ভারতের নাগরিকত্ব আইন - এক সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও পর্যালোচনা

Posted by সুশান্ত কর Labels: , ,



[গুয়াহাটিতে একুশতম উত্তর-পূর্ব গ্রন্থমেলায় অক্ষর পাবলিকেশন্সের স্টলে আজ উই প্রকাশনীর ‘এনআরসি : প্রক্রিয়া ও প্রভাব’ বইটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হল ৬ নভেম্বরে। বইটি এন আর সি সংক্রান্ত প্রকাশিত অপ্রকাশিত লেখালেখির সংকলন। গ্রন্থবন্ধ করেছেন বাসব রায়। 
            এনআরসি কী? এনআরসি কেন? এনআরসি-তে গ্রহণযোগ্য নথি কী কী? অসমে এনআরসি কীভাবে হয়েছে? ডি-ভোটার কী? কাদের কাছে পাঠানো হয় ডি-ভোটার নোটিশ? তারপর তাঁদের অবস্থা কী হয় বা হতে পারে? ডিটেনশন ক্যাম্প কী? কাদের পাঠানো হয় সেখানে? কীভাবে পাঠানো হয়? ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল কী? কীভাবে কাজ করে ট্রাইব্যুনাল? পপুলেশন রেজিস্ট্রার বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার (এনপিআর) কী? জনগণনা বা সেনসাসের সঙ্গে এর পার্থক্য কী? এনআরসি-র সঙ্গে এনপিআর-এর সম্পর্ক কী? এনআরসি তালিকা-ছুট উনিশ লক্ষ কী করবে? কোথায় যাবে? কীভাবে তাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ হবে? নাগরিকত্ব আইন কী? তার ব্যাখ্যা কী? এনআরসি কোন আইন মোতাবেক হয়েছে? এনআরসি-তে নাম থাকলেই কি কেউ ভারতীয়? আর কোনো প্রমাণ কি তাকে দিতে হবে? এনআরসি তালিকা সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত কী? এই তালিকা কি রাষ্ট্রের বা অসমের দলিল হিসেবে মান্য? গোটা দেশে বিদেশি নির্ধারণের ভিত্তিবর্ষ কী? অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি হলে কী হতে পারে কাট-অব-ডেট?
          প্রায় সবার মনে বহু প্রশ্ন। বিভ্রান্তিও প্রচুর। এবং এটা অনস্বীকার্য যে বর্তমানে অন্যান্য রাজ্যে এনআরসি-র পরিপ্রেক্ষিতে এসব প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং অনেকেই সবটা জানতে চান। অথচ এনআরসি প্রক্রিয়া, ডি-ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল-এর আদ্যোপান্ত নিয়ে কোনো বই-ই নেই।
ঠিক এই অভাববোধ থেকেই ‘অল অ্যাবাউট এনআরসি’ বইয়ের পরিকল্পনা। কোনো দল বা সংগঠনকে দোষারোপ না করে, শুধুই এনআরসি প্রক্রিয়া, ডি-ভোটার, ডিটেনশন ক্যাম্প, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে গত চার-পাঁচ বছরে পত্রপত্রিকায় যা প্রকাশিত, তার নির্বাচিত মলাটবদ্ধ করা হয়েছে।
       
প্রকাশকের মতে বাঙালি পাঠকের কাছে সত্যিকারের এনআরসি বিশেষজ্ঞ যদি কাউকে বলতেই হয় তো তিনি – বীরেশ্বর দাস। এনআরসি সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তাঁর রিপোর্টিংই ‘এনআরসি : প্রক্রিয়া ও প্রভাব’ বইটির আধার।
         এ ছাড়া তিনসুকিয়া থেকে প্রকাশিত ‘উজান’ পত্রিকায় প্রকাশিত তিনটি প্রবন্ধ রাখা হয়েছে বইটিতে। ডি-ভোটার, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ও ডিটেনশন ক্যাম্প বিষয়ক তিনটি স্বতন্ত্র প্রবন্ধ। সংক্ষেপে এনআরসি প্রক্রিয়ার সঙ্গে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেবার ভার স্বচ্ছন্দে বহন করেছেন বীরেশ্বর দাস। এইসঙ্গে রয়েছে লিগ্যাসি ডেটা নিয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ। এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেশনশিপ-এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি জড়িত নাগরিকত্ব আইন। সেজন্য বইটিতে আছে নাগরিকত্ব আইনের বিশদ ব্যাখ্যা। বর্তমান নিবন্ধটি লিখেছেন বাসব রায়  আইনী পরিমর্শের ভিত্তিতে। 


নাগরিকত্ব হল রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্কের নাম। রাষ্ট্রের সদস্যকে নাগরিক বলে। নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহনের অধিকার সহ কিছু বিশেষ অধিকার পান সেই অধিকারগুলির বেশকিছু অনাগরিকরা পান না। অধিকার ভোগকরার সাথে নাগরিকদের কিছু দায়িত্বও থাকে। কোন ক্লাবের সদস্য হতে যেমন সেই ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কিছু যোগ্যতা দরকার, তেমনই রাষ্ট্রের নাগরিক হতেও কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। সংবিধান হল রাষ্ট্রের বা দেশের গঠনতন্ত্র। আমাদের দেশের অর্থাৎ গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত রাষ্ট্রের সংবিধান ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বলবৎ হয়। নাগরিকত্ব বিষয়টি সংবিধানের দ্বিতীয় খণ্ডে (Part – II) অনুচ্ছেদ বা ধারা (Article) ৫ থেকে ১১ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। সর্বসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলি সহজ ভাষায় উল্লেখ করা হল।
সংবিধানের ধারা ৫ অনুযায়ী সংবিধান বলবৎ হওয়ার সময় ভারত ভূখণ্ডে বসবাসকারী যাঁদের জন্ম ভারতে হয়েছে বা যাঁদের মা-বাবার কোন এক জনের জন্ম ভারতে হয়েছে তাঁরা ভারতের নাগরিক; এবং সংবিধান বলবৎ হয়ার সময় ভারত ভূখণ্ডে বসবাসকারী যাঁরা সংবিধান বলবৎ হওয়ার পূর্ববর্তী নুন্যতম টানা ৫ বছর ভারতে সাধারণভাবে বসবাস করেছেন তাঁরা সবাই ভারাতীয় নাগরিক। সংবিধানের ধারা ৬ বলছে যে যাঁরা পাকিস্থান থেকে ভারতে এসেছেন এবং যাঁদের বা যাঁদের মা-বাবা কিংবা মাতামহ-মাতামহী অথবা পিতামহত-পিতামহীর যে কোনো একজন অবিভক্ত ভারতে জন্মেছেন তাঁদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে যদি তাঁরা ১৯ জুলাই ১৯৪৮-এর আগে ভারতে এসে থাকেন; এবং যদি তার পরবর্তী সময়ে এসে থাকেন ও ৬ মাস থাকার পর আবেদন করে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করে থাকেন তাঁদেরও ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে।
সংবিধানের ধারা বা অনুচ্ছেদ ৭ তাঁদের জন্য প্রযোজ্য যাঁরা ভারত থেকে পাকিস্থানে চলে গিয়েছিলেন এবং পরে ফিরে এসেছেন।  যে সকল ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাধারণভাবে বিদেশে থাকতেন তাঁদের জন্য প্রযোজ্য ধারা ৮। যাঁরা বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহন করেছেন তাঁদের জন্য ধারা ৯ প্রযোজ্য। ধারা ১০ বলছে, যারা উপরোক্ত উপায়ে নাগরিক তারা সংসদ কর্তৃক আইন প্রণয়ন অব্দি নাগরিক থাকবেন। সর্বশেষে সংবিধানের ধারা ১১ নাগরিকত্ব অর্জন, বাতিল এবং আনুসঙ্গিক বিষয়ে সংসদের আইন প্রণয়নের সম্পূর্ণ ক্ষমতাকে বহাল রেখেছে।  
এরপর সংসদ তৈরি করে নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫। এই আইনই ভারতের নাগরিকত্ব বিষয়ক একমাত্র আইন যা সময়ে সময়ে সংশোধিত হয়েছে। ১৯৮৫, ১৯৮৭, ১৯৯২ এবং ২০০৪-এ কার্যকর হওয়া সংশোধনীগুলি (Amendments) গুরুত্বপুর্ণ যা পরে আলোচনা করা হবে। নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৩ থেকে ৭ অব্দি বর্ণিত মোট ৫ টি উপায়ে ভারতের নাগরিকত্ব অর্জন করা যায়। এখানে শুধু প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো ব্যাখ্যা করা হল।
(১) জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জনের বিষয়টি আছে নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর ৩ নং ধারায়। যেকোনো ব্যক্তি ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ এবং ১ জুলাই ১৯৮৭ তারিখের মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণ করলে তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হবেন [ধারা ৩(১)(ক)] । ১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ এর পুর্বে ভারতে জন্ম হলে এবং তাঁর মা-বাবার যেকোনো একজন ভারতীয় হলে তিনি ভারতীয় হবেন [ধারা ৩(১)(খ)]। ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পর ভারতে জন্ম হলে তিনি তখনই ভারতীয় নাগরিক হবেন যদি তাঁর মা-বাবা উভয়ই ভারতীয় নাগরিক হন অথবা উভয়ের একজন ভারতীয় ও অন্যজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না হন [ধারা ৩(১)(গ)]। এখানে বলে রাখা ভালো জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জনকে ১৯৮৬ সালে প্রথম মা-বাবার একজন ভারতীয় হয়ার শর্ত যুক্ত করা হয় (Act No. 51 of 1986, w.e.f. 01-07-1987) । ২০০৩ সালে পুনরায় সংশোধন করে ভারতে জন্ম হওয়া ছড়াও মা-বাবার উভয়কে ভারতীয় হতে হবে অথবা উভয়ের একজন ভারতীয় ও অন্যজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন শর্ত যুক্ত করে কার্যত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব কে নস্যাৎ করে দেওয়া হয় (Act No. 4 of 2004, w.e.f. 03-12-2004)। কথা হল, অবৈধ অনুপ্রবেশকারি কে ? নাগরিকত্ব আইনে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ শব্দবন্ধটি ছিলইনা। ২০০৩ এ উপরোক্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ধারা ২(১)(খ)-তে এটি সংজ্ঞায়িত করা হয়। তাঁরাই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী যাঁরা পাসপোর্ট-ভিসা বা অন্য অনুমতিপত্র ছাড়া অন্য দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন অথবা বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন কিন্তু বৈধতার ম্যাদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভারতে থেকে গেছেন। উল্লেখ্য যে ভারতে শরণার্থী বিষয়ক কোন  আইন নেই।
(২) নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-র ৪ নং ধারা হল ভারতের বাইরে জন্মানো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বিষয়ক সিটিজেনশিপ বাই ডিসেন্ট (বংশক্রমিক নাগরিকত্ব)-এর ধারা। ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১০ ডিসেম্বের ১৯৯২-এর মধ্যে ভারতের বাইরে জন্মানো কেউ ভারতীয় হবেন যদি জন্মের সময় তাঁর পিতা ভারতীয় নাগরিক হন এবং ১০ ডিসেম্বর ১৯৯২ থেকে ভারতের বাইরে জন্মানো কেউ ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করবে যদি জন্মের সময় তাঁর মা-বাবার কোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হন। বলে রাখা ভালো এই ধারাও ২০০৩ সালে সামান্য সংশোধন করা হয় কিন্তু ভারতের বাইরে জন্ম হলে মা-বাবার একজন ভারতীয় হলেই সন্তান এখনও ভারতীয় হন। অথচ ২ ডিসেম্বের ২০০৪ এর পর ভারতে জন্ম হলে সন্তানের ভারতীয় নাগরিক হতে হলে মা-বাবার উভয়ের ভারতীয় নাগরিক হওয়া আবশ্যক অথবা উভয়ের একজন ভারতীয় ও অন্যজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না হওয়া আবশ্যক [ধারা ৩(১)(গ)]। এটাকে জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য, সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে থাকা সমতার অধিকারের পরিপন্থী বলে ধরা যায়, এবং সেক্ষেত্রে অসাংবিধানিক ও বাতিলযোগ্য। যদিও এ-নিয়ে - নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৩(১)(গ) বাতিলের দাবিতে এখন পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টে নির্দিষ্ট কোন আবেদন করা হয়নি। কিন্তু নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৩(১)(ক) এবং ৩(১)(খ) বাতিল করে শুধু ৩(১)(গ)-কে বলবৎ করার দাবিতে আবেদন সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে বিবেচনাধীন [Writ Petition (Civil) No. 311 of 2015] । উক্ত ধারার বলে [ধারা ৩(১)(গ)] জন্মসূত্রে রাষ্ট্রহীন ব্যক্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে।
(৩) নাগরিকত্ব অর্জনের তৃতীয় উপায় হল নিবন্ধিকরনের বা নথিভুক্তির (Registration) মাধ্যমে ধারা ৫ অনুযায়ী নাগরিকত্ব লাভ করা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যিনি নাগরিক নন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন তিনি ৭ বছর ভারতে থেকে নিবন্ধিকরনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। সেই ব্যক্তি অবিভক্ত ভারতের বাইরে থাকলে ৭ বছরের সময়কাল লাগে না, যে কোনো সময় আবেদন করতে পারেন । কোনো ভারতীয়কে বিয়ে করে ভারতে এসে ৭ বছর বৈধভাবে বসবাসের পরও আবেদন করতে পারেন। যিনি ৫ বছর যাবৎ অভারসিজ সিটিজেন অব ইণ্ডিয়া কার্ড হোল্ডার তিনি শেষ ১২ মাস ভারতে থাকলে নিবন্ধিকরনের মাধ্যমে পূর্ণ নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদন করতে পারেন। ২০০৩-এর সংশোধনীর (Act No. 4 of 2004, w.e.f. 03-12-2004) আগে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না হওয়ার শর্ত ছিলনা এবং ৭ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর ছিল। উপরন্তু পাকিস্থান সহ কমনওয়েলথ দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৫ বছর বসবাসের শর্ত ছিল না। তখন যে কেউ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সহ, সহজেই নিবন্ধিকরনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এমনকি বিদেশি আইনে (Foreigners Act) অনুমতিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের জন্য শাস্তি ভোগ করলেও নথিভুক্তির মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আইনে কোন বাধা ছিলনা।
(৪) ধারা ৬ হল স্বাভাবিকীকরণের (Naturalization) মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের বিধান। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নন এমন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বিগত ১৫ বছরের মধ্যে ১২ বছর যার শেষ ১২ মাস ধারাবাহিকভাবে ভারতে থেকেছেন এবং যাঁর চরিত্র ভালো এবং যিনি সংবিধানের অষ্টম তপশীলের একটি ভাষা জানেন, তিনি স্বাভাবিকিকরনের শংসাপত্র (Certificate of Naturalization) মঞ্জুর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। ২০০৩ এর সংশোধনীর (Act No. 4 of 2004, w.e.f. 03-12-2004) আগে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না হওয়ার শর্ত ছিল না এবং ১৫ বছরের পরিবর্তে ১৩ বছর ছিল এবং ১২ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর ছিল। কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকরা স্বাভাবিকীকরণের আওতার বাইরে ছিলেন।  
(৫) অসমের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকীকরণের এক অতিরিক্ত ধারা ১৯৮৫ সালে অসম চুক্তির ভিত্তিতে নাগরিকত্ব আইনে ধারা ৬(ক) হিসেবে যোগ করা হয়। অতিরিক্ত এই ৬(ক) ধারার মাধ্যমে ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ সালের আগে পুর্ব পাকিস্তান থেকে অসমে যাঁরা এসেছেন এবং স্থায়ী ভাবে থাকছেন তাদের ১ জানুয়ারি ১৯৬৬ তারিখ থেকেই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এবং উল্লেখিত তারিখের পর কিন্তু ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর আগে পুর্ব পাকিস্তান থেকে অসমে যাঁরা এসেছেন এবং স্থায়ীভাবে থাকছেন তাঁরাও ভারতীয় নাগরিকের সকল অধিকার পাবেন, শুধু ওই সময়ে এসেছেন বলে চিহ্নিত হওয়ার পর নাম নথিভুক্ত করবেন ও ১০ বছরের জন্য ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। ১০ বছর পর ভোটাধিকার সহ পুর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন। অসমে প্রযোজ্য এই বিশেষ ধারা অসমে বসবাসকারী সবার জন্য নয়, শুধুমাত্র যারা তৎকালীন পুর্ব-পাকিন্থান বা বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে অসমে এসেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সংবিধান বলবৎ হওয়ার সময় যাঁরা নাগরিক তাঁরা নাগরিকত্ব আইনের ৬(ক) ধারার আওতাভুক্ত নন। শুধু অসমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই বিশেষ ধারা ৬(ক)-কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করার জন্য অসমের একটি জাতীয়তাবাদী সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে, সেই আবেদনটি বর্তমানে সাংবিধানিক বেঞ্চের বিবেচনাধীন [Writ Petition No. 562/2012] । নাগরিকত্ব আইনের ৬(ক) ধারার বলে যাঁরা ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর আগে এসেছেন তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে গেছেন ১৯৮৫ সালে এই ধারা বলবৎ হওয়ার সময় (০৭-১২-১৯৮৫) এবং তৎপরবর্তী সময়ে। তাই ৬(ক) ধারা বাতিল হলেও এই ধারার বলে যাঁরা নাগরিক হয়েছেন তাঁদের নাগরিকত্ব চলে যাবে না। নাগরিকত্ব আইনের এই ৬(ক) ধারা বাতিল করা নিয়ে সাংবিধানিক বেঞ্চের রায় এক অ্যাকাডেমিক চর্চার বিষয় হয়ে থাকবে বলেই ধরে নেওয়া যায়। প্রয়োজন সাপেক্ষে ও অবস্থা বিবেচনায় নাগরিকত্ব আইনের ৬(ক) ধারা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগতদের যুক্ত করে গোটা দেশের জন্য প্রযোজ্য করার দাবি করা যায় এবং সেই দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও করা যেতে পারে।
(৬) নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী যদি কোন ভূখণ্ড ভারতের অর্ন্তভুক্ত হয় তবে কেন্দ্রীয় সরকার বিঞ্জপ্তি জারি করে সেই ভূখন্ডের বাসিন্দাদের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। অভারসিজ সিটিজেনসিপ  নামে আরও এক ধরনের আধা নাগরিক তৈরি  করা হয় ২০০৩ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধারা ৭(ক) থেকে ৭(ঘ) নাগরিকত্ব আইনে যোগ করার মাধ্যমে। [একই সাথে   কমনওয়েলথ সিটিজেনসিপ এবং প্রথম তপশীল বাতিল করা হয়।]
২০০৩-এর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (Act No. 4 of 2004, w.e.f. 03-12-2004) মাধ্যমে ১৪(ক) ধারা মূল আইনে যোগ করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান শিরোনামে এই ধারা কেন্দ্রীয় সরকার কতৃক বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে পঞ্জিভুক্তিকরন ও তাঁকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের এক্তিয়ার দেয়। এনআরসি বা এনআরআইসি এবং জাতীয় পঞ্জিয়ন কতৃপক্ষ বা নাগরিক পঞ্জিকরণের মহাপঞ্জিয়কের (রেজিষ্ট্রার জেনারেল) পদ সৃষ্টি করে এই ধারা। উক্ত ধারার বলে এবং ধারা ১৮-র বিধি তৈরীর ক্ষমতাবলে এনআরসি প্রস্তুতকরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ২০০৩ সালেই নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জিভুক্তিকরণ এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান) বিধি ২০০৩ [The Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Cards) Rules, 2003] তৈরি করে। এই নিয়মের ৪ নং বিধি অনুযায়ী বাড়ি-বাড়ি সার্ভে করে পপুলেসন রেজিস্টার তৈরি করবে যাতে প্রত্যেক বসবাসকারীর নাম ও বিবরণ থাকবে। অতঃপর সেই পপুলেশন রেজিস্টার কে যাচাই করে এনআরসি প্রস্তুত করা হবে। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহযুক্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে বিঞ্জপ্তি দিয়ে জানানো হবে এবং উপ-জেলা বা তহশিল বা মহকুমা নাগরিক পঞ্জিয়ক সেই ব্যক্তি বা পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ দেবেন। তারপর খসড়া প্রকাশিত হবে এবং দাবি ও আপত্তি উপ-জেলা বা তহশিল বা মহকুমা নাগরিক পঞ্জিয়ক গ্রহণ করে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ করবেন। এতে বাদ পড়া সবাই জেলা রেজিষ্ট্রারের কাছে আপিল করবেন, জেলা রেজিষ্ট্রার শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। এটাই হল সারা দেশে নাগরিকপঞ্জি তৈরির নিয়ম। যদিও এই নিয়মে নাগরিকত্ব যাচাই বা পরীক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ আছে, কিন্তু যাচাই বা পরীক্ষণের কোন প্রক্রিয়া বা ভিত্তির উল্লেখ নেই।
সাধারণভাবে ভোটাররাই নাগরিক - এই নীতি গ্রহণযোগ্য। যাঁদের ভোটার কার্ড বা ভোটার তালিকায় নাম আছে অথবা পিআরসি আছে কিংবা বার্থ সার্টিফিকেট আছে বা জায়গা-জমির দলিল বা নথি আছে অথবা পাসপোর্ট আছে অথবা চাকরি বা পেনশনের প্রমাণ আছে তাঁদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিয়ে সারা দেশে এনআরসি করতে বর্তমান নাগরিকত্ব আইনে বা নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জিভুক্তিকরন এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান) বিধি, ২০০৩-এ কোন বাধা বা প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু অসমের অনুরূপ কোনো কঠিন প্রক্রিয়া যদি সারা দেশে নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জিভুক্তিকরন এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান) বিধি ২০০৩ সংশোধন করে দেওয়া হয় তবে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই এই বিধি সংশোধন করতে পারে যেকোনো দিন, তার জন্য সংসদেরও দরকার নেই। এই প্রসঙ্গে বিশেষত ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে লালবাবু হুসেন মামলায় [Lal Babu Hussein & Others versus Electoral Registration Officer & Others, 1995 AIR 1189, 1995 SCC (3) 100] সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির রায়ের গুরুত্ব আছে, আগ্রহীরা পড়তে পারেন।
অসমের জাতীয়তাবাদী শক্তি সুপ্রিম কোর্টে ২০০৯ সালে এনআরসি-র দাবিতে একটি জনস্বার্থ মামলা করে [Writ Petition (Civil) No. 274 of 2009] যার ভিত্তিতে সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আসামে নাগরিকপঞ্জি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অসমের জাতীয়তাবাদী শক্তির চাপে ও অসমের জন্য যেহেতু নাগরিকত্ব আইনে ৬(ক) ধারা আছে এই অজুহাতে ২০০৯ সালে নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জিভুক্তিকরন এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান) বিধি ২০০৩-এ সংশোধন করে বিধি ৪-এর পরিবর্তে বিধি ৪(ক) যোগ করা হয়। এর মাধ্যমে বাড়ি-বাড়ি সার্ভের পরিবর্তে ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট কিছু নথির সঙ্গে সংযোগী নথি সহ প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের থেকে আবেদন আহ্বান করার মাধ্যমে এক কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়ার সৃষ্টি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায় হল বিদেশি আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালে আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে। ধারা ৬(ক) যদিও অতিরিক্ত ধারা, কোন বিকল্প ধারা নয়, কিন্তু বিধি ৪(ক) এক সম্পূর্ণ বিকল্প প্রক্রিয়া যা মূল নাগরিকত্ব আইনের ধারাকেই, যেমন জন্মসূত্রে অর্জিত নাগরিকত্ব কে, মান্য করে না । আইনের অধীনে তৈরি বিধি মূল আইনের পরিপন্থী হতে পারে না, যদি হয় তবে সেটা অসাংবিধানিক ও বাতিলযোগ্য। এছাড়াও নানা বৈষম্যের কারণে অসাংবিধানিক হওয়া সত্ত্বেও উক্ত বিধি ৪(ক) ও উক্ত বিধির অধীন তপশীল অনুযায়ী এনআরসি হচ্ছে অসমে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এটিকে নির্দিষ্ট ভাবে কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ করেনি। সারা ভারতে নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জিভুক্তিকরন এবং  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান) বিধি ২০০৩-এর অধীনে নাগরিকপঞ্জি প্রস্তুতকরণের বিজ্ঞপ্তি [S.O. 2753(E), dated 31.07.2019] জারি করে বলা হয়েছে পপুলেশন রেজিস্টারস-এর এনুমারেসন ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০-এর মধ্যে হবে। তার আগেই ত্রিপুরায় অসমের মতো প্রক্রিয়ায় নাগরিকপঞ্জি প্রস্তুতের দাবি জানিয়ে একাধিক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে [Writ Petition (Civil) No. 1178 of 2018]     
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০০৩ (Act No. 4 of 2004, w.e.f. 03-12-2004) নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-তে মূলত যে পরিবর্তন এনেছে তা হল (১) অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সংজ্ঞায়িত করা, (২) এনআরসি করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করণ (নথিহীন বৈধ নাগরিকরাও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা সহ, অসমে যা হয়েছে বা হচ্ছে), (৩) অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রেজিস্ট্রজশন বা ন্যাচারেলাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদনের পথ বন্ধ করা এবং (৪) জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জনের শর্ত কঠিন করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সন্তানদের জন্মসুত্রে রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত করা। রাষ্ট্রহীন নাগরিক তৈরির মাধ্যমে সস্তা শ্রমিক সৃষ্টির সুচিন্তিত পরিকল্পনার অঙ্গ বলেই মনে হয়।  

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                   

The Indian Politics and the left dilemma.

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,




Arup Baisy


(C)Image
The left forces in Indian political landscape have been marginalized and the left discourse which misses the imagination of the struggling classes is in a state of Brownian motion. The genesis of this confused state of left politics is two-pronged, one is obtained from the left legacy and the other is the bewilderment caused due to spatio-temporal changes during neo-liberalism. Both of these characteristics are intertwined in the staticity of mindset that constructs a formulaic version of Marxism.
While delineating the specificity of Indian society, the caste is categorized either as something sui generis or anathema to class struggle. The class-caste dualism which is in-built within such thought process obscures the changing dynamics of space-time both due to change in capitalist globalization and the caste-class struggle. Anand Teltumbe rightly asserted in his book ‘Republic of caste’, “while caste movements, largely co-opted by the ruling class, do not admit to the need for introspection, the class (left) movements finds itself isolated and threatened with decimation.” (Republic of caste : Anand Teltumbde : 2018 : 91-92)
The motion of capital as a whole is represented in the process of determination of socially necessary labour time in various space-time continuums. The relation between time and space delineates the social relations syntagmatic to both production and labour process. For this reason, the category of time is at the heart of (Marx’s) critique of the political economy. But the different approaches to time coexist within Marx’s reasoning. “The mechanical time of production, the chemical time of circulation and the organic time of reproduction are thus coiled and slotted inside one another, like circles within circles, determining the enigmatic patterns of historical time, which is the time of politics.” (Marx, Capital And The Madness of Economic Reason :  David Harvey : 2019 : 142).
As the capitalist social relation is emerged from within the pre-capitalist or feudal relation of production, the flow of time in feudal relations can be categorized in a particular manner. It is not a complete black-hole, but the flow of time in feudal relation of production is confined by spatial dimension and in that sense, the forms of spatiotemporally is not dynamic as capitalism. It represents a certain form of concrete labour with a use-value which is in constant pressure for transformation to capitalist exchange value and to abstract labour with the annihilation of its space with time. In that sense, the labour process in a pre-capitalist social relation of production is a closed system as the value flows from one form of use-value to another. The commodity production fetishizes the human relation with exchange value and it sets in the dynamics of the flow of value beyond the confinement of space and as such, globalization is inherent in capitalism. Furthermore, the flow of value annihilates the space of pre-capitalist relation to establish its hegemony over the space with time.
When B.R, Ambedkar says, “a caste is an enclosed class”, caste can be interpreted as feudal class. The class is identified not as an isolated category but as a group of people engaged in a social relation both in the production and labour process. Feudal class is determined both as juridical and social category and as such it appears to be static. The Indian caste, in that sense, is a form of class. But Indian left identified the caste system as a super-structural problem and they thought the class mobilisation could by itself adequately address the caste cleavages. On the other hand, the leaders of the caste-based mobilisation considered it as an unchanging category for spatial mobilization to challenge the system and for political power. The caste system has been the source of both identities and hostilities, both horizontal alliances and vertical exploitation and oppression. The caste hierarchy on the basis of social status is the source of oppression and the assertion of caste identity can also become the basis for the struggle against that very oppression. Rajni Kothari defined it as “both traditionaliser and moderniser and as purveyor of collective identity and annihilator of the same hierarchical order from which the collective identity is drawn. The point is that caste does resurface as a result of the democratic process but in its resurfacing it gets transformed”. (Rajni Kothari : Rise of the Dalits and the Renewed Debate on Caste : EPW Vol. 29. No. 26)
             This political dimension of assertion and transformation has not been viewed from the time dimension of labour. The change of democratic character of the state has been considered in a spatial fix of alignment and realignment of caste identities. The political formations on the basis of such caste assertion and horizontal alignment thereon could successfully thwart the aggressive social and ideological Hindutwa assertion in 1993. The politics of religious polarization received a setback due to the political challenge raised from the caste mobilisation and movements. The failure of the left movement to challenge the Hindutwa politics created a delusion in political understanding that the caste assertion and identity assertion within the framework of diversity alone can adequately challenge the Hindutwa politics. Ashis Nandy, in his analysis of the interaction of Hinduism and Hindutva, wrote perceptively in 1990 that, ‘Hinduism and Hindutva now stand face to face, not yet ready to confront each other, but aware that the confrontation will have to come someday’. (RSS, A view to the Inside : Penguin, Viking 2018 : 247). But at this moment after the resounding victory of political Hindutva, it seems, Hinduism gave way to Hindutva and conceded defeat without any confrontation or fight. 
The Indian left from their set back suddenly realised that it was a tactical mistake not to participate in the caste struggle. But they stopped short of visualizing the caste-class question within the movement of the space-time of Indian social spectrum; rather the formulaic version of Marxism relegated their newly found realisation into a class-caste binary and a tactical question. The consequence of such mechanical interpretation of the here and now finally decimated the left in front of the meteoric rise of the fascist Hindutwa movement with a new vigour. But this time, the particularism of caste and identity movement which carried the success story of 1993 with it has also turned out to be ineffective and redundant in front of the jingoist nationalism. What has changed drastically to Indian society that enables the Sangh Parivar to transcend the caste-community barrier to uphold the pan-Indian muscular ultra-nationalist project? One easy answer to the success story of popular acceptance of RSS project is that the RSS has established a pattern of accommodating regional religious and cultural traditions by claiming them as elements of larger Bharatiya culture. But this interpretation is loaded with too much of subjectivity.The fundamental reason of the rise of fascist movement lies with the change of social forces of production with concomitant change of relations of production from above. It is a sort of passive revolution of bourgeois order where the democracy is denied in the bourgeois sense of the term.
In India, the rapid disintegration of the old caste-community based society due to the coercive pressure of imperialist capital from above and the pressure from the human-labour uprooted from their village community life generated the passion within the society to redefine the age-old ideological framework befitting the constitutional form of secularism, the secularism which upholds diversity in a nostalgic sense but accommodates itself in an imperialist center-periphery relation of subjugation propped up with internal hierarchical order. The tension thus generated in the conflict between the old and new values can only be democratically remoulded by radically redefining this relation of subjugation.
          Why both the caste movement and the left movement failed to radically redefine this relation of subjugation? The relation of labour with capital is determined by the way capital extracts surplus value from the labour. Capital can expropriate absolute surplus value by extending the working hours and relative surplus value by increasing the productivity of labour through change of technology. But another labour practice by which capital can extract super-profit is the arm’s length production for labour arbitrage. The whole production process rests on subcontracting out the actual production to the low-wage areas like China’s Shenzhen, Bangladesh’s Textile factories or rural India where micro-finance has spread its net. This super-profit is invested in speculative finance to earn money. It’s a money market where super-rich earn more money by investing money. Money begets money, but does not create any value. After a prolong period of dirigisme in post-independent India, the neo-liberal development model which facilitated penetration of imperialist finance capital into the rural India since the nineteen eighties has changed the caste-contour. Depending on fertility and location of the land, the development of capitalist mode of production appeared in agriculture for differential rent, the external factor of rent also effects the space of uncultivated land. There exists intense difference of opinion within the left circle on Indian agricultural mode of production. However, the capitalist accumulation through dispossession which has become a dominant feature of neo-liberalism has dispossessed the millions from their land, from their old property relation and also from their status as secured organized work-force. The middle class leadership who played a progressive role in mobilizing the caste groups and identities for political rights and thus challenged the Hindutwa politics of centralisation of power in 1993, find it more beneficial to be co-opted in the reactionary politics of ultra-nationalism than to address the growing pressure of the new needs and desire of the proletarianised and pauperized masses within the caste group. The new dialectics of use-value - exchange value and concrete labour – abstract labour have influenced the changing space-time in such a way that the forces of homogenisation prevailed over the forces of particularism in the caste-class dynamics of Indian society. Both the caste leadership and the left leadership once again failed to grasp the emerging struggle of the oppressed and to redefine the concept of nationalism and secularism from a working class perspective.
The economism within the Indian mainstream left hinders them from assessing the situation from the dynamic movement of the space-time. The authors of “The Indian Economy in Transition” rightly commented, “Marxian theory is class/economy focused, but not class/economy specific. What, when, where and how we produce, distribute and consume are not simply economic matters. They are additionally constituted by processes related to power (authority-hierarchy), culture (meaning) and nature. No explanation or interpretation of the economy in this frame can materialize without referring to the effects of non-economic processes. In short, along with being a critique of class determinism, Marxism theory is a critique of economism as well.” (Chakraborty Anjan et el : 13).  Moreover, the concept of the left movement as a mass-movement to influence the policy of the state in favour of the toiling masses has been abandoned by completely reversing the concept to bring parliamentary maneuvering and institutional intervention as the determinant factor. This paved the way for the Hindutva forces to reconstruct the concept of nationalism and secularism in a most reactionary fashion to lead the forces of homogenisation against an imagined enemy. The objective strength of this new nationalism lies with the support of new class which owes its increasing wealth from privatisation and disinvestment, income from the rent and plunder of natural resources and commissions from the opening up of the Indian market to foreign oligarchs. A small section of this class has already emerged as national oligarchs intricately connected to global giants as compradors
The most reactionary reconstruction of national pride can somewhat be combated by reducing the migration from villages to towns and cities by revamping the agriculture through small family farms (Maoist agricultural reconstruction in China) which is, unlike industry, more efficient than big farms, and the food sovereignty, increasing demand for the consumer goods that need to be produced domestically. The electoral upsurge of BJP will accelerate the dismantling of the federal structure of the state by transcending the regional aspirations which needs to be combated with an alternative project for democratic reconstruction. A radical anti-imperialist and democratic programme for mass-movement with workers-peasants alliance at its core can rejuvenate the left politics in India, provided they rise up to the occasion to unite shedding all forms of left sectarianism to combat the emergent question of fascist onslaught.    
       
References:

(1)  Teltumbe Anand (2018): Republic of Caste: Navayana
(2)  David Harvey (2019): Marx, Capital And The Madness of Economic Reason: Profile Books.
(3)  Kothari Rajni (1994):  Rise of the Dalits and the Renewed Debate on Caste: EPW Vol. 29. No. 26 (P.1589-94)
(4)  Chakraborty Anjan, Dhar Anup, Dasgupta Byasdeb (2018): RSS, A view to the Inside: Penguin, Viking
(5)  Smith John (2016): Imperialism in the Twenty-First Century: Dev Publishers and Distributors.
(6)  Patnaik Utsa (2007): The Agrarian Question in Marx and his Successors (Volume I): LeftWord Books.













The Assam Question and the Left

Posted by স্বাভিমান Labels: , , ,

https://www.frontierweekly.com/articles/vol-52/52-13-16/52-13-16-The%20Assam%20Question%20and%20the%20Left.html

Assam's Bankrupt Left

The Assam Question and the Left


 ।। Arup Baisya ।।
            The current dominant political discourse in Assam is revolving around the citizenship question. The citizenship problem in Assam has a convoluted history and is related to demographic changes due to migration. The citizenship question in Assam is intertwined with linguistic identity. The question of language plays a pivotal role in the dynamics of power politics. In the spatio-temporal dimension of Assam politics, the intermingling of the characteristics of migration and language prepares the ground for citizenship conundrum.
           The linguistic assimilation in Assam through social interaction was hamstrung by the perverted path of capitalist development under the colonial and post-colonial rule. There is historical evidence of the presence of Muslim inhabitants in the present day lower-Assam before the advent of Ahoms into Assam in 1228. This was the time of 'Charyapada' and the people of that period cannot be identified with any modern linguistic identity. So the concept of aboriginal or Khilonjiya in local Axomiya parlance is the modern political vocabulary that has emerged to create 'other' in this geopolitical space of Assam. Being a contiguous geographical landscape of today's lower Assam and Bangladesh, the settlement of people from densely populated agricultural present-day Bangladesh into land-abundant low-lying submerged plains of lower-Assam was a natural phenomenon. The poor peasant and fishermen who roamed over the whole landscape could find it beneficial to settle in the upland of submerged plains of lower Assam. After colonial Annexation of Assam in 1826, the British allured the Bengali Muslim poor peasants of present-day Bangladesh to migrate and settle in land-abundant plains of Assam to earn revenue from agricultural production. These Bengali-Muslim peasants were hard-working and had the skill in agricultural production in low-lying submerged land; the local tribals lacked both the characteristics. The peasants were flocking to the Brahmaputra valley in large numbers, in order to settle down on its beckoning wasteland for livelihood and to free themselves from Zamindari oppression in Bengal.
              The British later introduced Line System in Lower Assam and inner-line permit system in upper Assam to ensure their administrative control for super-exploitation and drainage of natural resources, agricultural economy and tea production. The Chinese and local tribal workers who were initially engaged in tea-production were extricated because of their rebellious attitude against the almost slave-like exploitation in tea-enclaves. The native language which was suitable for the British administration at that time was Bengali. The English educated Bengali middle class especially from erstwhile Sylhet district occupied the clerical jobs of various departments when the departmental head-quarters were established in Sylhet which was part of Assam. So the colonial British ruler imposed Bengali as the official language in 1836 and treated Assamese as the dialect of Bengali. This measure caused immense disruption in the process of linguistic assimilation through social interaction and hindered the capitalist development from below through surplus-accumulation and drainage. At the hindsight, one can safely conclude that in the absence of British subjugation, Assam could have witnessed the desired linguistic assimilation in an independent market economy that could have emerged in a landscape which was resourceful both in terms of labour and nature.
             The line system which was responsible for spatial division of the landscape on the basis of linguistic community and for colonisation of the Bengali-settlers in a low-lying flood-prone areas was suitable for the domination of the colonial rulers at the time when the Quit India movement was at its peak and the militant peasant struggle on the basis of Hindu-Muslim unity was resurgent. The colonial rulers then sided with the Assamese ruling class to defend the continuation of line system which the hard-working Bengali peasantry was opposing. The position on the question of line system took a class-community dimension. The Assamese ruling class and the colonial rulers found them in the same camp as strange bed-fellows. The apotheosis of this new alignment of forces was the introduction of Assamese as the official language and the official declaration in favour of forced assimilation into Assamese nationality by accepting common language and culture in 1936. The birth of a new nationalism was thus marked by the backing of the imperialist and was pitted against the toiling masses that were linguistically and culturally considered as alien. The reactionary class dimension of Assamese nationalism was thus fixed in the garb of history at its birth. The progressive voices of English educated Assamese intellectuals were thus subdued in the social dynamics of Assam's migration politics. This reactionary trend of Assamese nationalist politics was accentuated, mutatis mutandis, during the historical events and social churning of independence and post-independence period.
           The next massive disruption in the process of linguistic assimilation occurred due to partition and the industrialisation policy of independent India to drain out surpluses from Assam's natural resources. The large scale anti-Muslim riot that broke out in lower Assam during partition forced the Bengali Muslim peasant to cross the border and take refuge in newly constituted Pakistan state. A large number of Bengali Hindu refugees came to India as partition-victims, but a small percentage of them settled in Brahmaputra valley. The lakhs of people who left Assam during the trouble-torn period of partition returned to their abode on the basis of Nehru-Liyakat Pact. But their return was not welcomed by the Assamese landed gentry and the dependent Bourgeois class and their political leadership who generated anti-Muslim passion within the Assamese peasantry who had the petty-bourgeois desire of getting the ownership of land which was developed into fertile productive land by the Bengali Muslims peasants through their skilled and intense challenging labour. These immigrants faced a lot of hindrances and harassment from the independent Assam administration and were treated as aliens in the Assamese society. The massive riots in the fifties and riots before and after every census were spearheaded for coercive inclusion of them as marginalised and submissive people into the fold of Assamese hegemony. All the Bengali schools in lower Assam were demolished. The Muslim peasantry who are called Na-Axomiya identified themselves in the Census of 1950 as Axomiya. They changed their identity without much resistance because the livelihood issue was more important for the poor peasants who were left leaderless by the migration of influential Muslim families to East Pakistan, than their identity question.
             This was the turning point when the anti-immigrant and anti-Bengali Assamese psyche in the form of inchoate social discourse had transformed into a chauvinist political force who took charge in the independent Assam as regional satraps. The ruling class of Delhi found it convenient to pander this chauvinist regional force to ensure their writ over this land and economic exploitation.
            After the submission of the Bengali Muslims, the next target was the Bengali Hindus who were in a dominant position in Government jobs due to the policy followed by the British for a long time. These Bengali Hindus were forcefully displaced from the public space of job-market in the massive language riots in the 1960s. Post-language riot, many Bengali middle-class families migrated to West Bengal in search of a safe social life. The Assamese regional ruling class treaded this bloody path of coercive assimilation and domination because of their weakness as inchoate Bourgeois class who were not in a position to establish their hegemony over the larger indigenous Assamese society and their dependence on the Indian ruling class who were in control of the regional market which was developed through colonial and post-colonial perverted path of capitalism. The Indian ruling class always pandered this Assamese psyche to keep the regional forces in good humour and this political arrangement is continuing till today, albeit in changed socio-economic circumstances.
              The Bangladesh liberation war which caused lakhs of Bengali Hindu refugee to take shelter in India had once again made the Assamese ruling class apprehensive of losing their majority position. But at that time, the migrants were sheltered in refugee camps and the majority of them were returned to Bangladesh on the basis of Indira-Mujib pact. A small section of the Bengali Hindu migrants came to Assam and those who had not returned were rehabilitated in many parts of the country.
                 The Assam movement in the 1980s was the zenith of the political turmoil that was initiated in the garb of post-partition politics. The forced assimilation of the minorities is always an Achilles heel for the Assamese domination in the state's helm of affairs, because the Assamese leadership is always apprehensive that the minorities may claim the share of political power at a time when the social balance of forces is favourable to them, and to achieve that goal, they may even go out of the fold of Assamese nationality. The UMF and AIDUF phenomena are examples of such minority assertion. This politics of numerical majoritarianism is anathema to democratic dialogue and social interaction. Bereft of that, the only option left for the Assamese ruling class to ensure their regional political hegemony is to establish their numerical strength by deporting the Bengalis. Initially, the student movement in Assam was started on the demand for regional development and regional power. But soon it transformed into anti-Bengali movement under the patronage of Assamese ruling class in tow with the Indian ruling class. The Rashtriya-swayam Sevak Sangh (RSS) was active within the movement surreptitiously and could successfully fan communal passion from within. The majoritarian politics of Assamese domination simultaneously translates the anti-Bengali and anti-Muslim sentiment into an intertwined political agenda. In 1983 when the Assam movement was at its peak, Assam witnessed the anti-Muslim genocide in Nellie and anti-Namasudra riot in Shilapathar. The imagined enemy was meticulously built in Assamese psyche through statistical jugglery to propagate the story of continuous migration as a part of the conspiracy of Bengali expansionism. The Assamese peasantry and tribals were mobilised behind the ruling class by appealing to their petty-bourgeois desire of grabbing the land of the minorities and for a "Sonar Assam" which would be the land only for Assamese to live in prosperity and happiness, and they were pitted against the minorities as frenzied mob to torch minority villages with clandestine support from police administration. This tormentous phase of Assam's history ended with the Assam Accord in 1985.
              The Assam movement was launched in the backdrop of a growing peasant struggle under the leadership of various left organisations. The Naxalbari peasant uprising was also a source of inspiration behind the rising peasant struggle in Assam in the 1970s. The chauvinist Assam movement disrupted this peasant struggle to stall the process of democratisation of Assamese society. When the left nationalist argues that the left leadership in the peasant struggle in the 1970s failed to address the nationalist aspirations of Assamese linguistic identity and that is why the peasant masses could be successfully pursued to bring them to the chauvinist fold, they actually miss the class dynamics of Assamese nationality question. Why the Assamese bourgeois class and the political leadership did not consider the peasant movement as an opportunity to flex the Assamese nationalist muscle for devolution of more power to the state to serve the regional interest and hegemonic control? The answer to this question lies in the nature of the Assamese ruling class who epitomises the nationality politics which took shape in the garb of colonial power in the 1920s & 1930s and later under the patronage of Indian ruling class.
           The left forces from RCPI in the pre-independence period to CPIM in the 1970-80s never identified the chauvinist character of Assamese nationalist politics and did not theoretically formulate any programme against chauvinism to ensure the assertion of toiling masses and their victory. During Assam movement too, CPIM and other parliamentary left considered it as a reactionary aberration of people's movement, though they stood firm against the minority bashing. But later they internalised the left-nationalist argument. Some Naxalite groups even considered post-Assam Accord ULFA experiment as the militant assertion of a marginalised nationality and underestimated the chauvinist character of their agenda to annihilate the diversity in Assam to create a monolithic Assamese identity through coercive means. The inchoate Assamese Bourgeois class which failed to establish their hegemony over the Assamese society and to promote assimilation through social interaction and market forces always treads the path of coercion and violence against the other linguistic groups. The PCC CPI(ML) attempted to combine the democratic content of the AASU movement in its formative stage with peasant question to formulate a democratic revolutionary agenda. But in the eighties, the peasants had already started losing their class power for agrarian revolution due to the changing dynamics of the social relation of production that had taken roots in the agricultural economy, and the strength of democratic Assamese intellectual class was too weak to give the society a democratic mooring. As the parliamentary and practising left never had a theoretical position and agenda against the Assamese chauvinism and never built a sustained dispassionate critique against the chauvinist politics, the intellectual section of the left and the Assamese left leadership shifted their allegiance according to the vicissitude of political discourse and the dominant trend.
          After a long phase of dirigiste development model, the 1980s was the beginning of a new phase of global capitalism under which India also started following the structural adjustment programme which was officially accepted in 1991 as reform process. In this scheme of neo-liberal reform, the class power of the old Assamese proto-bourgeoisie further eroded. The new classes started emerging in the social spectrum. At the one end of the social spectrum, there are class of people who benefited from privatisation and disinvestment, commissions from opening up of economy to national and global private players, sub-contracting of construction work in infrastructure investment, the commission from land acquisition and plundering of natural resources and this class as new regional ruling class is firmly embedded in the global chain of financial capital and the Indian compradors. On the other end, there is a meteoric rise of wage labourers who are uprooted from the agricultural economy due to agricultural distress, eviction for accumulation through dispossession and capitalist penetration. In the initial phase of the neo-liberal economic drive, there was a rise of the middle-income group and intellectual working class whose deteriorating status and their agony now becomes evident due to the deep-rooted systemic crisis of capitalism. All these classes intermingle in the market place cutting across community affiliations and that influences their worldview to be modern from the primordial chauvinist outlook. They find no solution to their angst and agony in the chauvinist project. The change of social relation of production in the rural landscape has also changed the peasant masses that were amenable to be a frenzied mass in the chauvinist call for deportation of so-called illegal migrants. The Assamese Nationality is also gripped with the symptom of fatigue due to long drawn out failed experiments of the chauvinist project of deportation of migrants from Assam. In this backdrop, the politics behind NRC, citizenship Bill, etc needs to be looked into.
          The Assamese chauvinist as the social force has lost their vital energy and mass mobilising ability due to the change in social relation of production as well as the fatigue that sets in by the repetition of same anti-migrant anti-minority political vocabulary for a long period. At the national level, the absolute control of central power is established by a politically homogenous entity which advocates the most reactionary reconstruction of national pride and that force is in a position to shape the ruling political discourse in Assam both from below and above. In the eighties, RSS was acting clandestinely to influence the Assam chauvinist movement in the anti-Muslim communal line. But this time, the RSS and Sangh Parivar set the agenda of chauvinists and establish the ideological control through their meticulously planned organisational and propaganda machinery. They have the entire wherewithal and the state backing to lead their plan of action to fruition, as the state has completely arrogated the communal-chauvinist politics. Much before the beginning of NRC process in Assam, the Hindutwa forces launched a massive campaign on the exaggerated version of Bengali Hindu atrocities in Bangladesh and their declining population in Bangladesh through their concocted stories and statistical jugglery. This propaganda blitzkrieg gave its intended result in favour of Sangh Parivar to occupy the driving seat of both communal and chauvinist politics in Assam simultaneously. It pandered the communal instinct and partition-memory in the Bengali Hindu psyche and instigated the Assamese chauvinist apprehension of becoming minority due to alleged continuous influx of Bangladeshis. The two instruments of NRC and Citizenship Amendment Bill (CAB) were projected in such a way in the political discourse that these added ammunitions to the arsenal of chauvinist and communal forces. NRC is for the exclusion of Bengali Muslim infiltrators and the CAB is for the inclusion of Bengali Hindu migrants. This is the trajectory designed and propelled by the Sangh Parivar to bring the section of Assamese left, left nationalist and the chauvinist in the same camp.
            The CAB is opposed by the all progressive forces on the ground that this is communal and anti-constitutional. But the Assamese intellectual stalwart and left nationalist Dr Hiren Gohain guiding the anti-CAB movement argued that CAB should be opposed as its implementation would facilitate the migration of all the Bangladeshi Hindu to settle in Assam. The idea he adumbrated and his vociferous claim to exclude lakhs of people from NRC justified the RSS propaganda of rising Islamic fundamentalism in this sub-continent, especially in Bangladesh. The parliamentary left and the Assamese leaders with left leanings preferred to join the anti-CAB movement of the nationalist and chauvinist force with a misconstrued notion of combating the BJP with Assamese nationalism. The left became befuddled because of their credulity to believe that the Assamese nationality has the class power to challenge the Delhi's writ. The polemics on chauvinism within the parliamentary left circle in the eighties when they stood firm against the Assam movement was never more than hieroglyphics in nature. The left never conceded the fact that Assamese nationalism is inherently chauvinist right from its birth because of its tendency to suppress the cultural diversities within the national identity and to surrender to Indian ruling class to buy the status of regional satraps. This time when the regional political forces were heading towards complete decimation through the merger with most reactionary ultra-nationalist Sangh Parivar and when the AGP was sharing power with BJP at the state-Assembly, the state CPIM leader was pleading the AGP to take leadership of the anti-CAB movement for Assamese nationalism. Many other left forces in Assam had an almost similar position on Assamese nationalist movement. The befuddled left completed its full circle of bankruptcy from theoretical obscurity to the falling in the trap of communal-chauvinist stratagem. The inevitable had happened in pre-poll political realignment when both the pro and anti-CAB forces in the apparently separated camps of communalism and chauvinism joined BJP bandwagon.
              Before the full-blown imbroglio of Assam's turmoil centering around NRC and CAB issues, Assam witnessed the vibrant and sporadic movement of a diverse section of the organised, unorganised and intellectual working class. Had the united left launched a movement against the undemocratic division of original (Khilonjiya) and non-original citizens in NRC process, the uncivilised imposition of onus of proof of citizenship on citizens themselves, the immense harassment of citizens especially the religious and linguistic minorities in the name of D-voters and detention camp, and stood firm against the centralisation of power and curtailment of working-class rights, the communal-chauvinist politics in Assam would have faced formidable challenge of people's movement this time. But instead of visualising the nationality question from a working-class perspective and challenging the reactionary middle-class perspective, the left and democratic forces missed the opportunity and succumbed to the machination of the Sangh Parivar and allowed the snowballing of the citizenship question in Assam into a dire humanitarian crisis. But everything is still not lost, the rapid disenchantment in Hindutwa politics will once again transform the objective reality for regaining the opportunity lost. The left and democratic forces should rapidly reconstruct their political discourse from a working-class perspective and build the mass organisational foundation that can be used by the toiling masses as their instrument to combat the onslaught of the state and to empower themselves.
Frontier
Autumn Number 2019
Vol. 52, No. 13 - 16, Sep 29 - October 26, 2019

কম্যুনিস্ট পার্টির ভূমিকা নিয়ে ভ্রান্তি (কিছু নোট) - অরূপ বৈশ্য

Posted by স্বাভিমান


কম্যুনিস্ট পার্টির ভূমিকা নিয়ে ভ্রান্তি (কিছু নোট)

 শুরুতে একটা কথা বলে নেওয়া দরকার। কম্যনিস্ট পার্টির রীতি হচ্ছে বাস্তব পরিস্থিতির বাস্তব ব্যাখ্যার উপর দাঁড়িয়ে একটি তত্ত্ব নির্মাণ করা, এই তত্ত্বের লক্ষ্য ও ভিত্তি হওয়া চাই সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদ এবং এই তত্ত্বের ভিত্তিতে অনুশীলন করা। বুর্জোয়া পার্টিগুলোর মতো ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মারার নীতি কম্যুনিস্ট পার্টি অনুশীলন করতে পারে না। স্বাধীনতার আগে ও অব্যবহিত পরে কম্যুনিস্ট পার্টির এই সততা ছিল, যদিও এখন এই সততা কতটা বজায় আছে এনিয়ে অনেকেই সন্দিহান।
কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে টানপোড়েন শুরু হয় ত্রিশের দশকে। কংগ্রেস নিজেকে সব ভারতীয়দের প্রতিনিধি হিসাবে দেখাতে ও মুসলিম লিগকে মুসলিম ভোটারদের দল হিসাবে স্বীকৃতি না দিতে সচেষ্ট ছিল। আর মুসলিম লিগ কংগ্রেসকে হিন্দুর দল হিসাবে দেখাতে ও নিজে মুসলিমদের প্রতিনিধি হিসাবে ক্ষমতার অংশীদার হতে তোড়জোড় শুরু করে চল্লিশের দশকের আগেই।
সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ১৯৩৯ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গান্ধীজী ও অন্যান্যরা ছিলেন জার্মানী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশের সহযোগিতার পক্ষে, আবার বিনাশর্তে স্বাধীনতারও পক্ষে। বামপন্থী দল এবং নেতাজী সুভাষ বোসের মত বামপন্থী নেতারা ছিলেন ‘ব্রিটেনের অসুবিধা মানে ভারতের সুযোগ’ এই মতের পক্ষে। সব বামপন্থীরা এই মতের পক্ষে ছিলেন কারণ বামপন্থীরা বিশ্বযুদ্ধকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। তৃতীয় ধারাটি ছিল ব্রিটেনকে অসুবিধায় না ফেলে কোনো বিশেষ সুবিধা আদায় করে নেওয়া। কম্যুনিস্ট পার্টি সচেষ্ট ছিল কংগ্রেস যাতে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে পূর্ণ স্বাধীনতার রেডিক্যাল অবস্থান নেয় এবং সেজন্য প্রয়োজন ছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলার।
জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে কম্যুনিস্ট পার্টি প্রথম তাত্ত্বিক অবস্থান নেয় ‘অধিকারী থিসিস’-এর মাধ্যমে। বাস্তব পরিস্থিতির বাস্তব ব্যাখ্যার উপর দাঁড়িয়ে কম্যুনিস্ট পার্টি ঘোষণা করে ভারতবর্ষ একটি বহুজাতির দেশ। একইসাথে ঘোষিত হয় বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার নিয়ে জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের। জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া যেমনি ব্রিটিশের অধীনতা থেকে ভারতীয়দের মুক্তির প্রশ্ন অবান্তর, ঠিক তেমনি বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকারের অন্তর্বস্তু ছিল সবার সহমত ও অধিকারের ভিত্তিতে ভারতীয় দেশ গঠন। কংগ্রেস এ অবস্থান মানতে পারেনি কারণ তারা চাইছিল একচ্ছত্র শাসন। মুসলিম লিগের আপত্তি থাকার কথা নয়, কারণ তারা চাইছিল ক্ষমতার অংশীদারিত্ব। সিপিআই-এর অবস্থান ছিল সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে ব্রিটিশকে কোনো সহযোগিতা নয়, কোনো সৈন্যও নয়।  
সিপিআই এই অবস্থান থেকে সরে যায় যখন ১৯৪১ সালে নাজী জার্মানী সোভিয়েত আক্রমণ করে। সিপিআই যে যুদ্ধকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলো, সেই যুদ্ধকে শুধুমাত্র সোভিয়েত আক্রমণের ভিত্তিতে ফ্যাসিবিরোধী জনযুদ্ধ হিসাবে ঘোষণা করে বসল। এই জনযুদ্ধের সূত্রায়ন সিপিআই-কে অভ্যন্তরিণ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে দুর্বল অবস্থানে নিয়ে গেল। বামপন্থী সুভাষ বসু আগের অবস্থানে অনড় ছিলেন, কিন্তু তিনিও কম্যুনিস্ট পার্টির বিপরীত অবস্থানে থেকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে জার্মানীর ও জাপানের সহযোগিতা নিয়ে ভারত স্বাধীন করার রণনীতি অবলম্বন করলেন। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে জাতীয় মুক্তির আপসহীন সংগ্রামে রূপান্তরিত করার রণনীতি থেকে সরে আসার সিপিআই এবং নেতাজী সুভাষ বসুর মতো বামপন্থীদের উভয় ধারাই যে ভ্রান্ত ছিল ইতিহাস তার সাক্ষী।
ভারতকে বহুজাতিক দেশ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সিপিআই-এর প্রস্তাব কংগ্রেস মেনে না নেওয়ায় এবং বামপন্থীদের ভুলের জন্য এক খণ্ডিত ভারতবর্ষের ব্রিটিশ প্রজেক্ট সফল হলো। হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভিজিত হলো। জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম থেকে পিছু হঠা ও সাম্প্রদায়িক বাতাবরণে মুসলিম লিগের অবস্থান ও সিপিআই-এর অবস্থানের মধ্যে যে ফারাক তাতে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হলো। সিপিআই-এর বহুজাতিক দেশের কনসেপ্টের মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও বহু জাতির ধারণা ছিল, যা দ্বিজাতি তত্ত্বে ছিল না।
সেজন্যই স্বাধীনতার পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের আন্দোলনে কম্যুনিস্ট পার্টি অগ্রণী ভূমিকা নেয় এবং ‘জনযুদ্ধের’ লাইনের ফলে স্বাধীনতা সংগ্রামে কম্যুনিস্ট পার্টির হারানো জনভিত্তি আবারও পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠে কারণ কংগ্রেস আগে সেটা মেনে নিলেও একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই প্রশ্নে টালবাহানা করে। হিন্দি ভাষা সর্বত্র চাপিয়ে দিয়ে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের রাজনীতির বিপরীতে সিপিআই-এর অবস্থান ছিল বহুভাষার অধিকারের সাথে হিন্দি সরকারি ভাষার, দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান ছিল ইংরেজী কখনও কখনও, কিন্তু হিন্দি কখনও নয়।
ভাষাভিত্তিক রাজ্যের ভিত্তিতে ভারতবর্ষে যেটুকু ফেডারেল কাঠামো গড়ে উঠে সেটা আজ আবার আঘাতপ্রাপ্ত, আবারও হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের রাজনীতি প্রবল শক্তি নিয়ে হাজির যেখানে অন্য কোনো ভাষিক-সাংস্কৃতিক বৈচিত্র অস্বীকৃত। আজকে পরিস্থিতি ভিন্ন। ভারতবর্ষের জাতি-ধর্ম-বর্ণ-অঞ্চল নির্বিশেষে সর্বত্র ফিনান্স পুঁজিকে আশ্রয় করে যে নতুন শ্রেণির সর্বভারতীয় ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে তারা এক সর্বভারতীয় কমন বাজারের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। তাদের মদতেই গড়ে উঠছে এক প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ছত্রছায়ায় 'এক দেশ – এক বাজার – এক আইনের শ্লোগান' ও এর পক্ষে জনসমর্থন। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধান কাশ্মীর প্রশ্নে আবারও হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতি তত্ত্বের অবতারণা করেছেন ও মধ্যস্ততা করার দিকে এগোচ্ছেন। এই পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে কম্যুনিস্ট পার্টিকে সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নতুন করে ভাবতে হবে ও করতে হবে নতুন তাত্ত্বিক নির্মাণ।  

স্বাভিমান:SWABHIMAN Headline Animator

^ Back to Top-উপরে ফিরে আসুন