RSS Feed

সংখ্যালঘু প্রশ্ন ও ভারতীয় গণতন্ত্র

Posted by স্বাভিমান

সংখ্যালঘু প্রশ্ন ও ভারতীয় গণতন্ত্র
(সন্তরণ পত্রিকার জন্য এই লেখাটি পত্রিকা-গোষ্ঠীর অনুমতি ছাড়া অন্যত্র ছাপা যাবে না – অরূপ বৈশ্য)
সংখ্যালঘুর সংখ্যালঘু হয়ে উঠা
সংখ্যালঘু কীভাবে সংখ্যালঘু হয়ে উঠল? প্রশ্নটি বেয়াড়া মনে হলেও এর উত্তর ইতিহাসে নিহিত। সংখ্যালঘুর বাস্তব অস্তিত্ব, এবং চেতনায় সংখ্যালঘু অস্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ -  এই দু’য়ের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক।  সংখ্যাগুরুর চেতনায় সংখ্যালঘু সম্পর্কে ধারণা তৈরি হওয়া ও সংখ্যালঘুর নিজের মধ্যে সেই ধারণার সুস্পষ্ট রূপ পাওয়া এই দু’য়ের আন্তঃক্রিয়া রাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলনের আগে সংখ্যালঘু প্রশ্ন রাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তার মানে এই নয় যে তার আগে সংখ্যালঘুর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। একটি স্থূল উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা যাক। ‘আমি প্রতিদিন হেঁটে অফিসে যাই’ এই বিবৃতির মধ্যে রাস্তার কথা উহ্য, কারণ সেটা বাস্তবে বিশেষত্বহীনভাবে উপস্থিত আছে। যদি তীব্র দাবদাহে রাস্তার পিচ গলে যায় তাহলে এই পরিবর্তীত বাস্তবকে বোঝাতে তখন বলতে হবে ‘প্রতিদিনকার মত অফিসে হেঁটে যেতে আজ অতি সন্তর্পণে রাস্তার গলা পিচকে পাশ কাটিয়ে যেতে হয়েছে’। এখানে রাস্তা নিজের অস্তিত্বকে জানান দিচ্ছে, পথচারীকেও এই পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে নিজের স্বার্থেই এক বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। রাস্তার মত জড় পদার্থের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত সরল, কিন্তু নিয়ত পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত মানব সমাজের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। যাইহউক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রব্রজনের ফলে জনবিন্যাসে পরিবর্তন এবং উপনিবেশ বিরোধী জনজাগরণের গর্ভে জন্ম নেওয়া সমাজের অভ্যন্তরীণ উথালপাতালের ফলে বাস্তবে বিদ্যমান বিভিন্ন জনগোষ্ঠীগত নিপীড়ণ ও বঞ্চনার প্রশ্নটি সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বয়ানে সচেতন ভাষা পায়। সংখ্যালঘুর সংখ্যালঘু হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় একে সামিল করে নেওয়ার সংখ্যাগুরুর গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পরষ্পর পরিপূরক হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়।
সংখ্যালঘু হয়ে উঠার ক্ষেত্রে আরও কিছু কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির কোনো গোষ্ঠীতে জন্ম নেওয়াই গোষ্ঠী পরিচিতির পেছনে অন্যতম কারণ নয়। নির্ভরতার বিভিন্নধরনের ও জটিল সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি গোষ্ঠী চেতনায় উপনীত হয়। গোষ্ঠী চেতনা ভাষা, এথনিসিটি, রেস, ধর্ম ইত্যাদিকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে এবং ব্যক্তির আদিম নঞর্থক পরিচিতি গোষ্ঠী পরিচিতির স্বার্থকে জাহির করায় রূপান্তরিত হয়। এটা চেতনার একধরনের অগ্রগতীও বটে। কিন্তু এই অগ্রগতীর মধ্যেই নতুন বিপত্তি লুকিয়ে থাকে। এই চেতনা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে সবকিছু ভাল, আর এর বাইরে সবকিছু খারাপ - এরকম এক ধারণার জন্ম দেয়। কোনো গোষ্ঠী যখন অন্য গোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য কিংবা আধিপত্যের ফলে নিজেদেরকে বঞ্চিত বলে ভাবতে শুরু করে তখনই সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু হয়ে উঠে। এই গোষ্ঠী চেতনাকে অস্বীকার, অবজ্ঞা বা দমন করে ব্যক্তি স্বাধীনতার আধুনিকতা ও গণতন্ত্রকে সাব্যস্ত করা যায় না।
সংখ্যালঘুর ভারতীয় বয়ান      
স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে সংঘপরিবারের সংখ্যাগুরুবাদী সাম্প্রদায়িক আদর্শে ধর্মীয় রাষ্ট্র ও অতীত পুনরুত্থানের গান্ধীবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত রাষ্ট্রকে অস্বীকার করে নেহেরুবাদী আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রয়াস শুরু হয়েছিল তা উপরোক্ত বাস্তব প্রেক্ষিতের মধ্যে নিহিত। সংঘ পরিবার এমন এক তাত্ত্বিক যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, যে মত অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে সংখ্যালঘু তৈরি করা হয়। এরজন্যই তারা সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কোনো বয়ান কিংবা সংখ্যালঘুর জন্য নির্ধারিত যে কোনো কল্যাণকামী পদক্ষেপের বিরোধিতা করে এবং সংখ্যালঘু তোষণবাদ হিসেবে প্রচার করে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদকে উষ্কে দেয়। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করা যাক। রাস্তায় প্রহরারত পুলিশ যখন চেঁচিয়ে বলে “হে তুম, রোখো”, তখন সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিটি ফিরে তাকায় এবং এভাবে বিষয় (subject) নিজেকে বিষয় করে তোলে। অর্থাৎ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেই বিষয়কে বিষয় করে তোলা হয়, তার আগে পর্যন্ত বিষয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। এভাবে তারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে নাকচ করে দিয়ে তাৎক্ষণিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করে এবং এভাবে সংখ্যালঘুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে কিংবা সংখ্যালঘুর অস্তিত্বকেই ধ্বংস করে দিতে চায়। এভাবে অনৈতিহাসিক ও অবৈজ্ঞানিক প্রকরণের মধ্যে গণতন্ত্রের যে কোনো স্থান নেই তা বলাই বাহুল্য, বরঞ্চ এই প্রকরণ অনুকূল পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যুক্তিকাঠামো হিসেবে পরিগণিত হয়। অন্যদিকে গান্ধীবাদের মধ্যে অতীত সমাজের পুনরুত্থানের এক রোমান্টিসিজম বিদ্যমান। নিয়ত পরিবর্তনশীল সামাজিক কাঠামোয় পুরোনো সমাজ ব্যবস্থাকে অবিকল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, তা করতে গেলে সামাজিক বিকৃতি দেখা দেওয়া সম্ভব এবং সংখ্যালঘুর অধিকার মানার যে আধুনিক গণতান্ত্রিক বয়ান তাকে অস্বীকার করা হয়। এটা নিশ্চয়ই বলা যায় যে নেহেরুর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বহু খামতি ছিল এবং একে আরও বিকশিত করার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু যারা সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক ধারণাকেই নস্যাৎ করে দিতে উদ্যত তাদের প্রয়াস নিশ্চিতভাবে বিপজ্জনক। নেহেরুবাদী রাষ্ট্র গঠনের বয়ানে যুক্তি ও প্রগতির আধুনিক ধারণা প্রোথিত ছিল, কিন্তু এর স্বরূপ ছিল এলিটিস্ট, কারণ এই বয়ানে ধরে নেওয়া হতো যে আম-জনতা স্থবির ও পিছিয়ে পড়া যাদেরকে অন্ধরকার থেকে আলোয় আনতে হবে। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ-বিভাজনের মাধ্যমে যে ভারতীয় রাষ্ট্র জন্ম হয় তাতে জাতি-রাষ্ট্রের উপাদান ছিল প্রবল। এই জাতি-রাষ্ট্র ভাষা-সংস্কৃতির একধরনের সমসত্তা দাবি করে। তাই নেহেরুবাদী আধুনিক ভারতীয় রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু প্রশ্নের মীমাংসার একমাত্র পথ রয়ে যায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের পথ। স্বাধীনতা সংগ্রামের দিয়ে মধ্য যে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীগত চেতনা জাগ্রত হয়েছিল, স্বাধীন ভারতীয় রাষ্ট্র গঠনের সময় জাতি-রাষ্ট্রের ধারণাকে খানিকটা নমনীয় করে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন ও সংখ্যালঘুর কিছু সাংবিধানিক অধিকার মেনে নিয়ে এরজন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দেওয়া হয়। নেহেরুবাদী আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের এই দুর্বলতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সংকটকালে আগ্রাসী জাতিয়তাবাদীদের উত্থানের রহস্য। এরজন্যই স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে যখনই কোনো পরিচিতির দাবি জোরদার হয় তখনই এর সামনে ভারত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে মনে হয় অসহায়। ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচিতির সীমা ও স্তরতন্ত্র অত্যন্ত অনমনীয়, কারণ যারা শাসন ব্যবস্থায় আধিপত্য বজায় রেখেছে তারা প্রতিনিয়ত বাকী সব পরিচিতিদের অপর হিসেবে হেয় প্রতিপন্ন করে ও দাবিয়ে রাখে। ভারতীয় দলিতদের ক্ষেত্রে এই বাস্তবটি অত্যন্ত রূঢ়ভাবে উন্মোচিত। তথাকথিত আধুনিকতার বয়ানেও এই সমস্যা রয়েছে - ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রবক্তারা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গোষ্ঠীগত অধিকার এই দু’য়ের মধ্যেকার আন্তঃসম্পর্ককে দেখতে অপারগ।    
সংখ্যালঘুর অধিকার
ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নটি বেশ জটিল। আমাদের দেশে ১৮টি অষ্টম তপসিলিভুক্ত স্বীকৃত ভাষা সহ ৪৬০০ ভাষা/উপভাষা রয়েছে যেগুলি ১২ টি ভাষা-পরিবারের ও ২৪টি লিপির অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশে ২৮০০ এথনিক কম্যুনিটি এবং ২০,০০০ বর্ণগোষ্ঠী রয়েছে। ভারতে বিশ্বের সব প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাস। একই জনগোষ্ঠীর বহুমাত্রিক পরিচিতি ভারতীয় বৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য। উপরন্তু একথা মনে রাখা উচিত যে কোনো ধর্মীয় জনগোষ্ঠীই সমসত্তাবিশিষ্ট নয়।
ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হওয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্নটি সবসময়ই স্পর্শকাতর। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমরা বহু পরিচিতির বহুবিধ দাবি উত্থাপিত হতে দেখছি। প্রারম্ভিক ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের পরও ভাষিক-পরিচিতিকে ভিত্তি করে নতুন রাজ্য গঠন হতে দেখেছি। সম্প্রতি এমনকি জাঠ – মারাঠাদের মত প্রাগ্রসর পরিচিতিও সংরক্ষণের দাবি তুলছে। আসামে বিভিন্ন জনজাতীয়রা সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছে, বাঙালিরা চাইছে ভাষিক পরিচিতির নিরাপত্তা। দেশব্যাপী দলিত আন্দোলন নতুন নতুন মাত্রা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। তালিকা দীর্ঘ না করে আমরা একথা নির্বিবাদে বলে দিতে পারি যে এদের সবার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু মনস্তস্ত্ব। তাই এধরনের সব জনগোষ্ঠীকে আমরা এককথায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। নির্ধারিত জনগোষ্ঠী নিজেকে কীভাবে দেখে তার মাধ্যমে এবং জনগোষ্ঠীগত সীমার বাইরে অন্যরা বা সংখ্যাগুরুরা যেভাবে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে দেখে তার সাথে আলাপচারিতা বা তাকে সংগ্রামের মাধ্যমে মোকাবিলা করার মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু পরিচিতি গড়ে উঠে। মুসলমানদের উদাহরণই ধরা যাক, কারণ মুসলমান প্রশ্নটি আজকের ভারতে প্রধান বিচার্য বিষয়। মুসলিম পরিচিতির একটি উপাদান যেমনি মুসলমানরা নিজেদেরকে কীভাবে দেখে, ঠিক তেমনি অ-মুসলমানরা মুসলমানদের কীভাবে দেখে তার সাথে ডায়লগের মাধ্যমে কিংবা সংগ্রামের মাধ্যমে মোকাবিলা করার মধ্য দিয়েই মুসলমানদের সংখ্যালঘু পরিচিতির স্বরূপ নির্ধারিত হয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।        
ভারতবর্ষের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসে সংখ্যালঘু প্রশ্নটি এক গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর্যায়ে সামাজিক উথালপাতাল সংখ্যালঘুর অস্তিত্বকে যেভাবে ব্যক্ত করেছে তা বাস্তবের একটি দিক। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ যে সাম্প্রদায়িক ভিত রচনা করে এর উপর দাঁড়িয়ে গত শতকের শেষ দিকে দক্ষিণপন্থী হিন্দু শক্তির উত্থান এই বাস্তবের আরেকটি দিক। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংস এই উত্থানের মাইলস্টোন, কারণ এই পর্যায়ে রাষ্ট্রের সাথে মুসলিম সংখ্যালঘুর সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে, যদিও সাম্প্রদায়িক হিংসা ভারতীয় ইতিহাসে নতুন নয় এবং স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এর যাত্রা শুরু হয় দেশ বিভাজনের মধ্য দিয়ে। সুতরাং সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্ন অস্তিত্বের ও সুরক্ষার প্রশ্নকে এড়িয়ে আলোচিত হতে পারে না।
সংখ্যালঘুর সাংবিধানিক ব্যবস্থা
সংবিধান সভার বিতর্কের সময় কিছু দলিত সদস্যরা নিজেদেরকে ‘রাজনৈতিক সংখ্যালঘু’ হিসেবে মর্যাদা প্রদানের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। সংখ্যালঘু নির্ধারনের ক্ষেত্রে তাঁরা সংখ্যাগত হিসাব নয়, তাদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা ও জাতিগত শোষণের বিষয়কে বিচার্য বিষয় করেন।
সংবিধান সভার আগে মতিলাল নেহেরুর পৌরোহিত্যে গঠিত নেহেরু রিপোর্ট ১৯২৮ এবং সাপরু কমিটি রিপোর্ট ১৯৪৫ সংখ্যালঘুর আধিকারের প্রশ্ন সূত্রায়িত করে। এই রিপোর্ট সংখ্যালঘুদের জন্য রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি সংরক্ষণ এবং সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা করার জন্য আলাদা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার পরামর্শ দেয়। ১৯৪০ সালে আবুল কালাম আজাদ ঘোষণা করেন যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তা সংখ্যালঘুদেরই নির্ধারণ করা উচিত, সংখ্যাগুরুদের এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কিন্তু  দেশবিভাজনের ফলে বিষিয়ে উঠা পরিবেশের প্রেক্ষিতে সংবিধান সভা এই গণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে সরে আসে। সংখ্যালঘু বিষয়ক পরামর্শদাতা কমিটির চ্যায়ারম্যান বল্লভভাই প্যাটেলের পরামর্শ অনুযায়ী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ও চাকুরি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণের মাধ্যমে সুরক্ষা প্রদান করার প্রাথমিক সূত্রায়ন বাদ দেওয়া হয় এবং তার বদলে সংখ্যালঘু সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয় এবং পরামর্শদাতা কমিটির সব পরামর্শই খসড়া সংবিধানের ১৪ নং ভাগে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এভাবে পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে তপসিলি জাতি – জনজাতি থেকে পৃথক করে দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবিধানের ২৯(১) ধারায় যে কোনো জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সুরক্ষা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। অনুরূপভাবে ৩০ নম্বর ধারায় ধর্মীয় ও ভাষিক সংখ্যালঘুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও পরিচালনা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে। তবে সংবিধান সংখ্যালঘুর কোনো সংজ্ঞা দেয়নি। জাতীয় স্তরকেই সংখ্যালঘু নির্ধারণ করার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। ২০০২ সালে টি.এম.এ পাই ফাউণ্ডেশন বনাম কর্নাটক রাজ্য ও অন্যান্যদের এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রথমবাররে মত সংখ্যালঘু প্রশ্নের কিছু ব্যাখ্যা মেলে। কেন্দ্র, রাজ্য ও অঞ্চলকে সংখ্যালঘু নির্ধারণের একক মানা হবে কিনা, কেন্দ্র স্তরের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রাজ্যে কিংবা রাজ্য স্তরের সংখ্যালঘু সেই রাজ্যের কোনো অঞ্চলে সংখ্যাগুরু হলে সেই জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু মর্যাদা হারাবে কিনা এনিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক হয়। সুপ্রিম কোর্ট এই নীতি জারি করে যে কেন্দ্র স্তরে কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রাজ্যে যদি সংখ্যাগুরু হয় তাহলে সেই রাজ্যে এই জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হবে না। অর্থাৎ রাজ্যগুলিতে সংখ্যালঘু নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজ্যের জনসংখ্যাগত বিন্যাসকে বিবেচনায় রাখা হবে। সংবিধানের ধারা ৩০ মতে যেহেতু ধর্মীয় ও ভাষিক এই দ্বিবিধ জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তাই রাজ্যিক জনসংখ্যা অনুযায়ী ধর্মীয় ও ভাষিক জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হবে। রাজ্যকে একক হিসেবে ধরে নেওয়ার পেছনে মূল যুক্তি হলো ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন। ২০০৪ সালে সংবিধানের ১০৩ তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংখ্যালঘু জাতীয় কমিশনকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালের মে মাসে ক্যাবিনেট সুপ্রিম কোর্টের টি.এম.এ পাই ফাউণ্ডেশন মামলা সহ বিভন্ন মামলার রায়ের সূত্র ধরে রাজ্যভিত্তিক সংখ্যালঘু নির্ধারণে স্বীকৃতি দেয়।  
কিন্তু এই যুক্তির ক্ষেত্রে বিপত্তি রয়েছে। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন সংখ্যাগুরু ভাষিক পরিচিতিকে রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। আসামের কথাই ধরা যাক। আসামে ভাষিক জনগোষ্ঠী হিসেবে অসমীয়া ভাষিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিবেচনায় আসাম রাজ্য গঠন হয়, পরবর্তীকালে এই ভাষার ভিত্তিতেই পুরোনো আসাম ভেঙে আরও রাজ্য তৈরি হয়। বর্তমান আসামে অসমীয়া ছাড়া আরও বহু ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে যার মধ্যে বাংলাভাষীরা প্রধান। রাজ্যিক পরিসরে সংখ্যালঘু নির্ধারণ করার নিয়ম অনুযায়ী আসামে অসমীয়া ছাড়া বাকী সবাই শিক্ষা ক্ষেত্রে (সংবিধানের ৩০ নং ধারা শুধুমাত্র শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ) সংখ্যালঘু সুরক্ষা পাবে। এক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু ভাষিক জনগোষ্ঠীর কোনো সমস্যা দেখা দেয় না, কারণ রাজ্যিক স্তরের উভয় জনগোষ্ঠীই জাতীয় স্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। রাজ্যিক স্তরে ভাষিক সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী সংখ্যাগুরু হওয়ার সুবাদে রাজ্য পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে সুবিধা ভোগ করে সেই সুবিধা তারা জাতীয় স্তরে ভোগ করতে পারে না। অর্থাৎ অন্য সব ফ্যাক্টর বাদ দিলে, শুধুমাত্র জনসংখ্যার বিচারে রাজ্যিক স্তরে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু ভাষিক জনগোষ্ঠীদের জাতীয় স্তরে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা না পাওয়ার সংখ্যালঘু মানদণ্ড ধরে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে রাজ্যিক মানদণ্ড খানিকটা গোলমেলে। ভাষাভিত্তিক রাজ্যের সীমানা যেহেতু ধর্মীয় পরিচিতির সীমানাকে নির্ধারিত করে না, তাই ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে রাজ্যকে একক হিসেবে ধরার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। পঞ্জাবের উদাহরণই ধরা যাক। পঞ্জাবে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। রাজ্যকে একক ধরলে সংবিধানের ধারা ৩০ অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে হিন্দুদের বিশেষ অধিকার দিতে হয়। কিন্তু জাতীয় স্তরে হিন্দুরা পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে নীতি নির্ধারণ ও রূপায়ণের ক্ষেত্রে আধিপত্যাধীন অবস্থানে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সুযোগ লাভ করছে তা শিখদের ক্ষেত্রে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই নীতিতে সংখ্যালঘু অধিকার দেওয়ার পেছনে সম-অধিকার, সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা
গ্রামাঞ্চলের বসত এলাকাতে চোখ রাখলে যে কোনো পর্যবেক্ষকের বসত অঞ্চলের এক প্যাটার্ন নজরে পড়বে। মিশ্র জনবিসতিপূর্ণ অঞ্চলেও অঘোষিত ডিমার্কেশন লাইন থাকে যে লাইনের এপার ওপারে সম্প্রদায়ভিত্তিক বসতবাটি থাকে। সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান বা সংকীর্ণ সম্পত্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে কোন দ্বন্দ্ব যদি বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপে সংঘাতের সংকট সৃষ্ঠি করে তাহলে এই ডিমার্কেশন লাইনগুলো ফল্ট-লাইনে রূপান্তরিত হয়। অনুন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায় এই বিভাজনরেখা স্বাভাবিক হিসেবে সবাই মেনে নেয়। তবে উন্নয়নের এক সাধারণ দৃশ্যপট আমাদের নজর এড়িয়ে যায় না। জনগোষ্ঠীগত মর্যাদা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির উপর ভিত্তি করে নাগরিক সুবিধার তারতম্য গ্রামাঞ্চলেও চোখে পড়ার মত, যদিও বর্তমান সার্বিক আর্থ-সামাজিক সংকটকালে এই তারতম্য অনেকটাই আবছা হয়ে পড়ছে। কিন্তু সাংস্কৃতিক সামাজিক দূরত্ব যখন ভারতের নগর সভ্যতায়ও প্রকটভাবে বিদ্যমান থাকে তখন বুঝতে অসুবিধে হয় না যে বিভাজন আমাদের সামাজিক পরিসরে কতটা গভীরে প্রোথিত। একদিকে নগরায়নের প্রকল্পের মধ্যেই এই বিভজনের বীজ নিহিত, অন্যদিকে আমাদের মানসিক দূরত্ব এই বিভাজনকে স্বীকৃতি প্রদান করে ঘেটো (ghetto)-সংস্কৃতির জন্ম দেয়। আমাদের শহর-নগরগুলির সামাজিক বিন্যাসের একটা প্রোফাইল যদি তৈরি করা যায় তাহলে এই বিষয়টি পরিষ্কার আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। দলিত-সংখ্যালঘুদের বাস সাধারণত শহরতলিতেই দেখা যায়। শহরের কমার্শিয়্যাল সেন্টার কিংবা মূল-শহরে গড়ে উঠা নতুন বসত অঞ্চলগুলিতে সামাজিক বাধা ও উন্নয়নের নীতি কসমোপোলিটান-কালচার গড়ে উঠার প্রধান অন্তরায়। মজুরি, রুজি-রোজগার কিংবা শিক্ষা-চাকুরির ইত্যাদির সন্ধানে শহরে আসা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর লোকরা শহরের পরিধিকে বিস্তৃত করে নতুন বসত অঞ্চল গড়ে তুলছে, কিন্ত এই প্রব্রজন বিভাজন রেখাকে মুছে ফেলতে পারছে না। তার ফলে সাংস্কৃতিক বিভাজন এক নতুন আধুনিক রূপ পরিগ্রহ করছে। কাঠামো ও উপরি-কাঠামোয় যুগপৎ বিদ্যমান স্তরীভূত বিভাজন যেমনি দলিতদের অপর করে দিয়েছে, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এই কাঠামোর বাইরে রেখে দিয়েছে। এই কাঠামো যতটা শিথিল হয় ঠিক ততটাই সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে উঠে। আমাদের বৃহৎ নগরি যেমন নতুন-পুরোনো দিল্লি, নতুন-পুরোনো হায়দ্রাবাদ কিংবা আহমেদাবাদের নতুন বিস্তৃতির অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস বিচার করলে সাংস্কৃতিক দূরত্ব কতখানি গভীরে এবং কারা ঘেটো-কালচারের বলি তা স্পষ্ট হয়ে পড়ে। মুম্বাই’র বিশাল বিশাল ঝুপড়ি অঞ্চলে যে লাখ লাখ লোক বাস করেন তাদের অধিকাংশই দলিত, তাঁরা হয় পুরোনো বস্ত্রশিল্পের কাজ-হারানো শ্রমিক কিংবা কাজের সন্ধানে আসা নতুন শ্রমিক। বিচ্ছিন্নতার মাত্রার ও প্রভাব প্রতিপত্তির তারতম্য বাদ দিলে এই একই মানদণ্ড ভাষিক সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভাষিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আসামের মুণ্ডারি-সাঁতালি-কুর্মালি-সাদরি ভাষীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যেমনি কোনো জায়গা নেই, আমাদের সামূহিক সাংস্কৃতিক চর্চায়ও তাঁরা অনুপস্থিত। অন্যান্য নিতান্তই সংখ্যালঘু ভাষিক জনগোষ্ঠীদের অবস্থাও তথৈবচ। বাঙালিরা ঐতিহাসিক কারণে এই অধিকারগুলির অনেকটাই আদায় করে নিতে পারলেও, এখনও তাদের বিনা বিচারে যেতে হয় ডিটেনশন ক্যাম্পে।
এধরনের বিচ্ছিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক দ্বীপগুলি থেকেই এই জনগোষ্ঠীগুলো নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচিতি রক্ষা ও বিকাশের আওয়াজ তুলে। এই আওয়াজগুলিকে দমিয়ে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মধ্যেই নিহিত বৈচিত্র্যের প্রতি আঘাত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকৃতির রহস্য। তথাকথিত আধুনিকতার সবধরনের খবরদারি দূরে ঠেলে এই আওয়াজগুলিকে জনগোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তর থেকে উঠে আসার পরিসর তৈরি করে দেওয়ার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এই মূল্যবোধের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্তর্বস্তু হওয়া বাঞ্চনীয়। যাহা বিদ্যমান তাহাই যদি আধুনিক হয়, তাহলে বৈচিত্র্যের সুরক্ষা ও বিকাশকে সুনিশ্চিত করাই আজকের আধুনিকতার পরম কর্তব্য।      
সংখ্যালঘু সমস্যা ও সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
উপরের আলোচনায় দু’টি বিষয় প্রণিধানযোগ্য। শুধুমাত্র সংখ্যার বিচার করে সংখ্যালঘু মর্যাদা নির্ধারণ করা মুষ্কিল এবং স্থান-কাল ভেদে সংখ্যালঘু অধিকারের স্বরূপ ভিন্ন ভিন্ন। ২০০৬ সালে জাস্টিস সাচার কমিটি ও ২০০৭ সালে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশন সংখ্যালঘু প্রশ্নে রিপোর্ট প্রদান করে। প্রথম রিপোর্ট থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিদারুণ দূরবস্থার কথা আমরা জানতে পারি এবং দ্বিতীয় রিপোর্ট সংখ্যালঘুর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনসংখ্যা অনুপাতে সংরক্ষণের সুপারিশ করে। সম্প্রতি কুণ্ডু কমিশনও অনুরূপ রিপোর্ট পেশ করেছে। একথা আমাদের বোঝা উচিত যে ভারতীয় বৈচিত্র্যকে যদি সঠিক অর্থে স্বীকৃতি প্রদান ও প্রতিষ্ঠিত করা না যায়, তাহলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা বিপন্ন হয়। সংখ্যালঘুর অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সংখ্যাগুরুর গণতন্ত্র প্রসারিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে সংখ্যালঘুর যে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা গণতন্ত্রের বিকাশের ক্ষেত্রে এক একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত, যেমনটি হয়েছিল স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সংবিধান রচনার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এই একেকটি পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে অপারগ হওয়ায় যে কোন প্রতিক্রিয়াশীল আক্রমণের মুখে কিংবা কোনো রেডিক্যাল দাবির মুখে ভারতীয় রাষ্ট্র-ব্যবস্থা অসহায় হয়ে পড়ে। সুতরাং একটা সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সংখ্যালঘু তথা ভারতীয় বৈচিত্র্যের প্রশ্নকে বিচার করতে হবে এবং এর সমাধানের উপায় নির্ধারিত করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল গণতান্ত্রিকীকরণ ও জনগণ-কেন্দ্রীক নতুন উন্নয়ণের মডেল ছাড়া এই সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
সাংবিধানিক ঘোষণা অনুযায়ী ভারতীয় রাষ্ট্র একটি ফেডারেল রাষ্ট্র, কিন্তু অন্তর্বস্তুতে এটি এককেন্দ্রিক। ভাষাভিত্তিক রাজ্যগঠন এই এক কেন্দ্রীকতাকে খানিকটা দুর্বল করলেও নীতি নির্ধারণের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে। কেন্দ্রের অধীনে রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও এককেন্দ্রিকতার এই অন্তর্বস্তু বিদ্যমান। যারফলে সর্বভারতীয় কিংবা রাজ্যের এই ক্ষমতার কেন্দ্রে যে জনগোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম তাদের স্বার্থ, মতামত, ভাষা-সংস্কৃতি রাষ্ট্র-পরিচালনার জন্য নীতি প্রণয়নে অধিক গুরুত্ত্ব পায়। সুতরাং আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোকেই ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন। কীভাবে?
প্রথমতঃ উপর থেকে নীচ পর্যন্ত ক্ষমতার যে বিন্যাস, যে বিন্যাসে উপরের ক্ষমতাবানরা নীচের স্তরে ভাগ-বাটোয়ারার এক দালাল নেটওয়ার্ক তৈরি করার সুযোগ পায় তাকে উল্টে দিয়ে তলা থকে উপরের দিকে ক্ষমতার বিন্যাস করতে হবে। ক্ষমতার কেন্দ্র হতে হবে পঞ্চায়েত কিংবা মিউনিসিপাল অথরিটি। নীচের সেই স্তর থেকে সাধারণ বিষয়গুলি একে একে উপরের দিকে বিন্যস্ত হবে। মূদ্রা, পররাষ্ট্র, সর্ব-ভারতীয় যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয় ছাড়া বাকী সব বিষয়ের বেকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। নির্দিষ্ট এলাকায় যে সব জনগোষ্ঠীর বসত নেই এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাদের জন্য জনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষণের বিধান রাখতে হবে। সব জনগোষ্ঠী যাতে তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে ক্ষমতার সমান অংশীদার হতে পারে তা সুনিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এসমস্যার অনেকখানি সমাধান করতে পারবে। আলাপ-আলোচনা ও সহমতের ভিত্তিতে যাতে নীতি নির্ধারণ করা যায় তার উপর গুরুত্ত্ব দিতে হবে, তাতে যুক্তির বিচারে কোনো প্রগতিশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলেও আখেরে লাভ হবে ও গণতন্ত্র বিকশিত হবে। জনগণের ক্ষমতায়ন করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনার অধিকার দিতে হবে এবং জনমত যাচাইয়ের জন্য গ্রামসভা, মহল্লাসভা, ফ্যাক্টরি সভা, ওয়ার্ড সভা এবং সর্বোপরি গণভোটের উপর গুরুত্ত্ব আরোপ করতে হবে, এব্যাপারে এলিটিস্ট ধারণার বশবর্তী হয়ে জনগণের ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভয়ে এগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া চলবে না। কারণ ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণ নতুন সমাজ গড়ার দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে, এলিটিস্ট হুকুমবাদী পরিচালনায় যা এতাবৎ ব্যাহত হয়ে আসছে। উন্নয়ণের ক্ষেত্রেও বিদেশি পুঁজি-নির্ভর ‘গ্রোথ-অনলি’ মডেলের বিপরীতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মিডিয়াম শিল্পের উপর গুরুত্ত্ব আরোপ করতে হবে যেখানে রাষ্ট্রের মদতে জনগণ তার শ্রমের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উপলব্ধ ক্ষুদ্র পুঁজিকে কাজে লাগাতে পারে। শুধুমাত্র এই অর্থনৈতিক মডেলের মধ্যেই থেমে থাকলে চলবে না, কারণ এমন এক অর্থনৈতিক ভিত্তি রচনা করতে হবে যা উপরের রাজনৈতিক কাঠামোর অনুকূল। শ্রম-সমবায়ের মালিকানা ও একে বৃহৎ থেকে বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। ব্যক্তি-শ্রমিকের আয় বৃদ্ধির প্রয়াস যাতে সমবায়ের সব সদস্যের আয়বৃদ্ধির অধীন হয় তারজন্য শ্রমিকের যৌথ মূল্যবোধ গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে যাতে সমবায়িক উৎপাদনের কোনো সংকটকালে শ্রমিক-সদস্য সংখ্যা কমানো না হয়, একইসাথে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নতুন শ্রমিকদের পরিচালনায় উৎপাদনী উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে যাতে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি না ঘটে ও নতুন নতুন ক্ষেত্রকে আধুনিক উৎপাদনী ব্যবস্থার অধীনে আনা যায়। এধরনের পরষ্পর পরিপূরক এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ছাড়া পূর্ণ গণতান্ত্রিক ফেডারেল রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বজায় রাখা যাবে না। এভাবেই জনগণ দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব যেখানে সংখ্যা কিংবা আর্থিক-সামাজিক মানদণ্ডে কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীই নিজেদেরকে শোষিত বঞ্চিত বলে ভাববে না। এভাবেই ভবিষ্যত সমাজের এক সাদামাটা রূপরেখা তৈরি করা যায় যা জনগণের সৃজনশীল অংশগ্রহণে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ রূপ পরিগ্রহ করতে পারে। কর্মক্ষত্রে দায়িত্ববোধ নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের একথা বোঝা উচিত যে মানুষ যখন শুধুমাত্র নিজের জন্য ও নিজের পরিবারের জন্য নয়, নিজের স্বার্থে কাজকে যখন সচেতনভাবে জাতির জন্য-দেশের জন্য ও মানব সমাজের জন্য কাজ করছে বলে ভাবতে শুরু করে তখনই কাজের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। বর্তমান ব্যবস্থায় সংকীর্ণ পরিসরে এই বোধ জাগ্রত থাকে, বৃহত্তর পরিসরে এই বোধকে জাগ্রত করার জন্য চাই নতুন ব্যবস্থা যেখানে মানুষ ব্যাপক সমষ্ঠি স্বার্থের কথা ভাবতে পারে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক ফেডারেলিজমের ও বৈচিত্র্যের উপর যে আক্রমণ নেমে আসছে তা উৎপাদন ও এর সাথে যুক্ত বন্টন ব্যবস্থার দ্রুত বেসরকারিকরণের প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত।    

এ তো গেল ভবিষ্যত সমাজের কথা। কিন্তু এখনই আমাদের সামনে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই যে যেটুকু সাংবিধানিক গণতন্ত্র স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা আজ ভূলুণ্ঠিত হতে চলেছে। উগ্র-সাম্প্রদায়িকতাবাদ, উগ্রজাতিয়তাবাদ ও বর্ণবাদ ভাষিক-ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও দলিতদের সমস্ত অধিকার হরণ করতে উদ্যত হয়েছে। রাজ্যের হাতে থাকা ক্ষমতাগুলি প্রতিনিয়ত হরণ করা হচ্ছে। বেসরকারিকরণের মাধ্যমে রাজ্যের হাতে থাকা সম্পদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আয়ের পুনর্বন্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মর্জিকে দেওয়া হচ্ছে অধিক গুরুত্ত্ব, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মত পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলির যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার বিধান ছিল তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতাহীনতার মূল সূত্রই হচ্ছে মুষ্ঠিমেয়ের হাতে সবার উন্নয়নের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া, উপনিবেশিক যুগে আলোকপ্রাপ্ত ইউরোপিয়ানদের হাতে আমরা যেভাবে দায়িত্ব সঁপে দিয়েছিলাম। এমতাবস্থায় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য ভারতবর্ষের সাংবিধানিক ফেডারেলিজমকে রক্ষা করার মাধ্যমে সংখ্যালঘু অধিকার প্রতিষ্ঠা আশু কর্তব্য হিসেবে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। আশু ও সুদূর-প্রসারী লক্ষ্যে নির্ধারিত কর্মসূচীর মাধ্যমেই জনগণ সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিরোধহীন এক নতুন সমাজ, নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।







   

EPW article : JNU episode and the popular discourse on history

Posted by স্বাভিমান


Democracy and the Popular Discourse on History

Arup Baisya (swabhiman.ngo@gmail.com) is a social activist based in Silchar, Assam.
The people of India are disillusioned. The present phase of neo-liberal capitalism, and the changes that it spells, do not take into account the vertically and horizontally disintegrated working class and the structurally remodelled castes-communities. The Jawaharlal Nehru University debate around the constitutional right to speak only re-emphasises the fact that if we wish to stall the rise of fascism, the past needs to be reconstructed as a paradigm for the future.
The debate that revolved around the arrest of Kanhaiya Kumar, the Jawaharlal Nehru University Students’ Union (JNUSU) president, and other student leaders on sedition charges raised more questions than answers. Though the central theme of this debate is the constitutional right to speak, the moot question is how the future of India, rooted in the present, articulates the past. Thus, the discourse on the history of the Indian past in popular political parlance gets constantly constructed and reconstructed with a vision to the future. This is bound to happen because the history of the Indian past, like the socio-historical past of mankind, is not fixed, one-dimensional and completely knowable for all.
Meaning of the Present
The aggressive state intervention to scuttle the effort of the Jawaharlal Nehru University (JNU) students to open up a space for multiple voices, and the high-handed approach of the Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS) bandwagon to muzzle alternative voices to their Hindutva-vadi nationalist narrative generated a vibrant debate within the educated class. But the reasoned argument, which is essential for safeguarding and promoting democracy, cannot be sustainable without linking it to the Indian past with a view to formulating a future plan of action. In this framework, the participation of the left in this debate fails to catch the imagination of the popular psyche and leaves the space open for obscurantist forces to take over. Whether the progressive or regressive characteristics of the Indian past will be reconstructed is squarely dependent on the future project envisioned in the present.
The meaning of the present is used as a key to unlock the meaning of the past leading to the present, which in its turn, unlocks formerly unidentified dimensions of the present leading to the future not in the form of rigid mechanical determinations but as anticipation of aims linked to a set of inner motivations. Thus, we are involved in a dialectic movement which leads from the present to the past and from the past to the future. In this movement the past is not somewhere there, in its remote finality and ‘closure,’ but right ‘here,’ ‘open’ and situated between the present and the future (Mészáros 2013: 68).
People are disillusioned with the present state of affairs. But there cannot be any change without a radical break from the present; without a structural discontinuity. Without a conscious desire for change, a discontinuity within the framework of structural continuity may be projected as a change to misguide the collective unconscious. On this count the RSS has a mission to change the state’s character based on religious nationalism within the crisis-ridden capitalist structure. Mutatis mutandis, the left appears to be playing within the same arena without having any alternative plan. The mainstream left nowadays claims its commitment to secure the idea of Akhand Bharat that negates the principle of the “right to self-determination.” Its selective opposition to the neo-liberal reform agenda does not entail an alternative vision for a future beyond neo-liberal capitalism. The undertaking of secularism, which is construed within the framework of truncated democracy and the societal imbalances caused by neo-liberal onslaught, is not qualitatively different from the secularism of the United Progressive Alliance (UPA) variety, with which people are so disillusioned. Participating in the JNU debate, the Communist Party of India (Marxist) (CPI(M)) leader Sitaram Yechury expressed vainglory in his Rajya Sabha speech for upholding the concept of Akhand Bharat in his JNU days. It becomes difficult to assess whether it is a defensive stance or principled stand.
Future That Articulates the Past
The popular perception of our past is always based on a derivative discourse. One always looks back to his past to envision a future. The British introduced communal historiography in India. This historiography is a way of looking at the historical phenomenon through the lens of religion. The RSS has mastered the art of propagating our past derived with the instrument of religious doctrine for a future project of an authoritarian state. Their concept of an authoritarian state is projected as a mythical “Ramrajya,” a change based on the Hindu Yuga division of time for popular acceptance. This historiography catches the imagination of collective unconscious when the system itself is in deep crisis in absence of a popular discourse on historiography that envisions a future from a working class perspective.
It needs to be emphasised that today, for state-of-the-art historical understanding anywhere in the world where South Asia is being studied, the assumption of Savarkar or Golwlajar would appear so absurd as hardly worth refutation or debate. Irrespective of their other differences, historians of all trends, liberal, nationalist, the erstwhile ‘Cambridge’ school, Marxist of diverse kinds, late-subalterns, feminist, post-or anti-modernists—would all agree that the essentialised assumptions of Hindus and Muslims being homogeneous, continuous blocs across time and subcontinental space, with Muslims as a community ruling Hindus in the medieval centuries, are totally unacceptable (Sarkar 2004: 254).
Despite this being the fact, the RSS variants of historical interpretation are catching the imagination of the people in this neo-liberal phase of capitalism. Here, we have a coincidence in time in the ideologies of globalisation and liberalisation with the spectacular advance of Hindutva which requires much further explication. The spectacular advance of Hindutva is inevitable if the assertion of the oppressed caste/class, and for that matter the working class assertion against neo-liberal capitalism, is not articulated with a future project.
Based on this assertion of the under-privileged in the present milieu of neoliberal policy regime, our historical past can only be articulated with a vision for future. Therein lies the real process for the development of ideological and material force to combat the religious bigotry and authoritarian rule. The mainstream left parties with a doctrinaire mindset believe that the working class is a tabula rasa and that they only internalise verbatim the content that the left ideologue preaches. This mindset makes them defensive and compels them to gesticulate within the dominant world view to suppress the future.
As early as the Bernstein Debate it was clear that the opportunists had to take their stand ‘firmly on the facts’ so as to be able to ignore the general trends or else to reduce them to the status of a subjective, ethical imperative (Lukacs 1993: 182).
Facts are to be judged in a social context; the static representation of the past in the Hindutva-vadi discourse must be contested with a future project that does not invent the past, but articulates it.
Democracy and Justice
One of the reasons behind the rise of the Aam Aadmi Party (AAP) to power in Delhi with an overwhelming majority in the midst of a countrywide Hindutva-vadi wave was the popularly perceived notion that the citizens would have the opportunity to participate in the governance and decision-making process. The vote base of a section of the oppressed castes/communities adhered to their mentor Lalu Prasad Yadav, despite all his misdeeds, because of his politics of instilling a sense of self-respect and empowerment in daily mundane affairs. But this perceived notion is not sustainable if it is not transcended and institutionalised.
The rapidly changing canvas of discontent against the backdrop of neo-liberal onslaught from the powers-that-be makes the terrain of political discourse complicated. The discourse on comparative advantage of dirigiste Nehruvian model and notional participatory democracy and justice cannot match the changing mental wavelength of the vertically and horizontally disintegrated working class and structurally remodelled castes–communities in the present phase of neo-liberal capitalism. In the context of the present, the past needs to be reconstructed as a project for the future.
B R Ambedkar, who chaired the drafting committee that collated the new Indian Constitution for adoption by the Constituent Assembly shortly after Indian independence in 1947, wrote fairly extensively on the relevance, if any, of India’s ancient experiences in local democracy for the design of a large democracy for the whole of India (Sen 2010: 330).
But the bourgeoisie has no democratic mission of its own to ensure justice and participation of all citizens in policymaking, because the sole driving force and the motive of capitalism rests on ensuring profit and accumulation. The concept of bourgeois democracy is an offshoot of a compromise between the bourgeoisie and the working class to guarantee the capitalist hegemonic structure. The constitutional democracy was articulated in the situation after Indian independence in 1947. It needs to be transcended and rearticulated against the backdrop of the here and the now, because the determination from the past and the anticipation of the future converges into the present. All of this comes to life in a synthetic unity of the dialectical totalisation in which subjectivity and objectivity are inextricably fused.
A totalitarian state is one that suppresses the interplay of state and society, extending the sphere of its exercise to the totality of collective life. This necessitates a vision of history that abuses and hates dissent. On the contrary, demand for democracy is carried or concealed by the idea of a new society, the elements of which are being formed at the very heart of contemporary society. The Hindutva-vadi forces intend to transmit the historical facts taken out of its context with a view to stereotype the name “Muslim” and for that purpose, education needs to be confined to the deductive logic of Brahminical texts. This self-destructive tendency can be combated only by the process of transmitting the universality of knowledge. It is not a conflict between your Hindutva-vadi Akhand Bharat versus our secular Akhand Bharat.
Amartya Sen in his book The Idea of Justice emphasised that the excellent record of Athenian democracy of electoral governance had no immediate impact in the countries to the west of Greece and Rome; rather Indian vis-à-vis the Asian cities had incorporated this democratic practice. He further opined that while Athens certainly had an excellent record in public discussion, open deliberations also flourished in several other civilisations like India. This civilisational trait of democracy finds its resonance in the post-independence constitutional democracy. This constitutional democracy was formulated by the bourgeois class to accommodate all diverse interests that were unleashed during the long-drawn out freedom struggle.
But now against the backdrop of a deep structural crisis of global capitalism, this bourgeois class is trying to roll back the provisions of constitutional democracy which has become anathema to the neo-liberal policy drive. So, the content of democracy needs to be reconstructed with a linkage to the past from a working class perspective. That demands inclusion of absolute right to dissent including the right to secede and a decentralisation of power to the fullest extent so that people can participate in the decision-making process. Furthermore, the neo-liberal policy doctrine should be opposed in letter and spirit along with an alternative economic policy framework.
German Experience and Indian Fascism
After careful discussion of social origin, educational background, income differentials, organisational experience, and status consciousness, J Kocka concludes that American white-collar workers showed a much lower propensity to see themselves as a distinct class or status group superior and hostile to the working class. So while the white-collar workers turned to the Nazis in large numbers, their American counterparts joined manual workers in support of the New Deal (Dobkowski and Wallimann 1989: 75).
In addition to that, the fragmentation of the petty bourgeoisie and workers was influenced by religious and ethnic differences in Germany, the interventionist state emphasised the collar line and legally cemented the lines of differentiation, and a stratified educational system was put in place to restrict the mobility between manual and non-manual jobs. In Germany, the political culture was deficit of some essential ingredients of a modern bourgeois or civil society that was closely but inversely related to the strength of Germany’s pre-industrial and pre-bourgeois traditions. In the case of white-collar workers this created a much-ready support for the fascists.
Both Germany and Italy were societies experiencing accelerated capitalist transformation, through which entire regions were being visibly converted from a predominantly rural to a urban environment. The pace of social change outstripped the adaptive capabilities of the existing political institutions. In a situation of widespread political uncertainty, the existing political bloc of industrial, agrarian, and military–bureaucratic class took recourse to a new kind of radical nationalism, which stressed the primacy of national allegiances and priorities normally with heavily imperialist or social–imperialist inflection over everything else. The attraction of radical nationalism may be grasped partly from the ideology itself, which was self-confident, optimistic, and reaffirming. It contained an aggressive belief in the authenticity of German national mission, in the unifying potential of nationalist panacea, and in the popular resonance of the national idea for the struggle against the left. Radical nationalism was a vision of the future, not of the past. The dramatic conjuncture of war and revolution between 1914 and 1923 produced a crisis, which brought domestic unity, foreign mission, and territorial integrity of the nation into question. It was thus able to achieve popular appeal.
Though in many ways present-day India resembles the German phenomena, there are new criteria too. Not only is capitalism in deep crisis, the neo-liberal policy drive has also failed to mitigate this crisis situation. After the post-independence period of uneven and combined development process, and especially after the neo-liberal policy drive, the relation of production has undergone a drastic change. The pressure group of organised labour in the public sector has been dismantled to a large extent due to privatisation and contracualisation. The rapid urbanisation and conversion of the rural masses into wage labour has also reconstructed the caste/class dynamics. Now unorganised urban and rural labour constitutes the largest chunk of the workforce. The pursuit of a neo-liberal jobless growth model has led to increased and growing unemployment. In the absence of a left agenda to address the contested terrain of popular democratic aspirations, this working class is amenable to fall prey to the most telling political intervention of fascist right.
The Alternative
The proponents of liberal secular democracy are advocating Keynesian economy, but they are confining themselves only within the demand management instead of dwelling on the most radical aspect of Keynesian economy. Keynes foresaw a stage when fiscal and monetary stimuli alone would not suffice to increase investment sufficiently:
Then a somewhat comprehensive socialisation of investment will prove the only means of securing an approximation to full employment; though this need not exclude all manners of compromises and of devices by which public authority will co-operate with private initiative (Desai 2013: 60).
With the legitimacy of left politics at its nadir, a new institutional democracy reconstructing the civilisational democratic practices and an alternative economy challenging the neo-liberal policy needs to be projected from a working class perspective to address the popular democratic aspirations. The rise of fascism can only be stalled by an oppositional unity based on this premise. The UPA variant of a rainbow coalition of all oppositional forces conceptualised within the framework of neo-liberal policy may not be able to stop the fascist juggernaut once and for all.
References
Desai, Radhika (2013): Geopolitical Economy, After US Hegemony, Globalisation and Empire, London: Pluto Press.
Dobkowski, Michael N and Isidor Wallimann (ed) (1989): Radical Perspectives on the Rise of Fascism in Germany, 1919–1945, Kolkata: Cornerstone Publications.
Lukacs, Georg (1993): History and Class Consciousness, New Delhi: Rupa.
Mészáros, István (2013): The Work of SartreSearch for Freedom and the Challenge of History, New Delhi: Aakar Books.
Sarkar, Sumit (2004): Beyond Nationalist Frames: Relocating Postmodernism, Hindutva, History, New Delhi: Permanent Black.
Sen, Amartya (2010): The Idea of Justice, New Delhi: Penguin Books.

From the Spring-thunder to the Present Day

Posted by স্বাভিমান


The Naxalities

From the Spring-thunder to the Present Day

Arup Baisya

One common thread that binds all the CPI(ML) groups into a common camp till date is the identification of state character as semi-feudal, semi-colonial. There are divergent views on many strategic and tactical issues other than that. One extreme view on a tactical question turned into strategic question is 'the armed struggle from the beginning delineating Indian democracy as illusion'. The Maoist still adheres to this extreme position which was formulated during the formation of party post-Naxalbari peasant upsurge. Other than the Maoist, all other groups who have more or less rejected this extreme position dwell on the question of democracy at some length, though the discourse on democracy in the Naxalite circle barring few exceptions still falls short of the nature of democracy in post-revolutionary society. Many erudite writers claim that the Indian sub-continent has great democratic civilisational traditions of debate and continuous questioning of status quo or whatever does exist. This civilisational pull always remains at play within each and every social and political process. The contrary view emphasises that this civilisational pull had already been neutered in the Indian society long back by the Brahminical traditions of cause-effect duality which is presently dominant. The state promotes and sustains this mindset through institutional means. But the freedom struggle had rejuvenated the civilisational past of democratic debate and dissent to a great extent. It culminated into a discontinuity in 1947 by unleashing the initiative of formation of a post-independence state, but maintained the continuity with the past through a combination of both reactionary brahminical traditions and democratic civilisational traditions. The birth of independent state had encountered peasant revolt like Tebhaga, Telengana movement at its initial years. But the peasant movement in the initial phase failed to articulate the political question of state power which has its foundation on the vestiges of colonial and feudal exploitation. Other factors aside, this is perhaps because it was a phase of post-war global capitalist expansion.
In 1946, there was the Thebhaga movement in undivided Bengal. The Telengana insurrection (1946-51) was much more broad-based and peasants were able to establish their control over about 3,000 villages and their influence extended over several others. Again in 1959, peasant movement in Naxalbari Kharaibari police station which did produce some result was spearheaded by Kishan Sabha of CPI. The Naxalbari uprising was a much smaller affair in comparison. But then Naxalbari left a far-reaching impact on the entire agrarian scene throughout India. 1961 Census data shows that proportion of cultivators with agricultural labour as secondary occupation in Naxalbari, Phasidewa Kharaibari was 94.4, 76.5, 92.6 per cent respectively and proportion of agricultural labour with cultivation as secondary occupation was 96.6, 96.2, and 58.8 per cent respectively. According to census report of 1961, 57.7, 72.2 and 64.4 per cent of the total population of Naxalbari, Kharaibari and Phansidewa, respectively, comprised Scheduled Castes and Tribes. 40.0, 30.8, 15.2 per cent of total population in these three areas, respectively, were engaged in mining, forestry and plantation. The tribal includes Santhals, Madesias, Oraons, Mundas and Rajbanshis. Though the revolt against exploitation of bhagchasis by the jotedars was the important dimension, it had a working class dimension too. Furthermore, the overwhelming participation of scheduled tribe groups in comparison to others revealed the dimension of caste-community and the cultural tradition. While formulating the strategy and tactics in the post upheaval phase, all these socio-economic intricacies and specificities were ignored.
But unlike other peasant struggles which were predominantly based on economic demands, the Naxalbari peasant movement was transformed into a political movement by placing the question of state power at the core. This was achieved more by the conscious intervention of communist vanguard elements from outside than the rise of mass-consciousness through social dynamics from within. In a leaflet of 9 April 1965 of Siliguri militants, guided by Charu Mazumder stated : 'it is necessary now to come forward powerfully and tell the people forcefully that capturing of power area-wise is our way'. It further gave a call for laying foundation of a new people's democratic India by building liberated kisan areas through kisan revolution. Though the much emphasis on Avant-gardist or Vanguard approach from outside created the basic foundation of dogmatism and democracy deficit in organizational affairs at a later stage, an epoch-making paradigm shift from status quo had happened as Samar Sen assessed the Naxalbari uprising in the following words:
"Naxalbari exploded many a myth and restored faith in the courage and character of revolutionary Left in India. It seemed that the ever-yawning gap between precept and practice since Telengana would be bridged. Indeed, the upheaval was such that nothing remained the same after Naxalbari. People had to readjust their position vis-à-vis every aspect of the system : political, administrative, military, cultural."
The Naxalbari upsurge had changed the political milieu with radical break from revisionism and class compromise, exposure of Indian state character and the dream for a revolutionary systemic change. The Valliant participation of Indian students-youths with the dream for a revolutionary change was the hallmark of that genre. The brief period of political turmoil post-Naxalbari upsurge was marked with intense lively debate and commitment for a noble cause. But the whole enthusiasm and revolutionary zeal gave birth to a dogmatic mindset that prevented the review of the changing situation with its historic specificities for formulating new strategy and tactics. The two main aspects of the changing situation are the agrarian question and the question of democracy.
On 22nd April, 1969, the one hundredth birth anniversary of Lenin, the All India Coordination Committee of Communist Revolutionaries was liquidated and the Communist Party of India (Marxist-Leninist) based on the thoughts of Mao Tse-tung was formed. The programme of the party stated that India is a semi-colonial and semi-feudal country, the Indian state is a state of big landlords and comprador-bureaucrat capitalists and its government is a lackey of US imperialism and Soviet social-imperialism. It was announced that the first and foremost task of party is to rouse the peasant masses in the countryside to wage guerrilla war, unfold agrarian revolution, build rural base, use the countryside to encircle the cities and finally to capture the cities and to liberate the whole country. Thus, in the present day phase of Indian Revolution, the centre of gravity of work has to be in the village.
Mao's statement that 'if there were no contradictions in the party and no ideological struggles to resolve them, the party's life would come to an end' was also quoted to buttress the argument in favour of an early formation of Marxist-Leninist party.
The annihilation theory, Lin-Biao's people's war theory, abandoning of mass struggle were the point of disagreement within the CPI(ML). The one-sided view on struggle in Bangladesh in Deshabrati of 28 April 1971 caused disillusionment in rank and file. The authoritarianism that was brewing in the functioning of party immensely contributed to the disintegration of the party. Under these circumstances, the 'operation steeplechase' (july–august 1971) launched by Central Govt. in cahoots with the state govt. had broken the backbone of Naxalites. All these factors combined gave a coup de grace to the insurrection.
Participation of CPI(ML) groups in anti-emergency movement gave some leeway in the post-emergency election when for the first time CPI(ML) participated in the election as a tactical move and thus chose to make distinct break from the original tactical line. But instead of participation in mass struggle on different occasions especially in Bengal, Bihar, Assam, this extension of mass base also could not be sustained.
The original strategic and tactical line of the CPI(ML) has been adhered to by a certain section who renamed themselves as Maoist. This Maoist revived their violent activities in the 1980s and extended their area of operation in certain states and it touched a peak in 1991. But it also got retreated since the resurgence of such activities once again through regrouping in 2004.
The CPI(Maoist) has reaffirmed the programmatic line of the CPI(M-L) of 1970, committing to a people's war for seizure of power whilst also stating that it will wage struggles against the Government of India's plans to set up Special Economic Zones and against the displacement of tribals and forest dwellers by mining and other projects. In fact, their actual area of operation is confined to those areas where the battle against 'primitive accumulation' or 'accumulation by dispossession' as paraphrased by David Harvey is main agenda of the masses. The dogmatic mindset of the Maoists has deterred them from resolving the dichotomy between their practice and adopted theoretical position. When they are predominantly participating in the struggle especially of tribals against mining and other projects involving displacement of people, they stick to the original formulation of principal contradiction as between feudalism and peasant masses. That dichotomy and dogmatic adherence to the original line for claiming themselves as the vanguards of the only party that bears the legacy of Naxalite movement is the driving force to pull the Maoist to resort to the annihilation tactics instead of setting the objective for mobilization against 'imperialism' as reflected in India's economic liberalization and the effects of globalization rather than 'anti-feudal' struggles.
However, the democracy deficit in organizational matters and the lack of flexibility to develop the theoretical formulations based on the changing socio-political milieu was ingrained in the Naxalite movement from the very beginning of party formation. According to some critics, the alleged suppression of the suggestions of the CPC by the Central committee led by Charu Mazumder was the root cause of factionalism, disintegration and alienation from the masses within few years after the 'Spring Thunder'. What were those suggestions? Calling chairman of one party as the chairman of another party is wrong, the idea of united front is mechanical and is not conceptua-lised as a process, the abandonment of open mass activity is erroneous, adoption of Lin Biao's military line of guerrilla war and annihilation out of context, lack of agrarian programme, the authority and prestige of the leader should be emerged, not stage managed.
But the moot question is why all those aberrations happened and what makes the practicing revolutionaries to avoid such criticism? Reply to this question may be the lack of flexibility to take stock of the specificities and to accommodate new observations in the practice to modify the theoretical position on changing social dynamics. If these traits are further generalized, the beliefs that the consciousness should be instilled within the working class vis-à-vis masses from outside, the dictatorship of proletariat does not entail the development of bourgeois democracy to its fullest extent etc become hindrance to incorporate new observations for the development of theoretical positions and to practice inner party democracy. The Naxalites with their utmost conviction for revolution, successful break with opportunism and revisionism in left practice failed to sever ties with certain traits of Russian and Indian left legacy, though they delineated erstwhile Soviet Russia as social imperialist. It was more due to the fact that Chinese revolutionary practice also did not challenge these traits of Russian communist legacy. What are those traits?
Toeing the line of the Commintern's sixth congress, Indian left emphasized the control of the party leadership over the workers and peasants from above rather than the process of raising mass-consciousness and building a mass communist party whose members are organically linked with the struggling masses. The Indian communists also imbibed the idea of one party rule in a post-revolutionary society from the communist party of Soviet Union and the influence of Commintern. Naxalites were no exception in practice. Competition with parties representing the interest of other classes to win over the masses creates the space for a democratic environment which is necessary for the healthy interaction of diverse opinion within and outside the party. This acts as an important countervailing factor to save the party from plunging into the quagmire of ultra-centralism and inertia of moribund party life. The overdependence of the Indian left a la Naxalites on 'conspiracy theory' emanates from the vanguardist approach to lead the peasant revolution and to ignore the process of developing mass consciousness. This vanguardist approach was imbibed from Russian revolution while misreading the understanding of Lenin who described 1917 Russian Revolution as the first stage of the proletarian revolutions which are inevitable result of the war. According to Lenin, it was the horrors of the imperialist war that had led to these proletarian insurrections by which bourgeoisie gained power, but power was shared between it and the workers and soldiers soviets, and these evils could only be cured if the proletariat took power in Russia and adopted measures that, even if not yet socialist, were steps toward socialism. But at later stage, class and party has been equated in left practice. Furthermore, Naxalite movement post Naxalbari upsurge had to be operated under continuous apprehension of being purged and repressed by the state machinery. This has its own ramification on practicing Naxalites who become over conscious about enemy agents and conspiracy even during open legal activity, and thus sectarianism has taken its root both theoretically and practically within the Naxalite movement. The sectarianism is rooted within the peasant movements of the Indian sub-continent.
Following the legacy of Indian left, Naxalites were also guided by the premise that the party is able to decide the best interest of the working class on the basis of Marxist "science". In this understanding, Marxism becomes an inert tool only to be handled by the Party to judge working class morality; in this framework, the working class becomes a passive onlooker who is only to be led and guided. Thus Marxist science degenerates into deterministic formulae to be used to predict the future. Following this approach, both the variants of the Indian left, the CPI-CPI(M) and the CPI(Maoist), have conceptualized the reality within the binary framework of opposite categories of war of position versus war of maneuver. The interconnectedness of these two categories and their dialectical relation with state are missed while strategizing the revolutionary movement.
The human rights activist, Professor G Haragopal of the University of Hyderabad, opined that the Maoists are now prioritising mobilisation, especially of tribals against mining and other projects involving displacements of people. If this assessment is true, then it can be considered as positive development.
However, it seems from the ethnographies that the extent to which the leadership has been able to develop a 'revolutionary consciousness' amongst the poor peasantry is very limited. George Kunnath's research shows how support amongst Dalits for the Maoists in Central Bihar weakened considerably, as the latter sought to bring in men from the middle and upper castes in pursuit of the goal of capturing state power and rewarded the higher caste members of their armed squads (dastas) more highly than the Dalits. The tendency on the part of the leadership to romanticise the revolutionary character of the peasantry is sometimes a problem and it is clear that such as this consciousness is, it may well be suppressed when government provides adequately for the most immediate needs of the people. The other big tension is between mass mobilisation and the necessarily secretive, armed power of the underground movement which is not inherently democratic at all. This relates in turn to the contradiction between the moral basis of the Maoist movement and the violence that it perpetrates. Violence can undermine that moral base and alienate supporters as has happened. The understandable sense of their persecution amongst Maoist cadres, confronted by the violence of the state, may lead to the indiscriminate use of force and their alienation from the people they claim to fight for. It is clear, too, that there is but a thin line between the 'revolutionary' and the criminal thug.
Aditya Nigam argues similarly that the adivasis cannot represent themselves; they must be represented, it would seem. They must be represented either by agents of the state or by the revolutionaries and the voice of the revolutionary is almost always that of a Brahman/upper caste Ganapathy or Koteswara Rao or their intellectual spokespersons. So there has a Maoist-aligned intelligentsia vicariously playing out their revolutionary fantasies through the lives of adivasis, while the people actually dying in battle are almost all adivasis.
All variants of left parties including the Naxalites have skewed organisational practice historically imbibed from commintern's left legacy. On the organization question, the position of Luxemburg who took an overall organic view has not been taken into cognizance by the Indian left movement. Her polemics against Lenin can be understood when she says, "let us speak plainly, historically, the errors committed by a truly revolutionary movement are infinitely more fruitful and more valuable than the infallibility of the best of all possible central committees".
Luxemburg also states, "On the one hand, we have the mass; on the other, its historic goal, located outside the existing society. On one hand, we have the day-to-day struggle; on the other, the social revolution. Such are the terms of the dialectical contradiction through which the socialist movement makes its way. It follows that this movement can best advance by taking betwixt and between the two dangers by which it is constantly being threatened. One is the loss of its mass character; the other the abandonment of its goal. One is the danger of sinking back to the condition of a sect; the other, the danger of becoming a movement of bourgeois social reform. That is why it is illusory, and contrary to historic experience, to hope to fix, once for always, the direction of the revolutionary socialist struggle with the aid of formal means, which are expected to secure the labour movement against possibilities of opportunist digression".
The Naxalbari peasant upsurge vindicated the stand of the section of left who severed ties with mainstream left and formed CPIML declaring the Indian state character as semi-feudal and semi-colonial. This characterization was in consonance with the Mao's formulation of 'erosion and retention' of feudal relation in the era of imperialism and semi-colonial settings. The Naxalbari upsurge actually happened in the backdrop of a phase of class struggle that was unleashed during that period in the Indian agricultural sector. The question arises what happened to the agrarian relations of production after this phase of class struggle. Did this phase mark the beginning of gradual transition of feudalism to capitalism from below as it happened in France? The question also arises whether the continuation of same strategy followed by the CPIML groups in the rural areas post-Naxalbari upsurge has any bearing on the shrinking mass base.
As per the observation of Daniel Thorner, the American Historian, who initiated the Indian mode of production debate, the big business in India in late 1960s and early 1970s was campaigning for an open door policy of free entry into agricultural production. The house of Birlas took the lead in demanding a shift in Government policy away from cooperative farming, which failed to make any headway worth noting, towards corporate farming. The former Prime Minister, Indira Gandhi, emphasized "Land reform is the most crucial test which our political system must pass in order to survive". (LAND REFORMS REMAIN AN UNFINISHED BUSINESS'K. Venkatasubra-manian, Planning commission, GoI, Site).
This shift of political balance within the Congress to serve the corporate interest as against the feudal interest was visible in the early seventies. It is worth-mentioning here that the global capitalism also entered into systemic crisis just before the advent of that period of intense agrarian class struggle and was desperately searching for profitable destination for investment. The interest of corporate capital for making further deep inroads into the Indian agricultural sector was drawn by the presence of wage labourers along with a reserve army of labourers and the commodity production for market as the dominant features in the agricultural sector instead of subsistence cultivation. The forces for rapid transition to agrarian capitalist relations had taken the driving seat both politically and economically from that period.
After more than three decades of neoliberal globalization of capital, the corporate food regime dispossesses peasants as a condition of corporate agriculture, what Harvey terms as 'accumulation by dispossession'. Massive acquisition of agricultural land by multinational corporations for non-agricultural purposes and increasing privatization of natural resources introduced new patterns of urbanization and industrialization. The increasing control of agribusiness over input and output flows of agriculture indicated a massive debouching of workforce from the farm sector.
When the agrarian question is revisited after three decades of neoliberal policy drive, the convergence of opinion among the academicians on the broad canvass of delineating the Indian agrarian relation as capitalist has been emerging. The penetration of corporate capital and accumulation of surplus thereof by global corporate giant through the value chain restrained the re-investment of capital by both landlord capitalist and peasant capitalist in the agricultural sectors and thus delinking of the peasant economy from global corporate control is essential to serve the interest of these agrarian classes. From the point of view of labour, there are regional and community variants. The formal, real and hybrid forms of subsumption of labour to capital fit to these unevenness of capitalist development.
The nature of agrarian relations in India is bound to reflect the external neoliberal influences as much as the internal historical specificities. The diversities in the agrarian relation of production ingrained in the labour process can be conceived from formal, real and hybrid forms of subsumption of labour to capital.
The primitive accumulation drive of the global corporate capital and the distress situation in agricultural economy are continuously converting the displaced peasants into wage labourers for their subsistence with wages below the value of labour-power and getting engaged in informal sectors which is being expanded due to neoliberal urbanization, and thus the agricultural labourers are coming under the purview of formal subsumption to capital. The technological inputs in the agriculturally and industrially developed Indian states are drawing the rural wage labourers under the real subsumption to capital. There is also a third category of large number of small peasants. Marx, in his letters to Vera Zasulich, pointed out the hybrid form of subsumption of labour to capital in the case of pre-revolutionary Russian peasant communes and observed that the survival of these communes were dependent on the occurrence of Russian revolution. The Indian small peasants are largely engaged in commodity production and send their products to the market through marketing chain which is rapidly being brought under the control of global corporate giants entering the retail market and agribusiness. The small peasants engaged in commodity production are actually paying their own wages from the small portion of surplus they can be able to accumulate. The survival of these small peasants is also dependent on Indian revolution that will usher in delinking of agricultural economy from the clasp of the global corporate and their Indian compradors. Due to the dominance of global corporate capital, the landlord capitalists in the agriculturally developed states and the peasant capitalists in the industrially developed states can also garner little control over production process to accumulate surplus to reinvest. Thus all the rural classes have a score to settle with the global corporate capital and their Indian compradors, be it the question of wages, delinking of economy from the control of global corporate capital for capital accumulation and re-investment or preservation of natural resources and ecological balances from the onslaught of primitive accumulation. The changing dynamics of rural class relations has also put the institution of patriarchy into intense questioning. A programme that encompasses all these factors to build a mass struggle against corporate plunder may rejuvenate the Naxalite movement once again.
The left radicals in India must come out of their sectarian outlook and this can be achieved by turning the focus on mass struggle against neoliberal corporate onslaught. The left radicals should dwell on at length the question of democracy in inner party organizational practice, democracy in mass movement and the democracy in post-revolutionary society. The diverse mass movements need to be built with a focus on corporate and neoliberal onslaught. The Naxalites have the potential to be the core of the broad democratic front to scuttle the attempt for theological fascistisation of the state provided the characteristic transformation of the Naxalite forces with a view to radical transformation of the state is achieved. Whether this is a hope against all hopes, only time will tell.
References 
1)    Red and Green : Five decades of the Indian Maoist Movement : Monoranjan Mahanty
2)   The Naxalite Movement In India : Prakash Singh
3)   The Naxalite/Maoist Movement in   India : A Review of Recent Literature : John Harriss.
4)   'The Left in Decline': A Historical Perspective : Economic & Political Weekly EPW NOVEMBER 19, 2011 vol xlvi no 47. : Arup Baisya
5)   Economic & Political Weekly EPW NOVEMBER 22, 2014 vol xlIX no 47 "Strategic Dilemma of the Indian Left—Arup Baisya.
6)   A World to Build : Marta Harnecker.
7)   Agrarian Transition : Naxalite Movement And Peasant Question : Frontier, Vol. 49, No.1, Jul 10-16, 2016, Arup Baisya.
Frontier
Vol. 49, No.13-16, Oct 2 - 29, 2016

http://www.frontierweekly.com/Articles/vol-49/49-13-16/49-13-16-From%20the%20Spring-thunder%20to%20the%20Present%20Day.html
www.frontierweekly.com

নিউ ট্রেড ইউনিয়ন ইনিশিয়্যাটিভ (নয়া দিল্লি)’র পক্ষে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের ২ সেপ্টেম্বর ‘সর্বভারতীয় ধর্মঘট’ সফল করার আহ্বান

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,


প্রেসবিজ্ঞপ্তি


   
         কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করে চলেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে গিয়ে খুচরো ব্যবসায়ে একশ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় দিয়ে ও অপ্রত্যক্ষ করের (ভ্যাট) বোঝা বাড়িয়ে ভারতীয় ক্ষুদ্র খুচরো ব্যবসায়ীদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে এমনকি উৎপাদক কৃষকরাও বিপদের সম্মুখীন হবেন। নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ নাজেহাল। সকল ক্ষেত্রে সরকারি মালিকানা উঠিয়ে দিয়ে দেশের শ্রম ও সম্পদের অবাধ লুঠের জন্য দেশি-বিদেশি বৃহৎ ব্যক্তি-মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আসামের তৈল ক্ষেত্রের অকশন বিক্রির সিদ্ধান্ত এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। প্রতিরক্ষা খাতে একশ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
নির্বাচনের আগে আসামের চা-শিল্পে কর্মরত বিশাল শ্রমিকশ্রেণির মজুরি বৃদ্ধির কথা বললেও, আসামে ক্ষমতায় আসীন হয়েই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে বসে আছে বিজেপি দল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা সুনিশ্চিত করার বদলে বাগান মালিকদেরই স্বার্থ দেখছে সরকার। বাগান শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী শ্রমিকদের যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা তার কোনো কিছুই বাগান মালিকরা দেয় না, শ্রমিকের পিএফ-এর অর্থ জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিস্তর, কিন্তু কেন্দ্র-রাজ্য কোনো সরকারই আইন না মানার জন্য বাগান মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় না। শ্রম আইনকে সংশোধন করে শ্রমিক স্বার্থের উপর আঘাত করা হচ্ছে।তপসিলি জাতি/জনজাতি হিসেবে স্বীকৃতির দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে কেন্দ্র-রাজ্য সরকার এই জনগোষ্ঠীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে চলেছে।তাদের মাতৃভাষার ও জাতির স্বীকৃতি না দিয়ে এই জনগোষ্ঠীকে অপমান করে চলেছে সব দল ও সরকার।
        
             এই পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত দাবির ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর সর্বভারতীয় ধর্মঘটকে সফল করে তোলার জন্য মেহনতি মানুষ ও আমজনতার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়ন।

(১) খুচরো ব্যবসা ও প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ছাড় দেওয়া চলবে না।
(২) সরকারি খণ্ডকে ব্যক্তিগত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না ও আসামের তৈল ক্ষেত্রের অকশন বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
(৩) বিগত রাজ্য সরকারের জারি করা নোটিফিকেশন অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মোট মজুরি ১৭৭ টাকা ও নগদ মজুরি ১৪৩ টাকা দিতে হবে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যের মত লেবার কনফারেন্স ও সুপ্রিম কোর্টের বিধান অনুযায়ী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বর্তমান বাজার দরের ভিত্তিতে চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৪২০ টাকা ধার্য করতে হবে।
(৪) বাগান শ্রম আইনের সুষ্ঠু রূপায়ণ করতে হবে।
(৫) চা ও প্রাক্তন চা-শ্রমিকদের তপসিলি জাতি/জনজাতির স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।
(৬) চা-বাগানের জনগোষ্ঠীদের মাতৃভাষায় পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগ্রামী অভিনন্দন সহ-
ইনক্লাব জিন্দাবাদ!
অসম মজুরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে
 শিশির দে, নুমান আহমেদ, ধরিত্রী শর্মা ও পারভেজ খসরু লস্কর কর্তৃক প্রচারিত

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন