Showing posts with label people's initiative. Show all posts
Showing posts with label people's initiative. Show all posts

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির বুলেটিন – ৩ (খসড়া)

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , , ,



মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপিতে ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির সমীক্ষক দলের বৈঠক
একটি অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন


           

জানুয়ারি, ২০১৬ বেলা ৩ টায় ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনির সমীক্ষক দল হাইলাকান্দি জেলার লালা শহর থেকে ৫/৬ কিঃমিঃ দূরে মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপিতে পৌঁছয়, লালা ও কাটলিছড়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই জিপি অবস্থিত। দুর্ভাগ্যক্রমে আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। এই শীতের মরসুমেও মতবিনিময় সভার আগে ও পরে অঝোরে বৃষ্টি হয়, এমনকি সেখান থেকে শিলচরে ফেরার প্রায় ৫০ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিতে শিলাবৃষ্টির তোপে খানিকক্ষণ নিরাপদ আশ্রয়ে টিমের গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। দু-পাশে চা-বাগান ও গ্রামগুলিকে রেখে নব্য সেজে ওঠা কুচকুচে কালো পি-ডবলিউ-ডি রাস্তাকে বৃষ্টির জল ধুয়েমুছে সাফ করে আমাদের মত যাত্রীদেরকে যখন আবাহন করছিল, আমাদের নাগরিক মনকে যখন করে তুলছিল রোমান্টিক, ঠিক তখনই হয়ত রাস্তার পাশে খড়কুটোর ঘরে কোন এক চা-শ্রমিক মা তার কালো শিশুটিকে ছাদের ফোটা দিয়ে আসা বৃষ্টির জলের ও কিনকিনে ঠাণ্ডার মারণ ছোবল থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে। সে যাই হোক, ভূমিকা বাদ দিয়ে এবার মোদ্দা কথায় আসা যাক।
     
         
  মতবিনিময় সভার স্থান যদিও ছিল মাহমদপুর-জয়কৃষ্ণপুর জিপি, কিন্তু সভায় আসলে উপস্থিত হোন আশপাশের অনেকগুলি জিপি ও দূরবর্তী স্থানের কিছু প্রতিনিধিরা। এরকম সভায় কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন, বিশেষকরে প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য ফোরামের টিম যখন গ্রামের অভ্যন্তরে ঘুরে বেড়াতে অক্ষম হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই জিপির তথ্য ছাড়াও আশপাশের অনেক ঘটনার কথা উঠে আসে এই আলাপচারিতায়। এই আলোচনা থেকে সমীক্ষক দলের মনে হয় যে হাইলাকান্দি জেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা গোটা জেলার জনমানসেই শুধু প্রভাব ফেলেনি আর্থিক-সামাজিক বিন্যাসেও প্রভাব ফেলেছে এরকম ঘটনা, সামগ্রিক জনবিন্যাস, অভ্যন্তরীণ আর্থিক-সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে এক বিশদ প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাই এই আলোচনা থেকে যেসব আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক তথ্য উঠে এসেছে সেগুলি আরও গভীরে যাচাই না করে তাৎক্ষণিক একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা থেকে আপাতত: বিরত থাকাই শ্রেয় বিবেচিত হয়। এই দিক থেকে এদিনের আলোচনার এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ এই আলোচনা ফোরাম টিমকে হাইলাকান্দি জেলার সামাজিক-রাজনীতিকে আরও গভীরে যাচাই করতে আগ্রহান্বিত করে তুলেছে।
          তবে সেদিনের আলোচনার বিশদ তথ্য এখানে তুলে না ধরলেও, কিছু সাধারণ তথ্য এখানে তুলে ধরছি। ১৯৭৯-৮০ সালে কাটলিছড়া এলাকায় এক ভয়াবহ দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক লস্কর এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে কাটলিছড়া এলাকার অধীর নাথ জানান, সে সময় লবণ-কেরোসিনের খুব সংকট দেখা দেয়। সেই লবণ-কেরোসিনের বণ্টনকে কেন্দ্র করে সমবায় সমিতির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত ইউনিস খান চৌধুরীকে অপমানিত করার মত কোন এক ঘটনা ঘটে। প্রয়াত চৌধুরী ছিলেন সে এলাকার সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৯৭৯ সালের সম্ভবত জুন-জুলাই মাসে তাঁর সমর্থনে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের এক ঐক্যবদ্ধ মিছিল বেরোয়। এই সময় জনৈক বিভূতি দেবের বাড়িতে কেউ বা কারা কিছু ইট-পাটকেল ছোড়ে, ইউনুস খান এই ঘটনার প্রতিবাদও করেন। কিন্তু মিছিল যখন কাটলিছড়া বাগান-থানা হয়ে ফিরে গিয়ে কাটাখাল নদী পার হয় তখনই সাম্প্রদায়িক রূপ পরিগ্রহ করে, কেন-কীভাবে তা আরও বিশদভাবে জানা প্রয়োজন। আব্দুল মালিক লস্কর ও অধীর নাথ জানান যে এই দাঙ্গায় ময়না মোক্তারের দুই ছেলে সপু ও তপুকে হত্যা করা হয়। ইউনুস খানের মত ময়না মোক্তারও ছিলেন এই এলাকার মুসলিম জমিদার (আনুমানিক ৭০০/৮০০ বিঘা জমির মালিক) ও প্রভাব প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি এবং সেই সুবাদে তার ছেলেদেরও ছিল এলাকায় দাপট। সপু-তপু দুই ভাইয়ের হত্যা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে, কারুর মতে তাদেরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আবার পুলিশের গুলিতে তারা নিহত হোন বলে ভিন্ন মতও রয়েছে। তবে সেই ঘটনায় দীননাথপুর চা-বাগানের ৩ জন মুসলিম শ্রমিক পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছেন বলে জানান অধীর নাথ। এই দাঙ্গার নির্ভরযোগ্য বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা এবং দাঙ্গার পেছনে অন্তর্নিহিত আর্থ-সামাজিক কারণসমূহ বিশ্লেষণ করা জরুরি। তবে এই দাঙ্গার পর কাটলিছড়া বাজারে মুসলিম ব্যবসায়ী যারা ব্যবসা করতেন তাদের প্রায় সবাই ধীরে ধীরে সরে আসেন এবং সাহাবাদ ও লালা এলাকায় চলে আসেন। সাহাবাদ বাজার সেই সময়েই গড়ে ওঠে। আব্দুল মালিক লস্কর বলেন যে কাটলিছড়া বাজার মসজিদে আজান দিতে দেওয়া হয় না, হিফজুর রহমান এই তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, আবার সালা উদ্দিনের মতে সেখানে মুসলাম না থাকায় সম্ভবত আজান দেওয়া হয় না। যে জিপিতে সভা বসেছিল সেই জিপিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোক বাস করলেও সেই দাঙ্গার কোন প্রভাব এই এলাকায় পড়েনি। তার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল মালিক লস্কর জানান যে এই এলাকায় সবাই স্থানীয় এবং মুসলিম, এসসি, অবিসি সম্প্রদায়ের লোক। সালা উদ্দিন, রেকিব উদ্দিন, সাজ্জাদ আলি লস্কর বলেন যে এই এলাকায় হিন্দু-মুসলমানে সামাজিক মেলামেশার পরিবেশ ও সম্প্রীতি রয়েছে এবং কোনধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনার নজির নেই, তবে অতীতে টান্টুর মোকামকে কেন্দ্র করেই হোক বা সাধারণভাবে এ অঞ্চলে যৌথ সামাজিক আনন্দ উৎসবের যেসব অনুষ্ঠান ছিল তা এখন আর অবশিষ্ট নেই, দৈনন্দিন মেলামেশা মূলত বাজার ও পারিবারিক অনুষ্ঠানকেন্দ্রীক।
     
      
   বিভিন্ন কথোপকথন থেকে সমীক্ষক দলের ধারণা জন্মে যে এই দাঙ্গার পেছনে রয়েছে ধর্ম-বর্ণ-জমিকে কেন্দ্র করে উৎপাদন সম্পর্ক এবং সর্বোপরি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান থেকে আসা উচ্চবর্ণ হিন্দু পরিবারদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের সাথে স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম পরিবারদের সংঘাতের এক জটিল আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিক সংমিশ্রণের পরিণতি। এটা ফোরাম টিমের শুধু ধারণাই, এনিয়ে আরও গভীরে পর্যালোচনা করা জরুরি। পর্যালোচনা করা জরুরি ১৯৯০ সালের হাইলাকান্দি দাঙ্গার ঘটনা নিয়েও। সত্তরোর্ধ সাজ্জাদ আলি লস্কর বলেন একষট্টির ভাষা আন্দোলনের সময় অসমীয়া ভাষার দাবিতে তাঁরা মিছিল করেছেন, কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পারেন যে তিনি তো অসমীয়া ভাষা এক লাইনও বলতে পারেন না। সুতরাং সে সময়কার ঘটনাবলীও নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখা জরুরি। এই কাজগুলি করা অত্যন্ত জরুরি এই কারণেই যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জেলা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভ্রান্ত ধারণা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত মননে বিরাজ করছে এবং হাইলাকান্দি জেলায় হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে সুদৃঢ় করতে উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী অতি-সক্রিয় রয়েছে।
      
   
  এই জিপি সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা গেছে উপস্থিতিদের বয়ান থেকে। তবে ভাল করে যাচাই না করে সবগুলি তথ্য এখানে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকা গেল। শুধুমাত্র গুটিকয় তথ্য এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। জবরুল ইসলাম জানান যে এই জিপি-তে আনুমানিক ৬/৭ হাজার ভোটারের মধ্যে পাঁচশত থেকে এক হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছে। জমির মালিকানা রয়েছে ৭০% মানুষের। গড়ে ১ থেকে ২ বিঘার জমি মালিকানা। ৩%-এর ৫ বিঘার উপর জমি রয়েছে, আনুমানিক ১০ টি পরিবারের রয়েছে ১০ বিঘার উপর জমি। সবাই পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করেন। এই ৭০%-এর মধ্যে ১৫%-এর ক্ষুদ্র ব্যবসায় আছে ও দুইজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া ৫% লোক ৩য়-৪র্থ শ্রেণি ও শিক্ষকতার (অধিকাংশ প্রাইমারী স্কুলের) চাকরীর সাথে যুক্ত। বাকী ৩০% লোক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরোপুরি দিনমজুর। চাষের জমি দুই ফসলি, অসংখ্য ফিসারি রয়েছে এ অঞ্চলে। জমি না থাকায় এ অঞ্চলের মৎস্যজীবী মাইমাল সম্প্রদায়ের মানুষ মৎস্য চাষের সাথে যুক্ত থাকলেও ফিসারির মালিকানা প্রায় নেই। এলাকায় একটি ক্যানেল ইরিগেশনের ব্যবস্থা থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অথচ কাটাখাল নদী থেকে বা টিউবওয়েলের মাধ্যমে ইরিগেশনের ব্যবস্থা করলে চাষবাস ও ফিসারির প্রভূত উন্নতি হতে পারত। পাশের নিজবার্ণারপুর-সর্বানন্দপুর জিপিতে তারা-পাম্পগুলি অকেজো হয়ে পরে থাকায় ভীষণ পানীয় জলের সংকট এবং এই জিপির বহু এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগহীন।
উপরোক্ত তথ্যগুলিকে আরও গভীরে যাচাই করার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার ইচ্ছা নিয়ে ফোরামের সমীক্ষক দল শিলচর ফিরে আসে।

অরুণোদয়: অক্টোবর , ২০১৩ সংখ্যা

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , ,

'অরুণোদয়' শিলচর শহরের প্রাচীন পত্রিকাগুলোর একটি। ৬৪ বছর বয়স এর। এককালে সম্পাদনা করতেন, সুনীল দত্তরায়, তখন এটি সাধারণ ভাবে বরাক উপত্যকার মধ্যবিত্ত বাঙালির  এক অন্যতম মুখপত্র ছিল বললে ভুল হবে না। শিলচর প্রেমতলার অরুণোদয় কার্যালয়, এখন যেখানে সানগ্রাফিক্স, এবং যে সানগ্রাফিক্সে এখনো উপত্যকার বহু গুরুত্বপূর্ণ বই, পত্রিকা ছাপা হয়, এমন কি এই অরুণোদয়ও --সেটি  তখন শহরের এক গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধিক আড্ডাও ছিল। ছিল বহু ঐতিহাসিক ঘটনাবলীরও সাক্ষী। এখনো সানগ্রাফিস্ক তাই আছে। কিন্তু অরুণোদয়ের সঙ্গে সানগ্রাফিক্সের আগে কোন সম্পর্ক ছিল না, এখনো ছাপানোর বাণিজ্যিক সম্পর্কের বেশি কিছু নেই । গেল শতকের নব্বুইর দশকে এর মালিকানা কিনে নেন চন্দন সেনগুপ্ত। এখন তিনিই সম্পাদক।  আগে এটি সাপ্তাহিক কাগজ ছিল, এখন মাসিক। এখন এটি নির্দিষ্টভাবেই মধ্যবিত্ত ছাড়াও, দলিত বঞ্চিত আদিবাসী, সংখ্যালঘু , মেহনতি মানুষের মুখপত্র। আমাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল, একে আন্তর্জালে উপস্থিত করবার। আজ অক্টোবর, ২০১৩ সংখ্যা থেকে সেটি সম্ভব হলো বলে ভালো লাগছে। প্রদেশ এবং দেশ-বিদেশের নিয়মিত সংবাদ এবং প্রতিবেদন ছাড়াও, আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে,
অরূপ বৈশ্যের লেখাঃ চা-বাগানের মূল বাসিন্দাদের মর্মবেদনা।
সন্তোষ রাণারঃ খাদ্য নিরাপত্তা এবং  জমি অধিগ্রহণ আইন প্রসঙ্গে।
মৃন্ময় দেবেরঃ সন্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চঃ  প্রত্যাশা এবং সম্ভাবনা।
শৈলেন দাসেরঃ বরাক উপত্যকার কৈবর্ত সমাজের আর্থসামাজিক অবস্থান।
আপনি নিচে পুরো কাগজটাই পড়তে পারেন। ইচ্ছে করে এখানেই কম্পিউটারে বড় করে, বা নামিয়ে নিয়ে। আপনার শুধু এডোব ফ্লাস প্লেয়ার দরকার পড়তে পারে, সেটি এখান থেকে নামিয়ে নিন।  পিডিএফ -টি সামান্য  দুর্বল বলে কিছু বর্ণ ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু তাতে কাগজটি পড়তে তেমন কোন অসুবিধে হবে বলে মনে হচ্ছে না।


শাহবাগ বিদ্রোহ ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা / বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নয়া মোড় নেবে।

Posted by স্বাভিমান Labels: , ,


(এই লেখাটি স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ ও দৈনিক যুগশঙ্খে প্রকাশিত হয়েছে )
    
     স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশের শাহবাগ-চত্বরের গণ-বিক্ষোভ এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে এই সংক্ষিপ্ত লেখা। মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে যে কোন ঘটনা দেখার সমস্যা সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেওয়া যাক। গ্রহণযোগ্যতার সুবিধার্থে অমর্ত্য সেনের দেওয়া একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করছি। পৃথিবী থেকে সব পর্যবেক্ষকের কাছে সূর্য ও পূর্ণ-চন্দ্রের আকার সমান মনে হয়। ‘গ্রহণ’ বোঝার জন্য এই পর্যবেক্ষণই যথেস্ট, কিন্তু দূর-গ্রহে অন্তরিক্ষযান পাঠানোর জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নির্ধারণে আমাদের আকৃতিগত পার্থক্য খেয়াল রাখতে হয়। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে (মানসিক ও স্থানিক) বিভিন্ন পর্যবেক্ষক একই ঘটনাকে বিভিন্নভাবে পরিবেশন করেন। আবার সম্পূর্ণ অবস্থান নিরপেক্ষ অর্থাৎ ঘটনার স্থান-কালের একেবারে বাইরে থেকেও পর্যবেক্ষণ হতে পারে। এই মানদণ্ডে বিচার করলে বাংলাদেশ নিয়ে প্রকাশিত মন্তব্যগুলির আমরা কয়েকটি প্রকারভেদ করতে পারি। এক, হিন্দুত্ব্ববাদী পর্যবেক্ষণ যা সম্ভবত অবস্থান নিরপেক্ষ – অর্থাৎ   স্থান-কালের ভিন্নতায় যেখানে যাই ঘটুক না কেন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত পূর্ব-নির্ধারিত। এইধরনের ধর্মবাদী পর্যবেক্ষকরা সব সমস্যার সমাধান খোঁজেন কল্পিত অতীতের মাহাত্ম্য ও আইনের কঠোরতার মাধ্যমে এক শক্তিশালী নির্মম অথচ আধুনিক রাষ্ট্রের মধ্যে। দুই, পরাজিত বাম-মানসিকতার পর্যবেক্ষণ যেখানে পর্যবেক্ষকদের সমাজ-পরিবর্তনের এক সুপ্ত আকাঙ্খা রয়েছে কিন্তু এর প্রতি আস্থার অভাবে নিজেরা নিষ্ক্রিয়। ফলে এই ধরনের পর্যবেক্ষকরা নিজেদের সুপ্ত বাসনা পূর্ণ হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখতে পেলে একপেশে হয়ে পড়েন এবং ফলে যতই আপ্তবাক্যের আড়ালে নিজেদের মনোবাসনা ব্যক্ত করুন না কেন শেষবিচারে তারাও পরিবর্তন বিরোধী শক্তির ক্রিড়নকে পরিণত হন। তিন, এই দুই পর্যবেক্ষকদের অর্ধসত্য আক্রমণের চাপে অনেক সাধারণ পর্যবেক্ষক নিজেদেরকে উপরুক্ত দুই শিবির যে অবস্থান নেবে তার একেবারে বিপরীত অবস্থান নেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যান। তাহলে কী সত্য জানার কোন উপায় নেই? এটা দুর্ভাগ্যজনক যে সত্য জানার জন্য দ্বন্দ্বতত্বের মত মোক্ষম অস্ত্রটি শাণিত করার কাজ পরাজিত বাম-সৈনিকেরা ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ সমাজ-পরিবর্তনের জন্য সভ্যতা ও বর্বরতার মধ্যেকার লড়াইয়ে আমাদের এপথে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া অন্য আর কোন পথ খোলা আছে বলে আমার মনে হয় না। মুখবন্ধে এই কথাগুলি বলে মূল প্রসঙ্গে আসা যাক।
             বাংলাদেশের বাম-বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দিন উমর সঠিকভাবে মন্তব্য করেছেন যে শাহবাগ বিক্ষোভ ছিল প্রাথমিক অবস্থায় অপশাসন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে লিগ-জামাত আঁতাত ও প্রহসনের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরবর্তীতে এই বিক্ষোভ জন-বিচ্ছিন্ন আওয়ামী লিগের নির্বাচনী মহড়া হিসেবে রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরণ ঘটে অতি দ্রুত এবং ফলে গণতান্ত্রিক ব্যক্তি ও সংগঠন এবং গণতন্ত্রের অন্তর্বস্তুকে সুনিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় শক্তি ‘মেহনতি মানুষের’ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দাবিসনদের গণতান্ত্রিকীকরণের কোন সুযোগ ঘটেনি। ফাঁসির মত অগণতান্ত্রিক এবং ক্যামুর ভাষায় ‘রাষ্ট্রের দ্বারা হত্যার’ দাবিকে সামনে রেখে লিগ এই বিক্ষোভকারীদের আত্মস্থ করে ফেলে এবং ফলে পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় এবং সরকারী মদতে আয়োজিত ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ নিয়ে শাহবাগ চত্বরের জমায়েতকে বজায় রাখতে হয়। তেহরির স্কোয়ারের সাথে তুলনা করলেই (যদিও তুলনামূলক বিচার সবক্ষেত্রে কার্যকরী পদ্ধতি নয়) এই দ্রুত রূপান্তরণের রহস্যটা বোঝা যায়। মিশরের তেহরির স্কোয়ারে আমরা গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে লাখো মেহনতি মানুষকে ধীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এসে অংশগ্রহণ করতে দেখেছি, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে দেখেছি এবং তাদের মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিকীকরণ। অন্যদিকে শাহবাগে অংশগ্রহণকারীরা ছিল সাইবার-কম্যুনিটি ও প্রফেশন্যাল ক্লাস। আজকের বিশ্বায়নের চাপে এই প্রফেশন্যাল ক্লাসের আমূল-পরিবর্তনকামী হয়ে ওঠার যথেস্ট সম্ভাবনা থাকলেও একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচী ও গ্রামীণ মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া তাদের এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। ইউরোপীয়ান বয়ানে ‘সুশীল সমাজ’ বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি  ভারত-বাংলাদেশের মত দেশে এই শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণির স্বাধীন ভূমিকা পালনের ক্ষমতা সীমিত, কারণ তাদের গরিষ্ঠাংশই সরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ছুঁড়ে দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ ও প্রলোভনের উপর নির্ভরশীল। শাহবাগের যে মূল দাবি তাকে এবং সেই দাবিপূরণের হুকুম জারি করে এই বিক্ষোভকারীদের আত্মস্থ করে নিতে শাসকীয় জোটের বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। অন্যদিকে বর্তমানের মাত্র দুইজন নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে জামাতে ইসলামীর দুর্বল গণভিত্তির সাথে আঁতাত করেও নির্বাচনী লড়াইয়ে সুবিধে পাওয়া যায় এবং ফলে বিএনপি ও লিগ দুই শিবিরেরই জামাত প্রশ্নে একটি রণকৌশল নিতে হয়। শাহবাগ বিক্ষোভ ও জামাতের ভূমিকাকে মাথায় রেখে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুই শিবির রণকৌশল নির্ধারণ করতে শুরু করে। অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রশ্ন। বিভিন্ন দেশের বড় পুঁজিপতিরা তাদের বিনিয়োগ ও মুনাফাকে সুরক্ষিত করতে তাদের নিজেদের রাষ্ট্রের মাধ্যমে এই টানাপোড়েনে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করছে যাতে   নির্বাচন-উত্তর বাংলাদেশ সরকারের উপর তাদের আধিপত্য সুনিশ্চিত করা যায়। এই গোটা খেলায় ভাষা-ধর্মের মত সাংস্কৃতিক সূচকগুলিকে উগ্রভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এই খেলায় বাজি ধরা হয়েছে  শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষ, বিভিন্ন নিপীড়িত জনগোষ্ঠী এবং শাহবাগের বিক্ষোভকারী সহ বাংলাদেশী আম-জনতার দুর্ভাগ্যের উপর।
         
   তার মানে কী শাহবাগের বিদ্রোহ বিফলে গেল? সেটা নির্ভর করবে সংগঠিত গণতান্ত্রিক শক্তি কী ভূমিকা নেয় তার উপর। আমার ধারণা এই বিক্ষোভ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নয়া মোড় নেবে। আমার এই আশাবাদের কী কারণ? বাংলাদেশের সব শিবিরেই ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের লোকদের সমাগম থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তব মাটিতে তাদের মতাদর্শ গ্রহণযোগ্য করে তোলা এতো সহজ নয়। অন্য ভাষা-ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ বা তাদের অধিকার অস্বীকার করা এবং ধর্মীয় আচার-আচরণের প্রতি বিদ্বেষ উভয়ই ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের লক্ষণ এবং এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই বহু আঁকাবাঁকা পথের মধ্য দিয়ে দীর্ঘকালব্যাপী চলবে। কিন্তু এই মতাদর্শ যদি একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি হয়ে উঠে তাহলে লড়াইটা হবে মুখোমুখি ও আশু কর্মসূচী। সাধারণ নাগরিকদের উপর অত্যাচারের মাত্রা দিয়ে ফ্যাসিস্ট শক্তির বিচার হয় না – কারণ একাজ তথাকথিত গণতন্ত্রের আড়ালেও চলতে পারে। এটা নির্ধারিত হয় এই লক্ষণ দিয়ে যেখানে শাসকশ্রেণির একাংশ অপর অংশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মত ক্ষমতা অর্জন করেছে এবং রাষ্ট্র-ক্ষমতা নিরঙ্কুশ কুক্ষিগত করার জন্য সাংস্কৃতিক সূচককে ব্যবহার করে বৃহৎ জন-সমর্থনও আদায় করে নিয়েছে। বাংলাদেশে এই ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান (তা ভাষা-ধর্ম ইত্যাদি যে কোন সাংস্কৃতিক সূচককে ব্যবহার করেই হোক না কেন) খুব সহজ নয়। কারণ বিশ্বায়নের আর্থিক শক্তি এখনই নির্বাচনী গণতন্ত্রকে বাতিল করতে চাইবে না, বাংলাদেশ লিবার‍্যাল ইসলামের দেশ, বাংলাদেশের ভাষা-জাতিয়তাবাদ সামগ্রিকভাবে আগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করেনি – বরঞ্চ একাত্তরের ত্যাগের এক ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের বিক্ষোভকে সরকার আত্মস্থ করতে পেরেছে বলে মনে হয় না, কারণ ফাঁসির দাবি মেনে নেওয়ার বাইরে মানুষ আর কিছুই পায়নি। সুতরাং এই বিক্ষোভকারীদের কোন সত্যিকার গণতান্ত্রিক বিষয়ে আবার সমাবেশিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তারজন্য গণতান্ত্রিক সংগঠকদের এক কঠিন প্রস্তুতি চালাতে হবে। অযথা আংশিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ও হওয়ার সুযোগ তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার সামূহিক ইচ্ছা ব্যক্ত করতে শুরু করেছে। শাহবাগ ব্যর্থ হলেও মানুষের ইচ্ছার প্রকাশ ঘটিয়েছে, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারের প্রশ্ন নিয়ে দেশব্যাপী ধর্মঘটের মাধ্যমে এক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনা জাগ্রত হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পদ্যোগ বস্ত্রশিল্পে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক শ্রেণিও সংগ্রামের কসরত শুরু করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকের মাধ্যমে আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন কিংবা সংকীর্ণ অবস্থান বা অবস্থান-নিরপেক্ষতার মাধ্যমে শুধুমাত্র নিজস্ব সাংস্কৃতিক সূচককে নির্দিষ্ট করে স্বাধীন রাষ্ট্রের কল্পনা উভয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমাদের নতুন পথের সন্ধান করতে হবে যে পথের শুরু হবে দেশের স্বাধীনতা, জাতির মুক্তি, গণ-ক্ষমতার জন্য গণতন্ত্রের লক্ষ্যে নির্ধারিত এক কর্মসূচীকে ধৈর্য্যের সাথে জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্য করে তোলার মধ্য দিয়ে। একাজটি নিশ্চিতভাবে হবে বাম দিক থেকে, কিন্তু পরাজিত বা আগ্রাসী বামেদের থেকে নিশ্চিতভাবে নয়, এটা আসলে হবে এক গণ-প্রক্রিয়া এবং একমাত্র সেই অর্থে শাহবাগের বিক্ষোভকারীদের সংগ্রামী অভিনন্দন প্রাপ্য।

                 (নারী মুক্তি সংস্থা ও অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য)

ন্ধুগণ,
                 ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য থেকে প্রাপ্ত বিভাজনের রাজনীতি আমাদের এই উপমহাদেশে সংখ্যালঘুদের সর্বদা নিরাপত্তাহীনতার ও আতঙ্কের পরিবেশে বাস করতে বাধ্য করে আসছে। যে কোন সংকট মোচনে, যে কোন শাসক শ্রেণির মধ্যেকার দ্বন্দ্ব নিরসনে, যে কোন গণ-বিদ্রোহকে দমন করতে সংখ্যালঘুদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করে তোলা হয়। তাই, আমরা দেখি মণ্ডল-রাজনীতিকে পরাস্ত করতে কমণ্ডল-রাজনীতিতে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মাধ্যমে সংখ্যালঘু বিরোধিতা, অসমীয়া ভাষিক আধিপত্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে নেলি-গোহপুর-চাউলখোয়া সহ প্রতিটি জনগনণার সময় ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞ, বিটিসি-গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপি-কংগ্রেস-বিএলটি’র আধিপত্যবাদী রাজনীতির বলি হাজার হাজার সংখ্যালঘু যাদের একাংশ এখনও গৃহহীন হয়ে আশ্রয়-শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, মায়ান্মারে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের সময় রোহিঙ্গিয়াদের উপর বর্বরতম আক্রমণ। আমরা দেখেছি বাংলাদেশ মুক্তি যুদ্ধের সময় সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এই উপমহাদেশের শাসকশ্রেণির টার্গেট হতে। এবারেও যখন শাহবাগ চত্বরে গণ-বিদ্রোহ সংগঠিত হচ্ছে, তখন এই বিদ্রোহকে বিপথে চালিত করতে সেদেশের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে নিয়েছে শাসকশ্রেণির মদতপুষ্ট অপশক্তি।
                কিন্তু আমরা এই উপমহাদেশের ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপ্রেমী নাগরিক এবং জাগ্রত জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধের উপর সবসময়ই আস্থাশীল। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা বাংলাদেশে তাদের ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী  পুঁজি-মালিকদের দখলদারীর প্রয়াসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সফল ধর্মঘট হতে দেখেছি, আমরা দেখেছি বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে বিশাল ও স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট সংগঠিত হতে। মানুষের এই প্রতিবাদ আন্দোলন বৃথা যেতে পারে না। আমরা আশাবাদী যে শাহবাগে সমাবেশিত জাগ্রত জনতা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের আন্দোলনের সাথে শামিল করে ‘স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের’ এক দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলবে যেখানে সেদেশের সংখ্যালঘুরাও হবে এই লড়াইয়ের সাথী। কুচক্রীদের সংখ্যালঘু বিরোধী প্রয়াসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ প্রতিরোধ আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। আমাদেরকেও নিজ দেশে ‘স্বাধীনতা, মুক্তি, গণতন্ত্র ও পরিবর্তন’ এবং সংখ্যালঘু অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের এই আন্দোলনের সাথে হাত মিলাতে হবে যাতে এই উপমহাদেশে জনগণের যূথবদ্ধ শক্তির কাছে অপশক্তি মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।

সংগ্রামী অভিনন্দন সহ-
নারী মুক্তি সংস্থার পক্ষে – পূর্ণিমা নন্দী, বাসন্তী দত্ত ও স্নিগ্ধা নাথ।
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন – শিশির দে, টিঙ্কু গুপ্ত ও মানস দাস।
     

Memorandum submitted to PM, MoEF, CM by BARAK UPOTYOKA SANGRAMI JOTE

Posted by স্বাভিমান Labels: , , , , , , , ,





 
BARAK UPOTYOKA SANGRAMI JOTE
(Barak Valley Struggling Alliance)
Silchar
Ref :                                                                                                                           Date : 29-02-2012

To,

The Hon'ble Prime Minister
Govt. of India, New Delhi


Through The Deputy Commissioner,Cachar, Assan

Sub : Memorandum.

Sir,

We, on behalf of the various constituent social organisations of ‘Barak Valley Struggling Alliance, would like to bring to your kind notice the following facts and the demand thereon for your perusal and immediate needful action. 

(1) (A) we demand the tea-wage parity in Barak & Brahmaputra Valley.
Bypassing the negotiation process initiated at the behest of State Labor Comissioner, the recent hike in Barak Valley tea-workers’ wage which has been declared through an unilateral agreement reached between a union and the tea owner’s association is in no way an upward movement of the wages to minimise the prevailing disparity, and it’s an arithmatical jugglery to hoodwink the people. Because in the year 2014, as per the agreement, when the wage of Barak Valley tea workers will reach to Rs75, the wage of Brahmaputra Valley workers will move to much higher level from the present and already enhanced wage of Rs. 76. Moreover, the tea-workers in West Bengal are also getting much higher wages than their counterpart in Assm against the same nature of work. This is gross violation of the principle of equal wages for equal work and these anomalies should be eradicated forthwith by maintaining parity in wages at least within Assam and a broad framework on task needs to be formulated.
(B) when the MGNREGA-workers who are considered as unskilled rural manual workers are getting the daily wage of Rs.130/worker, the present daily wage of tea-worker of Barak Valley vis-à-vis Assam is too meager to maintain the livelihood. So the daily wage of tea-workers should be enhanced to at least the level of MGNREGA-wage.
(C) the 15th Indian Labour Conference held in 1957 stipulated that the need based minimum wage for all industrial workers should be calculated covering the food and living requirements of three units consumption. Under this guideline and in view of the present consumer price index (CPI), the tea-worker’s wage will be much more than the double of the existing wage. The resistance of the employer’s associations to consider 1.5 units instead of 3 units in case of calculating the tea-worker’s wage on the ground that the engagement of both male & female workers implies two earners in the family is absolutely unfounded & baseless. There are ample evidences contrary to their claim. Moreover, as the existing wage is much less than the half of need based minimum wage that would have been determined by the Wage Board under the guideline enshrined in the declaration of Indian Labour Conference and the exiting CPI, the workers are extra-economically coerced to accept less than bare minimum wage that would have been the actual wage, if calculated on the basis of the ill-founded logic of the employer’s too.

(2) It is to be noted with utter dismay of all concern that though there was an all India BPL-survey in the year 2007, no field-level BPL-survey has been held after 2002 in Assam. Even BPL-card has not been issued to all those families who are enlisted in 2002 survey. The 2012 BPL survey to prepar the list of BPL families has already been kick-started and in that event, we demand that the survey report must be verified through genuine and effective on-going process of Gramsabhas. Moreover, lot of drama have been orchestrated, lot of APL-BPL manipulation has been designed to hush up easy money, lot of food grains dumped to the houses of well-off having BPL-card, when the destitute failed to have one square meal a day for not having BPL card, and all these amply made it clear that the APL-BPL categorization for PDS system is highly ineffectual and unreliable. As per Arjun Sengupta Commission report, 77% of the population in India falls in the BPL category and the BPL population in this part of country will not be less, if not more, than this estimation. But here, a large number of families do not even have ration-cards, not to speak of BPL cards. For instance, the poorest of the poor slumdwellers in the suburb of Silchar do not have ration cards. Those who have APL/BPL cards in these districts of Barak Valley do get their full entitlements. A huge quantity of ration materials from the entitlements of the consumers is off-loaded from the supply chain of FCI-Coopertive-District Wholesale Agency-dealers, and siphoned off to the market, and this is time and again vindicated by the news of grabbing of unauthorised Tuck loaded with FCI-foodgrains. All the tea-gardens receive the ration-entitlements from the PDS chain in PDS price. But in most of the tea-gardens, the workers’ are getting poor quality and less than the entitled quantity of ration-materials. The inspection regime in the PDS system either utterly failed or disinterested to grab the culprit and to mend the loopholes. With this in view, we demand that
(A)            Universal PDS system should be put in place again to eradicate corruption and to ensure the BPL population to avail subsidized food grain. BPL list should be verified through gramsabhas.
(B) The ration cards should be immediately issued to all the valid applicants.
(C) Thorough and effective inspection, easy consumer complain mechanism at the dealer-end, quick grievance-redressal mechanism need to be put in place.
(D)            Garden-wise Inspection from both the labour (as the ration is wage-in-kind also) and supply department should be done on regular basis.
(E)  District, garden and village level monitoring public committees should be formed at your behest.
(F)  A thorough inquiry with public hearings of all the past misappropriation of PDS materials should be initiated. 

(3)  Though there is a huge mismatch between the official record of the NREGA implementation and the ground reality due to the manipulation of the implementing agency, even the official record shows that the implementation of NREGA is gradually deteriorating especially in Cachar District and dismal in all the three district of Barak Valley. The mechanism of manipulation cab be cited as (i) The mandays of work shown against the Jobcards issued to the well-off families are fictitious and recorded without the actual work done. (ii) employment sought, complaints lodged, unemployment allowance claimed etc are not registered properly and are not reflected in the website-record. (ii) machines are used and jobcard holders are engaged as contractual workers in the NREG-schemes without making any proper entry to the jobcard as well as MR. (iii) Innumerable complaints to the grievance redressal authorities are lying unattended. (iv) Formation of monitoring committes and the social audits are done through  fake Gramsabhas. In addition to the manipulative and corrupt practices, let us put the official record straight to vindicate our claim of dismal performance of the implementing agencies. In 2008-09, Cachar, Karimganj and Hailakandi recorded 3991, 40, 2 households respectively who were provided with 100 days of work, that recorded in 2009-10, 2010-11, 2011-12 are 751-134-23, 172-245-163, 39-52-0 respectively. None in these three district received any unemployment allowance and many claims of jobcard-holders for unemployment allowance are lying at programme-officer or at other level without being processed to requisition fund from the state Government for payment. Among the three districts of Barak Valley, 2011-12 record shows that Hailakandi district with less population has spent much more fund (though it is also too measly an amount to meet the work demand)  than the other two districts and as such argument of scarcity of fund on the part of the lower bureaucracy is baseless and smacks of inefficiency or inertia syndrome of the implementing agencies, as the sanction of schemes and fund flow are the on-going process basing on demand. This fact-sheets speak volumes about the dismal performance and the insensitivity of the implementing agencies. Moreover, we are of the opinion that the rural people need 200 days of work and the guaranteed minimum wage to the tune of at least Rs. 200 considering the existing CPI.
With this in view, we demand that
(A)            The total days of work and wage should be enhanced to 200 days and Rs 200.
(B) The present stipulated 100 days of work must be ensured to all the job-seekers.
(C) Claim of un-employment allowance should be settled forthwith.
(D)            In addition to the Ombudsman, a district level committee comprising of the representatives from NREG-workrs’ union, social organisation, experts should be formed forthwith in consonance with the provision of the act and at the behest of the program co-ordinator  to monitor the NREGA-work and social audit.
(E)  Word level gramsabhas and social audit should be done on regular basis and with full transparency.
(F)  Block level physical audit must be intiated at the behest of programme officer taking into the complainant union/organisation into confidence.

(4) With deep anguish, we have observed that during recent days, lots of hue and cry are being registered, all opposing the construction of a 'water bomb' at Tipaimukh. A handful of protests have been witnessed in Manipur, Mizoram, Barak Valley of Assam, besides lot many from our neighbouring country, Bangladesh. We look at all these protests from the environmental and human point of view, sincerely believe that any force, that lacks in feeling for the environmental impact of the proposed dams should be dealt with severely. We sincerely like to draw your kind attention on the facts mentioned hereunder;
(A)    We sincerely believe that there should be an extensive downstream environmental impact study from the proposed dams site up to sea-mouth should be jointly conducted at the initiative of the Government of India and Bangladesh where experts from Non Government Organisations particularly from the environmental outfits, IITs and Universities must be included to asses the possible detrimental impact on the environment and life of inhabitants in the catchments areas at large. Without downstream impact study, if a clean-cheat to the projects are given it would be detrimental for both environment and people at large and struggling outfits of both in India and Bangladesh in particular. It is to be mentioned here that an expert committee was constituted to study the impact of big dams in Bramhaputra Valley alone, we are here like to request you Sir to form similar study team for investigating cumulative down stream impact in Barak Valley too.
(B)    the proposed dams fall at the confluence of Indo-Burma, Indo-Malayan and Indo-Chinese Biodiversity hotspot zone. These areas are characterised by the presence of a large number plant and animal species, many of which are not seen or seldom witnessed in rest part of the world. A large number of them have been categorised as endangered and threatened as the IUCN Red Data book and the Wildlife (Protection) Act, 1972. Once the dam is constructed, these innocent endangered and threatened species would have no other alternative, but to perish! Moreover many of the tribal people including Hmar, Naga, Kuki, Manipuri and others those who have been living there for generations will have to leave the place for ever. Under such a situation, does the construction of a dam in the proposed site speak quite well in favour of Biodiversity conservation?
(C)     We strongly believe and observe with deep concern that this rock filled 500 mts. long and 162.8 mt. high Tipaimukh dam to be constructed at the earthquake zone-V, Wherein there will be constant pressure of water, if for any reason cracks, the entire civilization of the whole of downstream will be washed down in no time. The age old Barak-Surma culture will live in history only. Can any force or technology prevent this and ensure against such catastrophic mishap?
(D)    Besides the above mentioned burning issues, other important impact like water scarcity, crop cultivation, navigation, siltation, ecological imbalance, river pollution, extinction of aquatic life forms and the like are never the less important frontier areas that deserve careful and serious attention, before construction of the dam.

                                                                                 Thanking You
     Yours faithfully
               
Signed By:-
  • Pijush Kanti Das, Committee on People's and Environment (COPE)
  • Nirmal Kr. Das, Asom Majuri Sramik Union
  • Sankar Dey, Barak Nagarik sangsad
  • Sanathoi Devi, All Assam Meira Paibi
  • Biplab Kr Goswami, Grahak Suraksa Samiti
  • Dilip Kr Singh, Hindi Bhasi Chatra Parisad
  • Pumeba Ai, Rajbangshi Samiti
  • Sahidul Haque Laskar, Kisan Bikhash Samiti,Ashu Kanti Sinha, AIDSO
  • Ranu Dautta, Barak Juba Sangsad
  • Neharul Alam Mazumder, Barak Human Right's Protection Committee
  • Rukhan Uddin Barbhuiya, KMSS 
  • S. Herajit Singh, AAMSU




(c)
Pijush Kanti Das;Pijush Das <savebarak@gmail.com> 
Secretary General;COPE
+91 9435522796
+91 9864372750

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন