টাচার্য ৬১। রাহুল সিনহা ৬২। শুভ্রব্রত চৌধুরী ৬৩। সীতাংশু দে ৬৪। সৌম্যদীপ রায় চৌধুরী ৬৫। নজমুল হুসেন লস্কর ৬৬। মৌপিয়া চৌধুরী ৬৭। এম বাহারুল ইসলাম ৬৮। সবিতা ভট্টাচার্য ৬৯। বিনীতা হাজারিকা ৭০। বিশ্বজিৎ দাস (করিমগঞ্জ) ৭১। মনীষ দাস ৭২। সাহাবুদ্দিন ৭৩। আবুল কাসিম তাপাদার ৭৪। এ.কে. বাহাউদ্দিন ৭৫। মাসুক আহমেদ মজুমদার ৭৬। প্রতিমা পাল ৭৭। সাহাবুদ্দিন ৭৮। নাজির হুসেন মজুমদার ৭৯। সেতাব উদ্দিন ৮০। সাদিক লস্কর ৮১। নুমান আহমেদ ৮২। আবু তাহের হুসেন ৮৩। সাবর্ণি পুরকায়স্থ ৮৪। রঞ্জন কান্তি ভট্টাচার্য ৮৫। সুব্রত রায় ৮৬। প্রবাল দত্ত ৮৭। হিজবুল ফিদা কাদির ৮৮। মনদীপ দেবজা ৮৯। আতিক আহমেদ চৌধুরী ৯০। আকাশ সরকার ৯১। শ্রুতয়া ভট্টাচার্য ৯২। রুহুল আমিন ৯৩। সুমিতা চৌধুরী ৯৪। সাদিকা খানম ৯৫। সুকান্ত নাথ ৯৬। মুস্তফা লস্কর ৯৭। অপরাজিতা দে ৯৮। প্রীতি দাস ৯৯। অনন্যা গুপ্ত ১০০। জগৎ সিনহা ১০১।  অরুণাংশু ভট্টাচার্য ।  ১০২। এ. সবুর তাপাদার। ১০৩। শ্যামা পাল ১০৪। দুলু দাস ১০৫। আতিকুল বারি ১০৬। অনীক ভট্টাচার্য ১০৭। সৌরভ হাসান। ১০৮। শাস্বত পুরকায়স্থ। ১০৯।আনছারুল্লাহ তালুকদার। ১১০।ডাঃ রাজীব কর। ১১১।জাকির হুসেন।১১২। রতিশ দেব। ১১৩। জুবাইর আহমেদ মজুমদার। ১১৪। বাসব রায়। ১১৫। পারিজাত এন ঘোষ।

(আরো যারা সমর্থন জানাতে থাকবেন, তাদের নাম এখানে জুড়ে যাবে। কাগজে যদিও প্রথম ১০৭টি নামই চলে গেছে। )

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি’র ২৬/১১/২০১৭ গণ-কনভেনশনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ :

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , ,





ন্দোলন কর্মসূচী
(ক) নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের ভিত্তিতে আসামের বিভিন্ন জেলায় কনভেনশন করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা।
(
খ) নিম্নলিখিত দাবিসনদের ভিত্তিতে বরাকের তিন জেলায় ন্যূনতম একটি করে জনসভা করা এবং ডিসেম্বরের শেষে কোরাসের উদ্যোগে বরাক উপত্যকা পরিক্রমায় কনভেনশনের সিদ্ধান্ত সমূহ প্রচার করা।
(
গ) শুধুমাত্র এইচপিসি-র বিষয় নিয়ে ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনার জন্য অনতিবিলম্বে ফোরামের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সভা ডাকা হবে। এই সভায় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানায় কনভেনশন।
(
ঘ) বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করে মানুষের মধ্যে এনআরসি-ভীতি দূর করা ও তার জন্য বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আইনজীবীদের পরামর্শ উপস্থাপন করা। নাগরিকদের হেনস্তা থেকে বাঁচাতে আইনি সহায়তা প্রদান।
                                             ~~~০০০~~~
নীতিগত প্রস্তাবসমূহ
(১) এনআরসি ও নাগরিকত্বের বিষয়ে :
এনআরসি প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকরা একে স্বাগত জানিয়েছিলেন। অনেকেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন এই ভেবে যে স্বাধীনতা-উত্তর পর্যায় থেকে আসামে নাগরিকত্বের প্রশ্নকে ঝুলিয়ে রেখে ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি ও এনিয়ে রাজনীতির দুষ্টচক্রের যে দীর্ঘ খেলা চলে আসছে তার হয়ত এক স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু বারবার নাগরিকত্ব প্রমাণের মানদণ্ড বদলে দিয়ে এনআরসি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে ও ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। এনআরসি প্রক্রিয়া নিজেই এক বিভ্রান্তি ও ভীতির বাতাবরণ তৈরি করেছে। নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আমরা মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে আগ্রহী। যেহেতু ১৯৭১-এর ২৪ মার্চ মধ্যরাত্রি ডেটলাইন হিসেবে সব পক্ষ মেনে নিয়েছে, নাগরিকত্ব প্রশ্নের স্থায়ী সমাধানের স্বার্থে আমরাও তাই মেনে নিচ্ছি। নাগরিক পরিচয়ের প্রশ্নে আর কোনো ধরনের বেঞ্চমার্কের আমরা বিরোধী। বারবার পদ্ধতি ও প্রমাণপত্রের মানদণ্ড বদল করে ভারতীয় নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করা,উপর্যুপরি বন্যা নদী-ভাঙন ইত্যাদিতে সর্বস্বান্তদের প্রমাণপত্র দাখিলের ব্যাপারে যথেষ্ট নমনীয় পদ্ধতিতে মানবিকতার সাথে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা ও এনআরসি যেহেতু নাগরিক চিহ্নিত করবে, তাই ডি-ভোটার ও ডিটেনশন ক্যাম্প উঠিয়ে দেওয়ার দাবি আমরা উত্থাপন করছি।
(২) বিশ্বায়ন, বেসরকারিকরণ ও শ্রমজীবীদের অধিকার :
আমাদের চোখের সামনে বরাক উপত্যকার একটি বৃহৎ শিল্পোদ্যোগ এইচপিসি বন্ধ হয়ে গেল। দুর্নীতি অছিলা মাত্র, আসলে গোটা দেশব্যাপী বেসরকারিকরণের যে আয়োজন চলছে এ তারই পরিণতি। শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন দেওয়ার মতো মানবিক আচরণটুকুও সরকার দেখাল না। সমস্ত সরকারি উদ্যোগকে ব্যক্তি-মালিকানায় দিয়ে দেওয়া, বিদেশি পুঁজির লুণ্ঠনের জন্য শ্রম ও বিত্তীয় সংস্কার, কৃষি বিপর্যয়, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিল্পে বিনিয়োগে অনীহা ইত্যাদি সবকিছু মিলে ভয়ানক রুজি-রোজগার ও বেকারত্বের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। চা-শ্রমিক, পরিবহণ শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, অঙ্গনওয়াড়ি আশা কর্মী, ক্ষুদ্রশিল্পের শ্রমিক, ক্যাজুয়্যাল ও ঠিকা শ্রমিক ইত্যাদি সবাই ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। সরকার তাদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে প্রচলিত আইনগুলিই বদলে দিতে চাইছে। শ্রমিকদের মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষার ন্যায্য অধিকার ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানায় শিল্পায়নের প্রয়োজন।
(৩) দেশপ্রেম ও উন্নয়ন:
দেশ শুধুমাত্র এক ভূগোল নয়, এই ভূগোলে বসবাসকারী মানুষকে বোঝায়। এই মানুষকে ভালবাসার নামই দেশপ্রেম। মানুষের প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত হয়ে উঠে সবচাইতে নিপীড়িত বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণি-বর্ণ-জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের এক দেশব্যাপী ধারণার মধ্য দিয়ে। দেশকে ভূগোল ও সীমানা রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এই বঞ্চিত মানুষরা থেকে যায় আড়ালে, তাদের উপর নিপীড়ন পায় বৈধতা। এই বৈধতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিপীড়িতের পক্ষে যারা বৌদ্ধিক চর্চা করেন বা সমাজ কর্মী হয়ে উঠেন তাদের উপর নেমে আসে আক্রমণ। দেশপ্রেমের নামে এই আক্রমণের ইতিমধ্যে বলি হয়েছেন বেশ কজন বুদ্ধিজীবী ও দলিত-সংখ্যালঘু মেহনতি মানুষ। এই কল্পিত দেশপ্রেমের বিপরীতে প্রকৃত দেশপ্রেমকে রক্ষা করার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এই দেশপ্রেম প্রোথিত থাকবে এমন এক উন্নয়ন মডেলে যা ভারতবর্ষের শ্রম ও প্রকৃতিকে ধ্বংসাত্মকভাবে শোষণ করে না।
(৪) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য :
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে ক্রমবর্ধমান আর্থ-সামাজিক অসাম্য ও বেসরকারিকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি পুঁজির প্রাধান্যের ফলে। ভাল শিক্ষা ও ভাল চিকিৎসা হয়ে পড়ছে ব্যয়বহুল। সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে মুনাফার লক্ষ্য হয়ে পড়েছে প্রধান। শিক্ষায় সরকারি ব্যয় হয়ে পড়ছে সংকুচিত, ফলে মাতৃভাষায় পঠন পাঠনের সুযোগও হারিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভয়ানক বিপর্যয়ের হাতছানি শোনা যাচ্ছে। আমেরিকান ধনকুবের জর্জ সরস ও বিল গ্যাটস স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন খুলেছেন এবং ফাউন্ডেশনের অর্থ নিয়ে ইতিমধ্যে ভারতে হাজির হয়েছেন। চিকিৎসা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বেসরকারিকরণ ও মুনাফাই যে তাদের প্রধান লক্ষ্য এব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সংগ্রামকে জোরদার করা আজকের সময়ের দাবি।
(৫) বৈচিত্র্যের উপর আঘাত ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা :
বৈচিত্র্যের উপর আঘাত আজকের ভারতবর্ষে এক প্রধান বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এক ভাষা-এক ধর্ম-এক সংস্কৃতির প্রচারের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের পেছনে চলছে ক্ষমতার ও বাজারের কেন্দ্রীভবন। দিল্লি থেকে গোটা ভারতবর্ষ শাসন করার মনোবাসনা পূর্ণ করতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের জিগির তোলা হচ্ছে, রাজ্যকে করে দেওয়া হচ্ছে পঙ্গু, যারা এখনও ভাষিক-সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বহুত্ববাদের বিপরীতে একমত ও একপথের এই শাসন কায়েম করার মানসিকতা অন্তর্বস্তুতে ফ্যাসিস্ট চরিত্রের। এই বিপদকে আমাদের রুখতে হবে।
_______________________________________
নির্দিষ্ট প্রস্তাবসমূহ :
(১) প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অবিলম্বে ডিটেনশন ক্যাম্পউঠিয়ে দিতে হবে। (২) এনআরসি যেহেতু নাগরিকত্ব নির্ধারণ করবে, তাই ডি-ভোটারউঠিয়ে দিয়ে নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। (৩) ১৯৭১র ২৪ মার্চের মধ্যরাত্রির আগে আসামে বসবাসকারীদের নাগরিকত্ব দিতে হবে কোনো শ্রেণি বিভাগ ছাড়া। (৪) পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ১৯৬৬র ভোটার তালিকাকে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ও সরকারি অফিসারকে সামনে রেখে পুলিশ ভ্যারিফিকেশন করার প্রক্রিয়াকে ফোরাম বিরোধিতা করছে। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ যেহেতু নাগরিকত্বের ভিত্তিবর্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন নিজেই যেহেতু সরকারি বিভাগ, তাই উপরোক্ত নিয়ম বাতিল করা। (৫) এইচপিসি কর্মীদের বকেয়া বেতন অবিলম্বে প্রদান করতে হবে। (৬) সরকারি উদ্যোগে এইচপিসি চালু করতে হবে। (৭) নদী-ভাঙন রোধ করতে হবে। (৮) সম-কাজে সম-মজুরি প্রদান ও চা-শ্রমিক সহ সব ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আইনের অধীনে ন্যূনতম মজুরি প্রদান করতে হবে। (৯) সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করা এবং এসব ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ বন্ধ করা। (১০) উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও অন্যান্য মাশুলের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি রোধ করে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়া। (১১) সবার মাতৃভাষায় পঠনপাঠন ও ভাষিক-সাংস্কৃতিক অধিকার সুনিশ্চিত করা। (১২) ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা। (১৩) ব্রহ্মপুত্রের চর এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ইত্যাদির পরিসেবা সহ উক্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের জমির স্থায়ী পাট্টা প্রদানের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়া। (১৪) শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল কলেজে বৈজ্ঞানিক অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং বরাকের নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার করতে হবে।(১৫) চা-বাগানের যুবক-যুবতীদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চাকরির জন্য সংগ্রাম করা, চা-বাগানের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশের জন্য উদ্যোগ নেওয়া। চা-শ্রমিকদের মজুরি ৩৫০টাকা বৃদ্ধি করার দাবি জানানো। নিজ মাতৃভাষায় চা-শ্রমিকদের পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রদান চালু করার দাবি জানানো। সংগঠনের কাজ করার ক্ষেত্রে বাগান কর্তৃপক্ষ যে বাধা দেয় ও কূটচালের আশ্রয় নেয় তার মোকাবিলা করা। (১৬) নদী-উপনদীগুলোর জলে কোয়ারিগুলোর যানবাহনের মাধ্যমে পেট্রোল-ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে। এই জলগুলোই চা-বাগান সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে এই এলাকাগুলোর মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে বিভিন্নধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জল-দূষণের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।(১৭) চা-শ্রমিক ও প্রাক্তন চা-শ্রমিকদের তপসিলি জাতি-জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়া ও চা-শ্রমিক ও প্রাক্তন-শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান। (১৮) শিলচর মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগ পরিচালনার ক্ষেত্রে যেভাবে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে তার বিরোধিতা করা। (১৯) শিলচর মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগকে আধুনিক সরঞ্জাম, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগে রূপান্তরিত করতে হবে। (২০) সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জন্য সচেষ্ট থাকা দুষ্টচক্রদের চিহ্নিত করা, ইতিহাস বিকৃত করার ও ঘৃণার বাতাবরণ তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সচেতন থাকা ও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিশিয়্যাটিভ (নয়া দিল্লি)’র পক্ষে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের ২ সেপ্টেম্বর ‘সর্বভারতীয় ধর্মঘট’ সফল করার আহ্বান

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,


প্রেসবিজ্ঞপ্তি


   
         কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করে চলেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে গিয়ে খুচরো ব্যবসায়ে একশ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় দিয়ে ও অপ্রত্যক্ষ করের (ভ্যাট) বোঝা বাড়িয়ে ভারতীয় ক্ষুদ্র খুচরো ব্যবসায়ীদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে এমনকি উৎপাদক কৃষকরাও বিপদের সম্মুখীন হবেন। নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ নাজেহাল। সকল ক্ষেত্রে সরকারি মালিকানা উঠিয়ে দিয়ে দেশের শ্রম ও সম্পদের অবাধ লুঠের জন্য দেশি-বিদেশি বৃহৎ ব্যক্তি-মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আসামের তৈল ক্ষেত্রের অকশন বিক্রির সিদ্ধান্ত এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। প্রতিরক্ষা খাতে একশ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
নির্বাচনের আগে আসামের চা-শিল্পে কর্মরত বিশাল শ্রমিকশ্রেণির মজুরি বৃদ্ধির কথা বললেও, আসামে ক্ষমতায় আসীন হয়েই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে বসে আছে বিজেপি দল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা সুনিশ্চিত করার বদলে বাগান মালিকদেরই স্বার্থ দেখছে সরকার। বাগান শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকদের যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা তার কোনো কিছুই বাগান মালিকরা দেয় না, শ্রমিকের পিএফ-এর অর্থ জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিস্তর, কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য কোনো সরকারই আইন না মানার জন্য বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় না। শ্রম আইনকে সংশোধন করে শ্রমিক স্বার্থের উপর আঘাত করা হচ্ছে।তপসিলি জাতি/জনজাতি হিসেবে স্বীকৃতির দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে কেন্দ্র-রাজ্য সরকার এই জনগোষ্ঠীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে চলেছে।তাদের মাতৃভাষার ও জাতির স্বীকৃতি না দিয়ে এই জনগোষ্ঠীকে অপমান করে চলেছে সব দল ও সরকার।
        
             এই পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত দাবির ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর সর্বভারতীয় ধর্মঘটকে সফল করে তোলার জন্য মেহনতি মানুষ ও আমজনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

(১) খুচরো ব্যবসা ও প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় দেওয়া চলবে না।
(২) সরকারি খণ্ডকে ব্যক্তিগত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না ও আসামের তৈল ক্ষেত্রের অকশন বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
(৩) বিগত রাজ্য সরকারের জারি করা নোটিফিকেশন অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মোট মজুরি ১৭৭ টাকা ও নগদ মজুরি ১৪৩ টাকা দিতে হবে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যের মত লেবার কনফারেন্স ও সুপ্রিম কোর্টের বিধান অনুযায়ী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বর্তমান বাজার দরের ভিত্তিতে চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৪২০ টাকা ধার্য করতে হবে।
(৪) বাগান শ্রম আইনের সুষ্ঠু রূপায়ণ করতে হবে।
(৫) চা ও প্রাক্তন চা-শ্রমিকদের তপসিলি জাতি/জনজাতির স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।
(৬) চা-বাগানের জনগোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগ্রামী অভিনন্দন সহ-
ইনক্লাব জিন্দাবাদ!
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে
 শিশির দে, নুমান আহমেদ, ধরিত্রী শর্মা ও পারভেজ খসরু লস্কর কর্তৃক প্রচারিত

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন