Showing posts with label barak valley. Show all posts
Showing posts with label barak valley. Show all posts

অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা এবং নাগরিকত্ব, নাগরিক নিরাপত্তার দাবিতে গণকনভেনশন।

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , , ,










৪ (চার) মার্চ ২০১৮, গান্ধী ভবন, শিলচর।
(ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি’র উদ্যোগে এবং কোরাস ও অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের সহযোগিতায়)

বন্ধুগণ,
     
   বিগত বহু দশক থেকে আসামের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নাগরিকত্ব ও বিদেশি বিতর্ক একটা জ্বলন্ত ও নির্ধারক বিষয় হয়ে থেকেছে। সত্তরের দশকের শেষে আসামের ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক কৃষক আন্দোলনকে বিভাজিত করতে শুরু হয় আসুর উগ্রজাতীয়তাবাদী আন্দোলন৷ আসামের জনগণ বার বার সাক্ষী হয়েছেন নানা প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী গোষ্ঠী সংঘর্ষের। আজ, ২০১৮ সালে NRC নবায়নকে সামনে রেখে, উগ্রজাতীয়তাবাদ তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আবারও ময়দানে নেমেছে৷ মুমূর্ষু আর্থিক অবস্থায় পুঁজিপতি ও বৃহৎ বাজারের খিদে মেটাতে গিয়ে রাষ্ট্রের জন-কল্যাণকামী চরিত্রও লোপ পাচ্ছে। এতে গিয়ে বেকারি, উচ্ছেদ, করের বোঝা,মজুরি ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত আপামর অসমবয়সীর কাছে উগ্র জাতীয়তাবাদ জনসমর্থন হারানোর পথে। ছয় জনগোষ্ঠীর সংরক্ষণের আন্দোলন, সমস্যা জর্জরিত বোড়ো, কার্বি, ডিমাসা সহ অন্যান্য জনজাতীয় গোষ্ঠীর ক্ষোভ, বঞ্চনা নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডী-আদিবাসী চা-শ্রমিকদের সংগ্রাম, ভাটি অসমের দিকে দিকে নিপীড়নের বিরুদ্ধে ভাষিক সংখ্যালঘু জনতার প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ, আসামের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের জন্য বেসরকারিকরণ আজ অসমিয়া উগ্র জাতীয়তাবাদকে এক পতনোন্মুখ শক্তিতে পরিণত করেছে। এই পতনোন্মুখ শক্তিকে আবার মাথা তোলার আগেই শেষ ধাক্কা দিয়ে পরাস্ত করে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ মুক্ত আসাম গড়ার লক্ষ্যে সমগ্র আসামবাসীর গণতান্ত্রিক ঐক্য সুদৃঢ় করে গণ আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
          (১) আমরা দাবি করছি 
        (ক) সুষ্ঠু এনআরসি রূপায়ণ (খ) কোনো ভেদাভেদ না করে সরল নাগরিকত্ব প্রমাণ ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া (গ) সমগ্র আসামবাসীকে একই মানবিক মানদণ্ডে বিচার করা (ঘ) প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা৷
      ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের মতো আসামেও বেকারত্বের সাথে পাল্লা দিয়ে ঠিকা শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের বদলে ঠিকাদারের মাধ্যমে সস্তায় অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ হচ্ছে। এই শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়োজিত রয়েছেন ছোটো বড়ো সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ ও বিভাগে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবহণের মতো পরিসেবামূলক ক্ষেত্রে, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে। পরিকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত এই ঠিকা শ্রমিকদের অধিকাংশই আসামের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে, গ্রাম থেকে শহরে বা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করেন। এই শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা নেই, ন্যূনতম আইনি গ্যারান্টিও রূপায়ণ হয় না। নাগরিক হিসেবে তাদের সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত। ২০১৬-এর অক্টোবরে ধেমাজি জেলার গোগামুখে ভাটি অসমের ১১ জন শ্রমিককে বাংলাদেশী অভিযোগে পাকড়াও করে জেলে পুরে দেওয়া হয় ও এই কিছুদিন আগে দরং জেলার ধোলায় হাসান আলি নামে এক বাঙালি শ্রমিকের হাজত-মৃত্যুর অভিযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলিতে মহিদূল হক নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশী অভিযোগে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন ইদানীংকালে বেড়ে চলেছে।
        (২) আমরা এই শ্রমিক-কর্মচারীদের আয় ও সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার দাবি করছি।
       ঠিকা শ্রমিক (কন্ট্রাক্ট লেবার) আইনের আসাম রুল, ১৯৭১ অনুযায়ী এই আইন রূপায়ণের জন্য রাজ্যে উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করতে হয়। ঠিকাদার বা নিয়োগকারীর পক্ষে ৪ জন ও শ্রমিকদের পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪ জন প্রতিনিধি ৩ বছরের মেয়াদে এই বোর্ডে সামিল হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আসামে এই বোর্ড গঠন করা হয়নি। ফলে মালিকপক্ষ ঠিকা শ্রমিকদের প্রতি মর্জি মাফিক ব্যবহার করে এবং শ্রমিকদের মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষাজনিত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। এই আইন অনুযায়ী ঠিকাদারের নিয়োগকারী সরকারি ও বেসরকারি বিভাগ/প্রতিষ্ঠান/কোম্পানি এই আইনের রূপায়ণের ব্যাপারে ঠিকা-শ্রমিকদের মুখ্য নিয়োগদাতা হিসেবে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু বর্তমান সরকার আইনের এই বিধান উঠিয়ে দিয়ে ঠিকাদারদের যথেচ্ছাচারের উপর শ্রমিকদের ভাগ্য তুলে দিতে চাইছে।
         এই আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য
       (ক) পর্যাপ্ত বিশ্রামের স্থান (খ) ক্যান্টিন (গ)আপতকালীন চিকিৎসার ব্যবস্থা (ঘ) মুখ্য নিয়োগকর্তার উপস্থিতিতে ৭-১০ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক মজুরি প্রদান (ঙ) মজুরি রেজিস্টার, ওভারটাইম রেজিস্টার (চ) ১৯ নং ফর্ম (রুল ৭৮-২-ব) অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি স্লিপ প্রদান ইত্যাদির গ্যারান্টি প্রদান করেছে। উপরন্তু, ঠিকাদার যাতে ন্যূনতম মজুরি আইন লঙ্ঘন করতে না পারে তারজন্য মুখ্য নিয়োগকর্তা দায়বদ্ধ থাকবে।
      (৩) আমরা উপরোক্ত আইনের সঠিক রূপায়ণ ও আইন অনুযায়ী পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছি এবং মুখ্য নিয়োগকারীর দায়বদ্ধতা উঠিয়ে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছি।
       এই তিন দফা দাবির ভিত্তিতে আমরা আগামী ৪ মার্চ, বেলা ১১টায় শিলচর গান্ধী ভবনে এক গণ-কনভেনশনে মিলিত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। 
_________________________________________
ফোরাম ফোর সোশ্যাল হারমনির পক্ষে- অরিন্দম দেব, ফারুক লস্কর।
কোরাস-এর পক্ষে - নীলকান্ত দাস, স্নিগ্ধা নাথ, আজিম বড়ভূঁইয়া।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে - ধরিত্রী শর্মা, নোমান আহমেদ, পারভেজ লস্কর।

⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭⧭



অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক সুৰক্ষা আৰু নাগৰিকত্ব, নাগৰিক নিৰাপত্তাৰ দাবীত গণ কনভেনশ্যন।
৪ (চাৰি) মার্চ ২০১৮, গান্ধী ভৱন, শিলচৰ।
('ফ'ৰাম ফৰ ছ'চিয়েল হাৰমনি’ৰ উদ্যোগত, কোৰাছ আৰু অসম মজুৰি শ্রমিক ইউনিয়নৰ সহযোগিতাত)



বন্ধুসকল,
   
(C)Image:ছবি
বিগত বহু দশকৰ পৰা অসমৰ সামাজিক আৰু ৰাজনৈতিক ক্ষেত্রখনত নাগৰিকত্ব আৰু বিদেশী বিতর্কটো এটা জ্বলন্ত আৰু নির্ধাৰক বিষয় হিচাপে পৰিগণিত হৈ আহিছে । সত্তৰৰ দশকৰ শেষৰ পিনে অসমৰ ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক-খেতিয়ক আন্দোলনক বিভাজিত কৰিবৰ বাবে আছুৰ উগ্রজাতীয়তাবাদী আন্দোলন আৰম্ভ হয়৷ অসমৰ জনগণ বাৰে বাৰে নানা প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন আৰু ৰক্তক্ষয়ী গোষ্ঠী সংঘর্ষৰ চিকাৰ হৈ আহিছে। আজি, ২০১৮ চনত NRC নৱীকৰণৰ গইনা লৈ, উগ্রজাতীয়তাবাদে তাৰ অস্তিত্ব টিকাই ৰাখিবলৈ আকৌ পথাৰত নামিছে ৷ মৃত্যুমুখী আর্থিক অৱস্থাত পুঁজিপতি আৰু বৃহৎ বজাৰৰ ভোক মিটাবলৈ ৰাষ্ট্রৰ জনকল্যাণকামী চৰিত্রও লোপ পাবলৈ লৈছে। ফলস্বৰূপে বেকাৰি, উচ্ছেদ, কৰৰ বোজা, মজুৰি ইত্যাদি সমস্যাত জর্জৰিত সাধাৰণ অসমবাসীৰ ওচৰত উগ্রজাতীয়তাবাদৰ জনসমর্থন হেৰাবলৈ আৰম্ভ কৰিছে। ছয় জনগোষ্ঠীৰ সংৰক্ষণৰ আন্দোলন, সমস্যা জর্জৰিত বড়ো, কার্বি, ডিমাছা সহিতে অন্যান্য জনজাতীয় গোষ্ঠীৰ ক্ষোভ, বঞ্চনা-নিপীড়নৰ বিৰূদ্ধে সংগ্রাম, ঝাড়খণ্ডী-আদিবাসী চাহ শ্রমিকসকলৰ সংগ্রাম, নামনি অসমৰ কেউদিশে নিপীড়নৰ বিৰুদ্ধে ভাষিক সংখ্যালঘু জনতাৰ প্রতিৰোধৰ বহিঃপ্রকাশ, অসমৰ প্রাকৃতিক সম্পদ লুটৰ বাবে কৰা বেচৰকাৰীকৰণে আজি অসমীয়া উগ্রজাতীয়তাবাদক এক পতনোন্মুখ শক্তিত পৰিণত কৰিছে। এই পতনোন্মুখ শক্তিয়ে আকৌ মূৰ দাঙি উঠাৰ আগতেই ইয়াক শেষ ধাক্কা দি পৰাস্ত কৰি উগ্রজাতীয়তাবাদ আৰু সাম্প্রদায়িকতাবাদ-মুক্ত অসম গঢ়াৰ লক্ষ্যৰে সমগ্র অসমবাসীৰ গণতান্ত্রিক ঐক্য সুদৃঢ় কৰি গণ আন্দোলনৰ পিনে আগ বঢ়াই লৈ যাব লাগিব।
           (১) আমি দাবী জনাওঁ -
       (ক) শুদ্ধ এনআৰচি ৰূপায়ণ (খ) কোনো প্রকাৰ ভেদাভেদ নকৰাকৈ সৰল নাগৰিকত্ব প্রমাণ আৰু ভেৰিফিকেশ্যন প্রক্রিয়া (গ) সমগ্র অসমবাসীক একেই মানৱিক মানদণ্ডত বিচাৰ কৰা (ঘ) প্রতিটো জনগোষ্ঠীৰ সমান অধিকাৰ আৰু সমান মর্যাদা৷
        ভাৰতবর্ষৰ বিভিন্ন ৰাজ্যৰ দৰে অসমতো বেকাৰত্বৰ লগত, ঠিকা শ্রমিক-কর্মচাৰীৰ সংখ্যা দিনে দিনে বাঢ়ি গৈ আছে। চৰকাৰী আৰু বেচৰকাৰী ক্ষেত্রত স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগৰ সলনি ঠিকাদাৰৰ মাধ্যমেৰে সস্তাত অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ কৰা হৈ আছে। এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকল নিয়োজিত হৈ আছে সৰু-ডাঙৰ চৰকাৰী-বেচৰকাৰী উদ্যোগ আৰু বিভাগত, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পৰিবহণৰ দৰে পৰিসেৱামূলক ক্ষেত্রত, নির্মাণ শ্রমিক হিচাপে বিভিন্ন পৰিকাঠামোগত ক্ষেত্রত। পৰিকাঠামো নির্মাণত নিযুক্ত এই ঠিকা শ্রমিকসকলৰ অধিকাংশই অসমৰ এক অঞ্চলৰ পৰা আন অঞ্চলৈ, গাঁৱৰ পৰা চহৰলৈ নাইবা এক জিলাৰ পৰা আন জিলাত গৈ কাম কৰে। এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক সুৰক্ষা নাই, ন্যূনতম আইনী গেৰান্টিও ৰূপায়ণ নহয়। নাগৰিক হিচাপে তেওঁলোকৰ সামাজিক নিৰাপত্তাও বিঘ্নিত। ২০১৬ৰ অক্টোবৰ মাহত ধেমাজি জিলাৰ গোগামুখত নামনি অসমৰ ১১জন শ্রমিকক বাংলাদেশীৰ অভিযোগত ধৰি জে'লত ভৰাই দিয়া হয়। কেইদিনমানৰ আগতে দৰং জিলাৰ ধোলাত হাছান আলী নামৰ এজন বাঙালী শ্রমিকৰ হাজোতত মৃত্যু হোৱাৰ অভিযোগৰ বিৰুদ্ধে বিক্ষোভ জনোৱা ৰাইজৰ ওপৰত আৰক্ষীয়ে গুলি চলালে আৰু মহিদুল হক নামৰ এজন লোকৰ মৃত্যু হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশীৰ অভিযোগত শ্রমিকসকলৰ ওপৰত নির্যাতন বাঢ়ি গৈ আছে।
       (২) আমি এই শ্রমিক-কর্মচাৰীসকলৰ আয় আৰু সামাজিক নিৰাপত্তাৰ লগতে নাগৰিক অধিকাৰৰ দাবী জনাওঁ।
     ঠিকা শ্রমিক (কনট্রেক্ট লেবাৰ) আইনৰ আছাম ৰুল, ১৯৭১ অনুসাৰে এই আইন ৰূপায়ণৰ বাবে ৰাজ্যত উপদেষ্টা ব'র্ড গঠন কৰিব লাগে। ঠিকাদাৰ অথবা নিয়োগকাৰীৰ পক্ষত চাৰি (৪) জন আৰু শ্রমিকসকলৰ পক্ষত বিভিন্ন ইউনিয়নৰ চাৰি (৪) জন প্রতিনিধি ৩ বছৰৰ ম্যাদত এই ব'র্ডত চামিল হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়জুৰি অসমত এই ব'র্ড গঠন কৰা হোৱা নাই। ফলস্বৰূপে মালিকপক্ষই ঠিকা শ্রমিকসকলক নিজৰ মর্জি অনুসৰি ব্যৱহাৰ কৰে আৰু শ্রমিকসকলক মজুৰি আৰু সামাজিক সুৰক্ষাজনিত সকলো ধৰণৰ সুযোগ সুবিধাৰ পৰা বঞ্চিত কৰি থাকে। এই আইন অনুসৰি ঠিকাদাৰৰ নিয়োগকাৰী চৰকাৰী আৰু বেচৰকাৰী বিভাগ/প্রতিষ্ঠান/কোম্পানী এই আইনৰ ৰূপায়ণৰ বিষয়ে ঠিকা-শ্রমিকসকলৰ মুখ্য নিয়োগকর্তা হিচাপে দায়বদ্ধ থাকে। কিন্তু বর্তমানৰ চৰকাৰে আইনৰ এই বিধান উঠাই দি ঠিকাদাৰসকলৰ যথেচ্ছাচাৰৰ ওপৰত শ্রমিকসকলৰ ভাগ্য গতাই দিব বিচাৰিছে।
      এই আইন অনুসৰী শ্রমিকসকলৰ বাবে
   (ক) পর্যাপ্ত বিশ্রামৰ স্থান (খ) কেন্টিন (গ) আপদকালীন চিকিৎসাৰ বাবে ব্যৱস্থা (ঘ) মুখ্য নিয়োগকর্তাৰ উপস্থিতিত ৭-১০ দিনৰ ভিতৰত সাপ্তাহিক মজুৰি প্রদান (ঙ) মজুৰি ৰেজিস্টাৰ, অভাৰটাইম ৰেজিস্টাৰ (চ) ১৯ নং ফর্ম (ৰুল ৭৮-২-ব) অনুসৰি শ্রমিকসকলক মজুৰি স্লিপ প্রদান ইত্যাদিৰ গেৰান্টি প্রদান কৰিছে। তদুপৰি, ঠিকাদাৰে যাতে ন্যূনতম মজুৰি আইন লঙ্ঘন কৰিব নোৱাৰে তাৰ বাবে মুখ্য নিয়োগকর্তা দায়বদ্ধ থাকিব।
    (৩) আমি উপৰোক্ত আইনৰ সঠিক রূপায়ণ আৰু আইন অনুযায়ী পৰামর্শদাতা ব'র্ড গঠনৰ দাবী জনাইছো আৰু মুখ্য নিয়োগকাৰীৰ দায়বদ্ধতা উঠাই দিয়াৰ কেন্দ্র চৰকাৰৰ প্রস্তাৱৰ বিৰোধিতা কৰিছো।
   এই তিনি দফা দাবীৰ ভিত্তিত আমি অহা ৪ মার্চ, দিনৰ ১১ বজাত শিলচৰ গান্ধী ভৱনত এক গণ-কনভেনশ্যনত মিলিত হোৱাৰ আহ্বান জনাইছো। 

_________________________________________
'ফ'ৰাম ফৰ ছ'চিয়েল হাৰমনি'ৰ হৈ - অৰিন্দম দেব, ফাৰূক লস্কৰ।
কোৰাছ-ৰ হৈ - নীলকান্ত দাস, স্নিগ্ধা নাথ, আজিম বড়ভুইয়া।
অসম মজুৰি শ্রমিক ইউনিয়নৰ হৈ - ধৰিত্রী শর্মা, নুমান আহমেদ, পাৰভেজ লস্কৰ।



বিভেদ ও ঘৃণামুক্ত নতুন সমাজ গড়ুন ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমোনি’র আবেদন

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , ,




সুধী জনসাধারণ,
আপনার পরিবারে কি কেউ অসুস্থ হয়েছে? জেনে রাখবেন, ঔষধের দাম ও বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়েই বহু পরিবারের সদস্যদের পেটে গামছা বাঁধতে হচ্ছে এবং দেনার দায়ে পড়তে হচ্ছে। কারণ আমাদের দেশের সরকার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে ও লাগামছাড়াভাবে ঔষধের দাম বাড়তে দিয়ে ব্যক্তি মালিকদের অঢেল মুনাফার বন্দোবস্ত করে দিচ্ছে। বহুজাতিক বিদেশী কোম্পানি বিভিন্ন নামে ঔষধের বাজার দখল করে নিচ্ছে। তাতে আমাদের দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ চিকিৎসার সুযোগ হারাচ্ছে। আপনি কি আপনার সন্তানদের উচ্চ-শিক্ষা দিতে চান? প্রাইভেট শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো ওঁত পেতে বসে আছে অভিভাবকদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আগে যাচাই করে নিতে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে সেরকম লোকের সংখ্যা ৫ থেকে ১০ শতাংশ, বাকী ৯০% লোকের উচ্চ-শিক্ষার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষাও হচ্ছে সংকুচিত, কারণ সরকার শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ ক্রমাগত কমিয়ে চলেছে। আপনি বা আপনার সন্তানের কি রুজি-রোজগার চাই? তাহলেই হয়েছে, সরকারি চাকরি নেই, কারখানা উৎপাদন তলানিতে, কৃষি বিপর্যস্ত, এনরেগা খাতেও অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে সরকার। ঠিকাদার কোম্পানির অধীনে সস্তা মজুরির কাজ বা কম বেতনের আই-টি চাকরির সন্ধানে হিড়িক পড়েছে, অধিকাংশেরই কাজ জুটছে না। বেকারত্ব বেড়ে চলেছে ক্রমাগত। সস্তায় মজুর পেতে ও জমির দখল নিতে শ্রম আইন ও ভূমি আইন সংশোধন করা হচ্ছে।
            আমাদের দেশ তথা গোটা বিশ্ব এক সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব বাজার, বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসায়িক ফাঁদ, তীব্র শ্রম শোষণ, লাগামছাড়া সম্পদ লুণ্ঠনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বেড়াজালে প্রতিটি দেশ একে অপরের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। ভারতবর্ষও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। চরম অর্থনৈতিক সংকটে কোটি কোটি মানুষের জীবনে নেমে আসছে বিপর্যয়, বাড়ছে অসাম্য ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা। উন্নয়ন ও বিকাশ মানে বহুজাতিক কর্পোরেট লুটেরাদের মুনাফা, সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে নাটকীয় ভঙ্গিতে গল্প শোনান যে অর্যাুকল, ওয়ালমার্ট, মসান্টো, নভার্টিস, ফেসবুকের মালিকদের মত বিদেশি ধনকুবেররা কিংবা রিলায়্যান্সের মত বৃহৎ কোম্পানিরা যত বেশি মুনাফা করবে, ততই জলের মত চুঁইয়ে চুঁইয়ে নীচের তলার সাধারণ মানুষের কাছে নাকি অর্থ আসবে। কিন্তু এই জল যে অনেক উপরেই শুকিয়ে যায়, সাধারণ মানুষের কাছে কানাকড়িও আসে না তা সবাই এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। আম-জনতার ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অর্থনীতি বিপর্যস্ত এবং ফলে রাজনীতিও বিপর্যস্ত।
             এই বিপর্যস্ত রাজনীতিই ছড়ায় ধর্ম-ভাষা-বর্ণের নামে ঘৃণা, সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে বিভেদ। এর প্রতিরোধে জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত জনগণের জন্য - জনগণের দ্বারা জনগণেরসরকারের বদলে এখন সরকার মানে ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স, মিনিমাম গভর্নমেন্ট’-এর শ্লোগানের আড়ালে কম জনকল্যাণ, বেশি শাসন। রাষ্ট্রের শাসন মানে জনগণের স্বাধীনতা হরণ করা, অন্ধ মতবাদের চোখ রাঙানো, ভিন্ন মত ভিন্ন আচার ভিন্ন সংস্কৃতি সহ সব ধরনের বিবিধতার গলা টিপে ধরা। এরকম প্রাণহীন, সন্ত্রস্ত ও পঙ্গু সমাজ আমরা চাই না, আমরা চাই না গোটা সমাজের উপর মুষ্টিমেয় কিছু লোকের শাসন-শোষণ।
জার্মানিতে হিটলার যা করেছেন বা রাশিয়াতে স্তালিন, আমরা এধরনের কোনো সমাজ চাই না। মতান্ধ হুকুমবাদ তথা কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সময় থাকতেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
             আসুন, সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ, কর্তৃত্ববাদ ও লাগামছাড়া বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে ও সবার জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য-রোজগারের লক্ষ্যে এক নতুন সমাজ তথা রাষ্ট্র গড়ার শপথ নিতে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমোনিতে শামিল হই।
ফোরামের প্রচার সেল-এর পক্ষে কৃশানু ভট্টাচার্য, সেখাওত মজুমদার ও বিশ্বজিৎ দাশ কর্তৃক প্রচারিত ও শিলচর সানগ্রাফিকস থেকে মুদ্রিত

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির বুলেটিন – ৩ (খসড়া)

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , , ,



মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপিতে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির সমীক্ষক দলের বৈঠক
একটি অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন


           

জানুয়ারি, ২০১৬ বেলা ৩ টায় ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির সমীক্ষক দল হাইলাকান্দি জেলার লালা শহর থেকে ৫/৬ কিঃমিঃ দূরে মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপিতে পৌঁছয়, লালা ও কাটলিছড়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই জিপি অবস্থিত। দুর্ভাগ্যক্রমে আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। এই শীতের মরসুমেও মতবিনিময় সভার আগে ও পরে অঝোরে বৃষ্টি হয়, এমনকি সেখান থেকে শিলচরে ফেরার প্রায় ৫০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিতে শিলাবৃষ্টির তোপে খানিকক্ষণ নিরাপদ আশ্রয়ে টিমের গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। দু-পাশে চা-বাগান ও গ্রামগুলিকে রেখে নব্য সেজে ওঠা কুচকুচে কালো পি-ডবলিউ-ডি রাস্তাকে বৃষ্টির জল ধুয়েমুছে সাফ করে আমাদের মত যাত্রীদেরকে যখন আবাহন করছিল, আমাদের নাগরিক মনকে যখন করে তুলছিল রোমান্টিক, ঠিক তখনই হয়ত রাস্তার পাশে খড়কুটোর ঘরে কোন এক চা-শ্রমিক মা তার কালো শিশুটিকে ছাদের ফোটা দিয়ে আসা বৃষ্টির জলের ও কিনকিনে ঠাণ্ডার মারণ ছোবল থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে। সে যাই হোক, ভূমিকা বাদ দিয়ে এবার মোদ্দা কথায় আসা যাক।
     
         
  মতবিনিময় সভার স্থান যদিও ছিল মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপি, কিন্তু সভায় আসলে উপস্থিত হোন আশপাশের অনেকগুলি জিপি ও দূরবর্তী স্থানের কিছু প্রতিনিধিরা। এরকম সভায় কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন, বিশেষকরে প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য ফোরামের টিম যখন গ্রামের অভ্যন্তরে ঘুরে বেড়াতে অক্ষম হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই জিপির তথ্য ছাড়াও আশপাশের অনেক ঘটনার কথা উঠে আসে এই আলাপচারিতায়। এই আলোচনা থেকে সমীক্ষক দলের মনে হয় যে হাইলাকান্দি জেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা গোটা জেলার জনমানসেই শুধু প্রভাব ফেলেনি আর্থিক-সামাজিক বিন্যাসেও প্রভাব ফেলেছে এরকম ঘটনা, সামগ্রিক জনবিন্যাস, অভ্যন্তরীণ আর্থিক-সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে এক বিশদ প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাই এই আলোচনা থেকে যেসব আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক তথ্য উঠে এসেছে সেগুলি আরও গভীরে যাচাই না করে তাৎক্ষণিক একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা থেকে আপাতত: বিরত থাকাই শ্রেয় বিবেচিত হয়। এই দিক থেকে এদিনের আলোচনার এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ এই আলোচনা ফোরাম টিমকে হাইলাকান্দি জেলার সামাজিক-রাজনীতিকে আরও গভীরে যাচাই করতে আগ্রহান্বিত করে তুলেছে।
          তবে সেদিনের আলোচনার বিশদ তথ্য এখানে তুলে না ধরলেও, কিছু সাধারণ তথ্য এখানে তুলে ধরছি। ১৯৭৯-৮০ সালে কাটলিছড়া এলাকায় এক ভয়াবহ দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক লস্কর এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে কাটলিছড়া এলাকার অধীর নাথ জানান, সে সময় লবণ-কেরোসিনের খুব সংকট দেখা দেয়। সেই লবণ-কেরোসিনের বণ্টনকে কেন্দ্র করে সমবায় সমিতির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত ইউনিস খান চৌধুরীকে অপমানিত করার মত কোন এক ঘটনা ঘটে। প্রয়াত চৌধুরী ছিলেন সে এলাকার সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৭৯ সালের সম্ভবত জুন-জুলাই মাসে তাঁর সমর্থনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এক ঐক্যবদ্ধ মিছিল বেরোয়। এই সময় জনৈক বিভূতি দেবের বাড়িতে কেউ বা কারা কিছু ইট-পাটকেল ছোড়ে, ইউনুস খান এই ঘটনার প্রতিবাদও করেন। কিন্তু মিছিল যখন কাটলিছড়া বাগান-থানা হয়ে ফিরে গিয়ে কাটাখাল নদী পার হয় তখনই সাম্প্রদায়িক রূপ পরিগ্রহ করে, কেন-কীভাবে তা আরও বিশদভাবে জানা প্রয়োজন। আব্দুল মালিক লস্কর ও অধীর নাথ জানান যে এই দাঙ্গায় ময়না মোক্তারের দুই ছেলে সপু ও তপুকে হত্যা করা হয়। ইউনুস খানের মত ময়না মোক্তারও ছিলেন এই এলাকার মুসলিম জমিদার (আনুমানিক ৭০০/৮০০ বিঘা জমির মালিক) ও প্রভাব প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি এবং সেই সুবাদে তার ছেলেদেরও ছিল এলাকায় দাপট। সপু-তপু দুই ভাইয়ের হত্যা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, কারুর মতে তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আবার পুলিশের গুলিতে তারা নিহত হোন বলে ভিন্ন মতও রয়েছে। তবে সেই ঘটনায় দীননাথপুর চা-বাগানের ৩ জন মুসলিম শ্রমিক পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছেন বলে জানান অধীর নাথ। এই দাঙ্গার নির্ভরযোগ্য বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা এবং দাঙ্গার পেছনে অন্তর্নিহিত আর্থ-সামাজিক কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা জরুরি। তবে এই দাঙ্গার পর কাটলিছড়া বাজারে মুসলিম ব্যবসায়ী যারা ব্যবসা করতেন তাদের প্রায় সবাই ধীরে ধীরে সরে আসেন এবং সাহাবাদ ও লালা এলাকায় চলে আসেন। সাহাবাদ বাজার সেই সময়েই গড়ে ওঠে। আব্দুল মালিক লস্কর বলেন যে কাটলিছড়া বাজার মসজিদে আজান দিতে দেওয়া হয় না, হিফজুর রহমান এই তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, আবার সালা উদ্দিনের মতে সেখানে মুসলাম না থাকায় সম্ভবত আজান দেওয়া হয় না। যে জিপিতে সভা বসেছিল সেই জিপিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোক বাস করলেও সেই দাঙ্গার কোন প্রভাব এই এলাকায় পড়েনি। তার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল মালিক লস্কর জানান যে এই এলাকায় সবাই স্থানীয় এবং মুসলিম, এসসি, অবিসি সম্প্রদায়ের লোক। সালা উদ্দিন, রেকিব উদ্দিন, সাজ্জাদ আলি লস্কর বলেন যে এই এলাকায় হিন্দু-মুসলমানে সামাজিক মেলামেশার পরিবেশ ও সম্প্রীতি রয়েছে এবং কোনধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনার নজির নেই, তবে অতীতে টান্টুর মোকামকে কেন্দ্র করেই হোক বা সাধারণভাবে এ অঞ্চলে যৌথ সামাজিক আনন্দ উৎসবের যেসব অনুষ্ঠান ছিল তা এখন আর অবশিষ্ট নেই, দৈনন্দিন মেলামেশা মূলত বাজার ও পারিবারিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রীক।
     
      
   বিভিন্ন কথোপকথন থেকে সমীক্ষক দলের ধারণা জন্মে যে এই দাঙ্গার পেছনে রয়েছে ধর্ম-বর্ণ-জমিকে কেন্দ্র করে উৎপাদন সম্পর্ক এবং সর্বোপরি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান থেকে আসা উচ্চবর্ণ হিন্দু পরিবারদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের সাথে স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম পরিবারদের সংঘাতের এক জটিল আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিক সংমিশ্রণের পরিণতি। এটা ফোরাম টিমের শুধু ধারণাই, এনিয়ে আরও গভীরে পর্যালোচনা করা জরুরি। পর্যালোচনা করা জরুরি ১৯৯০ সালের হাইলাকান্দি দাঙ্গার ঘটনা নিয়েও। সত্তরোর্ধ সাজ্জাদ আলি লস্কর বলেন একষট্টির ভাষা আন্দোলনের সময় অসমীয়া ভাষার দাবিতে তাঁরা মিছিল করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পারেন যে তিনি তো অসমীয়া ভাষা এক লাইনও বলতে পারেন না। সুতরাং সে সময়কার ঘটনাবলীও নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখা জরুরি। এই কাজগুলি করা অত্যন্ত জরুরি এই কারণেই যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জেলা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত ধারণা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মননে বিরাজ করছে এবং হাইলাকান্দি জেলায় হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে সুদৃঢ় করতে উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অতি-সক্রিয় রয়েছে।
      
   
  এই জিপি সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা গেছে উপস্থিতিদের বয়ান থেকে। তবে ভাল করে যাচাই না করে সবগুলি তথ্য এখানে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকা গেল। শুধুমাত্র গুটিকয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। জবরুল ইসলাম জানান যে এই জিপি-তে আনুমানিক ৬/৭ হাজার ভোটারের মধ্যে পাঁচশত থেকে এক হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছে। জমির মালিকানা রয়েছে ৭০% মানুষের। গড়ে ১ থেকে ২ বিঘার জমি মালিকানা। ৩%-এর ৫ বিঘার উপর জমি রয়েছে, আনুমানিক ১০ টি পরিবারের রয়েছে ১০ বিঘার উপর জমি। সবাই পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করেন। এই ৭০%-এর মধ্যে ১৫%-এর ক্ষুদ্র ব্যবসায় আছে ও দুইজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া ৫% লোক ৩য়-৪র্থ শ্রেণি ও শিক্ষকতার (অধিকাংশ প্রাইমারী স্কুলের) চাকরীর সাথে যুক্ত। বাকী ৩০% লোক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরোপুরি দিনমজুর। চাষের জমি দুই ফসলি, অসংখ্য ফিসারি রয়েছে এ অঞ্চলে। জমি না থাকায় এ অঞ্চলের মৎস্যজীবী মাইমাল সম্প্রদায়ের মানুষ মৎস্য চাষের সাথে যুক্ত থাকলেও ফিসারির মালিকানা প্রায় নেই। এলাকায় একটি ক্যানেল ইরিগেশনের ব্যবস্থা থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ কাটাখাল নদী থেকে বা টিউবওয়েলের মাধ্যমে ইরিগেশনের ব্যবস্থা করলে চাষবাস ও ফিসারির প্রভূত উন্নতি হতে পারত। পাশের নিজবার্ণারপুর-সর্বানন্দপুর জিপিতে তারা-পাম্পগুলি অকেজো হয়ে পরে থাকায় ভীষণ পানীয় জলের সংকট এবং এই জিপির বহু এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগহীন।
উপরোক্ত তথ্যগুলিকে আরও গভীরে যাচাই করার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার ইচ্ছা নিয়ে ফোরামের সমীক্ষক দল শিলচর ফিরে আসে।

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন